স্কোপাস ডাটাবেইস

একশো বছরে ঢাবির প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৮৪৪৯

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:৩৮ PM
১৯২৫-২০২০ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের পরিসংখ্যান

১৯২৫-২০২০ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের পরিসংখ্যান © সংগৃহীত

বর্তমান বিশ্বে যে কয়েকটি সংস্থা প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য হচ্ছে স্কোপাস। বাংলাদেশের গবেষণা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী ম্যাগাজিন, সায়েন্টিফিক বাংলাদেশে একটি প্রতিবেদন বলছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত মোট প্রকাশনার সংখ্যা ৮ হাজার ৪৪৯টি। 

গত ২১ জানুয়ারি স্কোপাস ডেটাবেইসের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ বছরের প্রকাশনা পরিস্থিতির একটি পর্যালোচনা করেছে সায়েন্টিফিক বাংলাদেশ। ২০১২ সাল থেকে স্কোপাস ডাটাবেইজের সহায়তায় বাংলাদেশের গবেষণা পরিস্থিতির তালিকা প্রকাশ করে আসছে ‘সায়েন্টিফিক বাংলাদেশ’।

চলতি বছরের ১ জুলাই শতবর্ষ পূর্ণ হতে যাচ্ছে দেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। নানান ঘাতপ্রতিঘাত পেরিয়ে ১৯২১ সালের ১ জুন উপমহাদেশের প্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 

প্রতিষ্ঠার মাত্র ১০ বছর না পেরুতেই এশিয়ার সেরা দশ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। তারপর নানান উত্থান-পতনে ২০২১ সালে এসে যেন অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে দেশসেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। একসময় দাপটের সাথে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় আলো বিকিরণ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষে উপনীত হয়ে বিশ্বের সেরা ১ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়ও জায়গা ধরে রাখেতে পারেনি।

বলা হয়, গবেষণা ও প্রকাশনার উপর নিতান্ত কম গুরুত্বারোপ ও জ্ঞান উৎপাদনের পরিবর্তে জ্ঞানের চর্বিতচর্বণই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিশ্বমঞ্চ হতে ছিটকে দিয়েছে। এই ১০০ বছরে কেমন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা? বিশ্বমানের গবেষণার অন্যতম ডাটাবেজ ‘স্কোপাস ইনডেক্স’ এর উপর ভিত্তি করে ঢাবির গবেষণা প্রকাশনার একটি সামগ্রিক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো-

প্রতিষ্ঠার ৪ বছর পরে ১৯২৫ সালে প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করে। সেবার গণিতের উপর লেখা দুটি গবেষণা প্রবন্ধ এডিনবার্গ ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটির জার্নালে স্থান করে নেয়। এভাবেই প্রকাশনা জগতে শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযাত্রা।

স্কোপাস ইনডেক্সের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত মোট প্রকাশনার সংখ্যা ৮ হাজার ৪৪৯টি।

১৩টি অনুষদের অধীনে ৮৩টি বিভাগ, ১২টি ইন্সটিটিউট এবং ৫৬টির বেশি গবেষণাকেন্দ্র এবং প্রায় ২ হাজার ফ্যাকাল্টি সদস্যের সমন্বয়ে চলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের ১০০ বছরের প্রকাশনা সংখ্যা মাত্র ৮ হাজার।

এই পরিসংখ্যান নিয়ে কি সত্যিই গর্বিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ? ঢাবি থেকে প্রতিবছর গড়ে ৮০টির মতো পেপার প্রকশিত হয়। স্কোপাসের তথ্যমতে, এসব প্রকাশনার অধিকাংশই প্রকাশিত হয়েছে দেশীয় ও ঢাবির নিজস্ব জার্নালে।

সর্বোচ্চসংখ্যক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস এ। এককভাবে সর্বোচ্চ প্রকাশনার কৃতিত্ব দখল করে আছেন ফার্মাসিউটিক্যাল কেমেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ। এককভাবে তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধের সংখ্যা ২১৯টি।

বিষয়ভিত্তিক বিবেচনায় প্রথম পাঁচ হলো- সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৫৮৬টি পেপার প্রকাশিত হয়েছে মেডিসিন বিষয়ে। কৃষি ও জৈবিকবিজ্ঞানের উপর ১ হাজার ২৭৫, প্রকৌশল বিষয়ে ১ হাজার ১৯২, কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং জৈব রসায়নে ১ হাজার ১৬৯, আণবিক জীববিজ্ঞানে ১ হাজার ৬৬টি পেপার প্রকাশিত হয়েছে।

২০০১-২০২০ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের পরিসংখ্যান

স্কোপাস ইনডেক্সের দেওয়া তথ্যমতে, এসব প্রকাশনার অধিকাংশই রয়ে গেছে গবেষণা পেপার হিসেবে। গবেষণাকে বইয়ে রূপ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার পথ সহজ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা কর্তৃপক্ষের মাঝে নৈমত্তিক উপস্থিত। গবেষণা প্রকাশনার সমন্বয়ে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা মাত্র ৩৪।

এছাড়াও স্কোপাস ইনডেস্কের তথ্য হতে দেখা যায়, প্রকাশনা বিষয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ে জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথেই বেশি সংযুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে, বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি এবং পিএইচডি পরবর্তী গবেষণার সুযোগ কম পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সংযুক্তির ব্যাপারে কেন বারবার দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়কেই বেছে নেওয়া হয়, সেখানেও থেকে যায় প্রশ্ন। এছাড়াও গবেষণায় অর্থব্যয়ের তথ্য হতে দেখা যায়, গবেষণায় দেশীয় অর্থায়নের চেয়ে বিদেশী অর্থায়নের পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়, বিদেশী অর্থায়নে করা গবেষণায় আমাদের জাতীয় স্বার্থ কতোটুকু অগ্রাধিকার পাবে? কেন সরকার, দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোকে গবেষণা খাতে অর্থায়নের ব্যাপারে আগহী করাতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ? শত বছরের অভিজ্ঞতা ও অর্জন কাজে লাগিয়ে দেশের প্রাচীনতম এই বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও প্রকাশনার দিকে আরো মনযোগী হবে, এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন নাগরিকদের।

স্কোপাসের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে বাংলাদেশের অবস্থা
সর্বশেষ ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ৮০৯১টি, যা ২০১৯ সাল থেকে ২৪টি বেশি। বরাবরের মতোই এবার অধিকাংশ প্রবন্ধই ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট।

এর মধ্যে সর্বাধিক ২১৬০টি প্রকাশিত হয়েছে মেডিসিন সম্পর্কিত, তারপর আছে প্রকৌশল ১৮২১টি, কম্পিউটার বিজ্ঞান ১৫৭৩টি, কৃষি এবং জীববিজ্ঞান ১১৮০টি, পরিবেশবিজ্ঞান ৯৮২টি প্রাণরসায়ন, জেনেটিক্স এবং অনুপ্রাণ বিজ্ঞান ৯৫৯টি এবং সমাজ বিজ্ঞানে ৮০৬টি।

যেসব প্রতিষ্ঠান অন্তত ২০০টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে তার মধ্যে প্রথমে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (৭৫৪টি প্রবন্ধ)। ২য় স্থানে থাকা বুয়েটের ২০১৯ সালে প্রকাশিত ৮০৪টি থেকে ৫৮ শতাংশ কমে ২০২০ সালে ৫০৮টি হয়েছে। করোনা অতিমারিতে যেহেতু শিক্ষার্থীরা সশরীরে গবেষণায় অংশ নিতে পারেনি, তা হয়তো একটি বড় কারণ হয়ে থাকতে পারে, যেহেতু প্রকৌশলে গবেষণা পরীক্ষণ-নির্ভর। 

স্কোপাস ডেটাবেইস কী?
এই ডেটাবেইস ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও এতে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়। এতে বর্তমানে প্রায় অধলক্ষ নিবন্ধিত জার্নাল/কনফারেন্স প্রকাশনার ডেটা আছে।

প্রতিবছর স্কোপাস এই প্রকাশনাগুলোর নিবন্ধন পর্যালোচনা করে এবং শুধু যে জার্নাল/প্রকাশনা নির্দিষ্ট মান বজায় রাখতে সক্ষম হয়, তাদের ডেটা সংরক্ষিত হয়। বর্তমানে ২৫ হাজারের মতো সক্রিয় প্রকাশনা।

কাজেই এই ডেটাবেইস ব্যবহার করলে সহজেই কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা প্রতিষ্ঠান থেকে কতটি গবেষণা মানসম্মত প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, কারা তাতে অর্থের জোগান দিয়েছে, কাদের সঙ্গে মিলে গবেষণা কর্মগুলো সম্পন্ন হয়েছে, তার সব খুঁটিনাটি তথ্য জানা যায়।

সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন ঢামেকের ইন্টা…
  • ০৭ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন আর্জেন্টিনার তারকা ডিফেন্ডার
  • ০৭ জুন ২০২৬
কাল মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামছে ব্রাজিল, খেলা দেখবেন যেভাবে
  • ০৭ জুন ২০২৬
পটুয়াখালীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দুই দফায় বিক্ষোভ মিছিল
  • ০৭ জুন ২০২৬
রাজনীতিতেই থাকতে চাই, চাকরি নয়: আবেগঘন স্ট্যাটাস ছাত্রদল নে…
  • ০৭ জুন ২০২৬
মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের ওপর হামলার অভিযোগ আ.লীগের বিরুদ্…
  • ০৭ জুন ২০২৬