জাবি ভিসির বাসায় নিরাপত্তা জোরদার

বাসভবন
উপচার্যের বাসভবনের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা  © টিডিসি ফটো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ হলের শিক্ষার্থীদেরকে হল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এমন অবস্থায় ভিসির বাসভবনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে ভিসির বাসার সামনে ৩০ জনের মত পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি হল সিলগালা এবং আরও দুটি হলে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয় সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসন।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা হল না ছাড়া পর্যন্ত প্রাধ্যক্ষরা হলে অবস্থান করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই প্রাধ্যক্ষরা হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে অনুরোধ করেন। পরে শিক্ষার্থীদেরকে বের করে দিয়ে শহীদ রফিক-জব্বার হল, শহীদ সালাম-বরকত হল ও ছাত্রীদের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সিলগালা করা হয়। এছাড়া আ ফ ম কামালউদ্দিন হল ও মীর মশাররফ হোসেন হলে শিক্ষার্থীদের বের করে তালা লাগিয়ে দেয় প্রশাসন।

এই বিষয়ে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের একাধিক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা ছেলেদের হলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবো। ছেলেরা যদি হলে থাকে তবে আমরাও আবার হলে উঠবো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘ইতোমধ্যে পাঁচটি হলের শিক্ষার্থীদের বের করে ফটকে তালা লাগানো হয়েছে। বাকি হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে। ওই হলগুলোতেও আমাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে আর অনুরোধ জানানো হবে না। বাকিটা রাষ্ট্রীয় প্রশাসন দেখবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বৈঠকের ব্যাপারে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘বৈঠকে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার অনুরোধ জানানো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদি শিক্ষার্থীরা অন্যত্রে নিরাপত্তা চায় তবে আমরা সেটিও নিশ্চিত করবো বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে বিকেল পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা, হল খুলে প্রয়োজনীয় সুযোগসুবিধা দেওয়া এবং হামলায় আহতদের চিকিৎসাব্যয় ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবারের কর্মসূচি স্থগিত ছিল। তবে নিরাপত্তহীনতার কারণে আমরা হলে অবস্থান করবো। দাবি আদায়ের জন্য পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে প্রশাসনের আশ্বাসে পূর্ব ঘোষিত দুপুর বারোটার বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে আন্দোলনকারীরা। অপরদিকে শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বললে- তারাও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবে বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে স্থানীয়রা। পরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনায় প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে জোরপূর্বক হলে ওঠে শিক্ষার্থীরা।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ