জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধিতা
অপরাজেয় বাংলা, ঢাবি © ফাইল ফটো
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান ও আওয়ামী দমন পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ৩৬ শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এই ঘটনার প্রায় দুই বছর পার হলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনটির প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত হয়ে তাদের শাস্তি নিশ্চিতসহ তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সাদা দলের নেতারা এসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মাসের পর মাস কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি একটি সুনির্দিষ্ট ডেডলাইন দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপাচার্যকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার (২৯ জুন) সিনেটের বার্ষিক অধিবেশন ২০২৬-এ এক সদস্যের প্রশ্নের উত্তরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের বাইরে কত শিক্ষক রয়েছেন এ তথ্য জানিয়েছে। নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে উপাচার্য ও সিনেট সভাপতি অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে সদস্যরা নির্ধারিত সময় বক্তব্য রাখেন। এছাড়া এর আগে এসব সদস্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাধিক লিখিত প্রশ্ন দিয়েছিলেন। অধিবেশন চলাকালে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত প্রশ্নের লিখিত উত্তরগুলো সরবরাহ করা হয়।
সিনেট সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. সদরুল আমিনের একটি লিখিত প্রশ্ন দিয়েছিলেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধিতাকারী কত শিক্ষক রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।
জবাবে ঢাবি প্রশাসন বলছে, শিক্ষার্থীরা ৫টি অভিযোগ ভিসির কাছে জমা দিয়েছেন আর বাকিগুলো ডিন ও বিভাগের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে এসেছে। একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা ৩৬ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে এবং তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
সাদা দলের সভা শেষে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার বলেছিলেন, আজ আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সাদা দলের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষক শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি। এক্ষেত্রে নিরপরাধ শিক্ষকদের যেন কোনো হয়রানি করা না হয়, সে বিষয়টিও আমরা সুস্পষ্ট করেছি। আমাদের স্পষ্ট দাবি, যেসব শিক্ষকের অপরাধ প্রমাণিত, কেবল তাদেরই শাস্তির সম্মুখীন করতে হবে।
সাদা দলের এই নেতা আরও বলেছিলেন, আমরা ২ সপ্তাহের মধ্যে এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখার কথা জানিয়েছি। এর মধ্যে আমাদের দাবি পূরণ না হলে আমরা আরও কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হবো।