সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে চবিতে ‘পরিবেশ শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন’ সামিট

১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ PM
চবিতে ‘পরিবেশ শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন’ সামিট

চবিতে ‘পরিবেশ শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন’ সামিট © টিডিসি ফটো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পরিবেশবাদী সংগঠন 'আওয়ার গ্রিন ক্যাম্পাস'-এর উদ্যোগে ‘বি পার্ট অফ দ্য চেঞ্জ টুগেদার, ফর অ্যা গ্রিনার টুমোরো’ প্রতিপাদ্যে দিনব্যাপী ‘গ্রিন এডুকেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি সামিট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যলয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

সামিটের উদ্বোধন করেন চবি উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর। 'আওয়ার গ্রিন ক্যাম্পাস'-এর প্রধান উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন।

চবি উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের নাম নয়; প্রকৃত শিক্ষা তখনই অর্জিত হয়, যখন তা মানুষের আচরণ ও চিন্তায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। কোনো শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করার পর যদি একজন মানুষের আচরণে পরিবর্তন না আসে, তাহলে সেই শিক্ষা প্রকৃত অর্থে সফল হয় না। তাই পরিবেশ শিক্ষা এমন এক শিক্ষা, যা মানুষের জীবনযাপন, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধকে পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে শেখায়। 

তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে পরিবেশের ক্ষতি করে ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তোলা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে প্রকৃতি একসময় তার কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায়। তাই প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, কোনো নীতি প্রণয়নের পেছনে একটি সামাজিক ও দার্শনিক ভিত্তি থাকে। আমরা সবাই পরিবেশ নিয়ে কাজ করি— বিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, ব্যবসায়িক খাতের মানুষ, এমনকি প্রকৌশলীরাও। তবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি মূলত দর্শনভিত্তিক এবং মানুষের আচরণের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে।

আমরা নীতিমালা প্রণয়ন করব, বিজ্ঞানীরা সেই নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় গবেষণা ও সমাধান দেবেন। প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীরা জ্বালানি-সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন। কিন্তু যারা এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন কিংবা পরিবেশগত সমস্যার প্রভাব ভোগ করবেন, তাদের আচরণ যদি পরিবেশবান্ধব না হয়, তাহলে শুধু নীতি বা প্রযুক্তি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না। 

এ কারণেই আমরা আমাদের দর্শনকে ‘সবুজ দর্শন’ বা গ্রিন ফিলোসফি নামে অভিহিত করি। সবুজ দর্শন হলো এমন একটি চিন্তাধারা, যা মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে একটি নতুন, ইতিবাচক এবং দায়িত্বশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব ও চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক তাসপিয়া।

এসময় আরও উপস্থিত সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী, সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সৈয়দ মুহাম্মদ শামসুল হুদা, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের প্রভোস্ট এজিএম নিয়াজ উদ্দিন, অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, ইপসার প্রতিনিধি, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, আওয়ার গ্রিন ক্যাম্পাসের সাবেক-বর্তমান নেতৃবৃন্দ এবং পরিবেশপ্রেমী শিক্ষার্থীবৃন্দ।

বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা কোন দল কত টাকা পেল 
  • ২০ জুলাই ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের প্রবেশপত্র নিয়ে জরুরি ন…
  • ২০ জুলাই ২০২৬
শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সরকার সর্বোচ্…
  • ২০ জুলাই ২০২৬
যশোরে ট্রাক্টর-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ২
  • ২০ জুলাই ২০২৬
যোগদান করেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা গোবিপ্রব…
  • ২০ জুলাই ২০২৬
ব্যবসায়ী ও বালুখেকোদের টাকায় নির্বাচিতরা জনগণের কথা বলেন না…
  • ২০ জুলাই ২০২৬