সহকারী প্রক্টর এমএম নাসিমুজ্জামান © টিডিসি ফটো
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর এম এম নাসিমুজ্জামানের বিরুদ্ধে এক শিক্ষককে ‘হত্যার হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক আল-ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে যখন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা স্বেচ্চার তখন ওই শিক্ষক প্রশাসনিক শাস্তি থেকে নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন।
জানা যায়, প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিদের যোগসাজসে তিনি গত ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, গত মেয়াদে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব বাড়িয়ে নেন সাবেক ভিসির ভগ্নিপতি ও এক সাবেক প্রক্টরের তদবিরে। এরপর থেকে তিনি তাদের হয়েই কাজ করে আসছেন। এখন প্রশাসনিক শাস্তি থেকে বাঁচতে এবার তিনি কৌশলে তার নিজের গ্রুপ ত্যাগ করে ভিন্ন গ্রুপের শিক্ষক নেতাদের কাছে আশ্রয় খুঁজছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার তিব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে স্টাটাস দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একইসাথে এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচারপূর্বক উপযুক্ত শাস্তির দাবি করে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী আবাসিকতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন আবাসিক শিক্ষক-কর্মকর্তারা।
মেঘনা আবাসিক ভবনের এক সিনিয়র শিক্ষক বলেন, এ বিষয়ে কথা বলতেও আমরা লজ্জাবোধ করছি। আমরা লজ্জিত, আমরা ব্যথিত। যে বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটলেও আমরা সমাধান করতে বিব্রতবোধ করি, এমন বিষয় যদি শিক্ষকদের মধ্যে ঘটে তাহলে সেটি অবশ্যই কলঙ্কজনক ঘটনা। প্রশাসনের কাছে দাবি এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার হোক। অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী আবাসিকতা বাতিল করা হোক। যাতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং শিক্ষক কোয়ার্টােরর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়।
আবাসিক আরেক কর্মকর্তা বলেন, তিনি এহেন আচরণের দ্বারা ঊগ্রতার পরিচয় দিয়েছেন। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কাছে এমন ঊগ্রপূর্ণ আচরণ কামনা করিনি। আমরা কর্মকর্তা হিসেবে হতভম্ব হয়েছি। এমন হীন কর্মকান্ডে জড়িত শিক্ষককে স্থায়ী আবাসিকতা বাতিল করে আবাসিক এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১ জানুয়ারি) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক। পরে শনিবার (২ জানুয়ারি) এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার বরাবর ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।