ইউজিসির প্রতিবেদন
ঢাবির গণরুমের চিত্র © ফাইল ফটো
শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে এসেও প্রতিটি শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিততো দূরের কথা, তার ধারেকাছে নেই প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ সালের ১ জুলাই বেশকিছু উদ্দেশ্য ও আকাঙ্খা চিন্তায় রেখে অক্সফোর্ডের মডেল নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়। যা চলতি বছরের ১ জুলাই শতবর্ষ পূর্ণ করবে।
বলা হয়েছিল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর আবাসিকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে। হয়েছিলও তা কিন্তু সে ভারসাম্য ধরে রাখতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। যার ফলে আবাসন সমস্যাটি শতবর্ষী এই বিদ্যাপীঠের অভিশাপ হয়ে রইল।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ (২০১৯) প্রতিবেদন অনুযায়ী, শতকরা ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ফলে দেশসেরা এ বিদ্যাপীঠে পড়তে আসা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট চরম পর্যায়ের পেছনে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদিচ্ছাকেও দায়ী করেছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
এ ব্যাপারে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, বিদ্যমান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চরম আবাসিক সংকট বিদ্যমান। আবার নতুন যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্থাপন করা হচ্ছে সেখানে আবাসন ব্যবস্থা মোটেই নিশ্চিত করা হচ্ছে না। ফলে সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। তাই আবাসন সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়কে ভূমিকা রাখতে হবে এবং রাষ্ট্রকে আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। আবার আমরা জানি, ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের দখলদারিত্বের কারণে হলগুলোতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর বিরুদ্ধে ছাত্রদের ভূমিকা রাখতে হবে।
ঢাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ তথা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আবাসন ব্যবস্থা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ছাত্রদল বরাবরই শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছে। আমরা ইতোমধ্যে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। পাশাপাশি আমরা এও বলেছি যে হলগুলোতে ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান তথা সুষ্ঠু পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।
ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য পড়ালেখার একটা সুষ্ঠু পরিবেশ আর বৈশ্বিক র্যাংকিং যেটাই বলুন না কেন আবাসিক ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমরা এখনো আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারিনি। আবাসন সমস্যা দূরীকরণে ইউজিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন খাতে আরো বরাদ্দ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান হলগুলোতে যে দখলদারিত্ব, অছাত্র ও বহিরাগতদের অবস্থান তার সমাধান করতে হবে।
ইউজিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩টি আবাসিক হল ও ছাত্রাবাস রয়েছে। এসব হল ও ছাত্রবাসে ১৭ হাজার ৮৬ শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা থাকলেও অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থীর জন্য কোনো আবাসনের ব্যবস্থা নেই। এদের মধ্যে ৮ হাজার ৮৩০ জন ছাত্র এবং ৮ হাজার ২৫৬ জন ছাত্রীর আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।
ইউজিসির প্রতিবেদন বলছে, ৩৮ হাজার ১৭২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৪৫ শতাংশের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা। আর বাকি ৫৫ শতাংশের জন্য নেই কোনো আবাসানের ব্যবস্থা।