সুইসাইড নোটে শিক্ষককে দায় দিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়লেন জাবির মোহাইমিনুল, টেবিলে ঋণের তালিকা

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩১ PM , আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ PM
জাবির মোহাইমিনুল, ইসাইড নোট ও ঋণের তালিকা

জাবির মোহাইমিনুল, ইসাইড নোট ও ঋণের তালিকা © টিডিসি সম্পাদিত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং হলের ‘এ’ ব্লকের ১১০ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক জরুরি বার্তায় বলা হয়, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাভার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনকে বিষয়টি জরুরিভাবে বিবেচনার জন্য অবগত করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার সুইসাইড নোটে উল্লিখিত বিভাগের অবহেলার বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আজ রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে মোহাইমিনুল ইসলাম মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে উঠেন। পরে তার আবাসিক কক্ষে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে তাকে পাওয়া যায়নি। তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধান পেতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে। তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আব্দুল হালিমের ০১৭১৪০১২৩১৫ নম্বরে অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. জেফরুল হাসান চৌধুরীর ০১৭১২৬৭৪৫৫৭ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সুইসাইড নোটে যা লেখা আছে
মো. মোহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার পর তার আবাসিক হলের নিজ কক্ষে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। সঙ্গে একটি ঋণের তালিকাও তিনি রেখে গেছেন। সুইসাইড নোটে লেখা আছে, এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আমার হাতে অন্য কোনো অপশন নাই শুধু মৃত্য ছাড়া। কারণ তারা আমাকে এই দিকে ঠেলে দিয়েছে। ক্যাম্পাসে বাবা-মার অবর্তমানে রানিং স্টুন্ডেটেদের শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞাবক হলো শিক্ষক। কিন্তু যারা নিজেরাই ভালো বাবা-মা হতে পারে নাই তারা আবার শিক্ষক। ৬ মাস নাটক করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে আমাকে। আমি কোনো নাটক/সিনেমা করছি না। আমার লাশ পেলে টুকরা টুকরা করে তাদেরকে ইকুয়ালি ভাগ করে দিও প্রিয় ক্লাসমেটরা। আমার কিছু ঋণ আছে তা আরেকটা কাগজে লিখা আছে। আবার ঋণের থেকে বেশি টাকা আমি পাই বিভিন্ন জায়গায়।

এ বিষয়ে তার বন্ধু একই বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বলেন, চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় একটি কোর্সে ফেল করার পর থেকে মোহাইমিনুল মানসিক চাপে ছিলেন। তার আগে কখনো কোনো কোর্সে ফেল করার অভিজ্ঞতা ছিল না। তিনি ভালো শিক্ষার্থী ছিলেন।

তিনি বলেন, চতুর্থ বর্ষের ফাইনালে ইঞ্জিনিয়ারিং জিওলজি কোর্সে তার ফেল আসে। এরপর তিনি আমাদের সঙ্গে মাস্টার্সের ক্লাস করছিলেন। পরিকল্পনা ছিল, ফেল করা কোর্সটির বিশেষ পরীক্ষা দিয়ে আমাদের সঙ্গে মাস্টার্সের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে বিভাগ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে যোগাযোগ করে সমাধান খুঁজছিলেন তিনি। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করেও স্পষ্ট সমাধান পাচ্ছিলেন না। এতে তিনি অনেক কষ্টে ছিলেন। তার এক বছর নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েও হতাশা ছিল।

মোহাইমিনুলের খোঁজ পাওয়ার বিষয়ে বলেন, তার সন্ধানে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সহপাঠীদের কয়েকজন তাকে সর্বশেষ যেখানে দেখা গিয়েছিল, সেসব স্থান ও আশপাশের সড়কে খোঁজ করছেন। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে তার সঙ্গে একই কোর্সে অকৃতকার্য আরেক শিক্ষার্থী বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিভাগের চেয়ারম্যান তাঁদের রোববার দেখা করতে বলেছিলেন। এর মধ্যে এ বিষয়ে একটি সভা হয়। পরে রোববার চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করলে তিনি জানান, বিশেষ পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি না পাওয়ায় আপাতত তা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া হলে মাস্টার্সের ফল আটকে যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, তারা রেজিস্ট্রার ও উপ-উপাচার্যের দপ্তর থেকে অনুমতির বিষয়ে কথা বললেও বিভাগে কেন অনুমতি মিলছে না, তা বুঝতে পারছিলেন না। পরে চেয়ারম্যান তাদের অধ্যাপক সাজ্জাদ স্যারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তার সঙ্গে দেখা করে বিশেষ পরীক্ষা নেওয়ার অনুরোধ জানালে তিনি বিষয়টি সমাধানে নিজের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা জানান।

শিক্ষার্থীর ভাষ্য, তারা মাস্টার্সের ক্লাস, টিউটোরিয়াল ও উপস্থিতি সম্পন্ন করেছেন। বিশেষ পরীক্ষা না হলে মাস্টার্সের পড়াশোনা ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তাঁদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চাকরির আবেদনে মাস্টার্সের সনদ প্রয়োজন হলেও তারা সমস্যায় পড়তে পারেন বলে জানান ওই শিক্ষার্থী।‎

এ বিষয়ে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হুসাইন মো. সায়েমের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হালিম জানান, শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানার পরপরই সাভার থানায় জিডি করা হয়েছে। পুলিশকে তার মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পরিচয়
নাম: মো মোহাইমিনুল ইসলাম
বিভাগ: ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ, ৫০তম ব্যাচ
আবাসিক হল: মীর মশাররফ হোসেন হল
কক্ষ নম্বর: ‘এ’ ব্লকের ১১০
স্থায়ী ঠিকানা: হাজরা বাড়ি, মেলান্দহ, জামালপুর

ককরোচদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে শাহবাগে যুব ফ্রন্ট ও ছাত্র ফ…
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ১৪ ও ১৫তম গ্রেডে চাকরি, আবেদন ৮ নভে…
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে দেশে প্রথম ‘মেন…
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬
লিডিং ইউনিভার্সিটির পরিবহন পুলের নতুন তিনটি বাস উদ্বোধন
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬
‘ইন্সপাইরিং টিচার’ সম্মাননা পেলেন অধ্যাপক ড. এম. এ. রশিদ
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬
আইইউবিএটিতে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উদ্‌যাপন
  • ১১ অক্টোবর ২০২৬