শিক্ষার্থী নির্যাতন
প্রতিনিধি সম্মেলন ও এফএইচ হল প্রভোস্ট © টিডিসি সম্পাদিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ-২০২৫-এর সমাপনী উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ সম্মেলন শুরু হয়। পরে সাড়ে ৯টায় শেষ হয় এ সম্মেলন। সম্মেলনে বছরব্যাপী হল সংসদগুলোর কার্যক্রম, অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রত্যাশা তুলে ধরেন প্রতিনিধিরা।
বক্তব্য পর্বে ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) খন্দকার মোহাম্মদ আবু নাঈম প্রথমে হলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন। পরে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরলে সম্মেলনের মঞ্চে বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
আবু নাঈম বলেন, ডাকসুর সহযোগিতায় ফজলুল হক মুসলিম হলে এসি ও কম্পিউটার ল্যাব নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এসি প্রতিস্থাপন করা হলেও এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। এ উদ্যোগে ডাকসুর ভিপি আবু বকর, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং ক্যারিয়ার ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি।
এরপর হলের একটি ঘটনাকে ‘ন্যাক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে আবু নাঈম অভিযোগ করেন, গত ১৬ আগস্ট প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি পোস্ট করা এবং সেটি শেয়ার করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইব্রাহিম নামে এক শিক্ষার্থীকে তাঁর কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়।
তার দাবি, ওই শিক্ষার্থীকে প্রায় দেড় ঘণ্টা শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ সময় ছাত্রত্ব ও সিট বাতিলের পাশাপাশি মামলার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তাঁর অসুস্থ মাকে ফোন করেও মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবু নাঈম আরও অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জোরপূর্বক এমন একটি বক্তব্য নেওয়া হয় যে, ডাকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএসের প্ররোচনায় তিনি ওই পোস্ট করেছিলেন। পরে ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ভয় দেখিয়ে তাঁকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে আবু নাঈম বলেন, হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুটেজ দেখাতে নানা ধরনের টালবাহানা করা হয়।
তিনি দাবি করেন, প্রক্টর উপস্থিত হওয়ার পর অল্প সময়ের জন্য ফুটেজ চালু করা হলেও তা দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে মাত্র তিনজনকে ফুটেজ দেখানো হলেও, তাঁর দাবি অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত প্রভোস্টের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ সময় সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।
সমাপনী সম্মেলনের মঞ্চে অডিও ক্লিপ
অভিযোগের সমর্থনে সম্মেলনের মঞ্চে প্রভোস্টের একটি অডিও ক্লিপও শোনানো হয়। প্রায় ৩০ সেকেন্ডের ওই অডিওতে একজন শিক্ষার্থীকে ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে প্রশ্ন করা এবং সাইবার ক্রাইমে মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন আবু নাঈম।
অডিওটি শোনানোর পর তিনি বলেন, এটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের একটি অংশ। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীকে প্রায় এক ঘণ্টা ১৭ মিনিট কক্ষে রাখা হয়েছিল। ফলে বাকি সময়ে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি জানেন দাবি করে আবু নাঈম অভিযোগ করেন, এরপরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীসহ তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে।
‘ছাত্রত্ব কেড়ে নিলেও বিচার না নিয়ে যাব না’
বক্তব্যের একপর্যায়ে আবু নাঈম বলেন, তাঁকে সতর্ক করা হলেও, এমনকি ছাত্রত্ব কেড়ে নেওয়া বা সার্টিফিকেট বাতিল করা হলেও তিনি শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিচার না নিয়ে যাবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত প্রভোস্টকে সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ওই প্রভোস্টকে বিভিন্ন নতুন দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাঁকে ‘শেল্টার’ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে আবু নাঈম অবিলম্বে প্রভোস্টকে অপসারণ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে পাশে থাকা ডাকসু, ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থী, হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সক্রিয় ছাত্র সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।