‘নিজ দায়িত্বে’ শিক্ষার্থীরা হলে উঠবেন না, আশা ঢাবি ভিসির

‘নিজ দায়িত্বে’ শিক্ষার্থীরা হলে উঠবেন না, আশা ঢাবি ভিসির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘নিজ দায়িত্বে’ হলে উঠবেন না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘নিজ দায়িত্বে’ হলে উঠবেন না, এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের ওপর তাঁর আস্থা আছে।

দুপুরে শিক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ২৪ মে ক্লাস শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। হল খুলে দেওয়ার দাবিতে পরে তাঁরা উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপি গ্রহণের পর করা সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য এ কথা বলেন।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও অমর একুশে হলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ‘নিজ দায়িত্বে’ উঠে পড়েন। তবে কিছুক্ষণ হলের কক্ষে থাকার পর তাঁরা বেরিয়ে যান। 

শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে স্মারকলিপি গ্রহণের পর করা সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা খুবই দায়িত্বশীল। আপনাদের কাছ থেকেও দায়িত্বশীল সহযোগিতা আশা করি। মহামারি পরিস্থিতিতে যেন আমরা আরও ধৈর্য ধরে, সহনশীল হয়ে দায়িত্বশীলভাবে এগোই। তাহলে মহামারির ঝুঁকি কমবে, জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকবে না। আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর আস্থা আছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের একাডেমিক কাউন্সিল ১৩ মার্চ স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের পরীক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা আহবান করা হয়েছে। সেখানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জাতীয় সিদ্ধান্ত, মহামারি পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দেওয়া, আমাদের পরীক্ষার তারিখ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা করে সরকারের সিদ্ধান্তের তথ্যগুলো নেব। শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত, হলে ওঠানো, পরীক্ষা নেওয়া এসব বিষয়ে এর আগে একাডেমিক কাউন্সিলের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর আলোকে আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের হল খোলার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, আশা করি, আমরা সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা সরকারের একটি মহৎ সিদ্ধান্ত। মহামারির সময়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত “পিসমিল” (বিচ্ছিন্নভাবে নেওয়া যায় না) হয় না। এই সিদ্ধান্তগুলো জাতীয়ভাবে হতে হয়, সমন্বিত হতে হয়। তা না হলে মহামারির সময় ঝুঁকি বাড়ে। সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে যে একাডেমিক কাউন্সিলে আমরা সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছিলাম, সেখানেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপাচার্য আরও বলেন, সবকিছু নিয়ে যেখানে যে সিদ্ধান্তটি নেওয়া প্রয়োজন, একাডেমিক কাউন্সিল তা নেবে। মহামারি পরিস্থিতে বিচ্ছিন্ন ও এককভাবে সমন্বিত সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কম। এখন তো শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার একটি ভালো সিদ্ধান্ত সরকারের আছে। ফলে একাডেমিক কাউন্সিলে এ বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার তারিখগুলো পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ