জন্ম, বেড়ে উঠা ও পড়াশোনা একসঙ্গে—এবার একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দুই যমজের

যমজ দুই ভাই

যমজ দুই ভাই © টিডিসি সম্পাদিত

একসঙ্গে জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শুধ তাই নয়, পড়াশোনাও একসঙ্গে। তারা হলেন যমজ দুই ভাই শাকিবুল হাসান জনি ও রাকিবুল হাসান রনি। এবার তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে শুধু পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্যই গড়েছেন নতুন ইতিহাস।

শেরপুর সদর উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোবারকপুর বাঁশতলা গ্রামের এই দুই ভাই-ই প্রথম, যারা তাদের এলাকা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এতে পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে।

তারা দুজনই শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন এবং এর আগে শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমি থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে পড়াশোনা করা এই দুই ভাইয়ের লক্ষ্যও ছিল একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া।

ভর্তি পরীক্ষায় শাকিবুল হাসান জনি শিফট-১-এ মেধাতালিকায় ১৬৫৭তম হয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে রাকিবুল হাসান রনি শিফট-২-এ মেধাতালিকায় ২৭৫৪তম হয়ে পপুলেশন সাইন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগে চান্স পেয়েছেন।

বর্তমানে তারা দুজনই সাবজেক্ট মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া অন করেছেন। তারা জানান, আরও ভালো সাবজেক্ট পাওয়ার আশায় এই মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া চালু রেখেছেন।

রাকিবুল হাসান রনি বলেন, “আমরা তিন ভাই-বোন। আমাদের বড় বোন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইনাল ইয়ারে পড়াশোনা করছেন। আমাদের বাবা-মা আমাদের মানুষ করতে অনেক কষ্ট করেছেন। আমি চাই ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তাদের সেই কষ্ট লাঘব করতে। ইনশাআল্লাহ আরও ভালো কোনো বিষয়ে সুযোগ পাবো।”

তিনি আরও জানান, জমজ হলেও তাদের মধ্যে তিনিই পাঁচ মিনিটের বড়।

শাকিবুল হাসান জনি বলেন, “এডমিশন সিজনের শুরু থেকেই অনেকেই বলতেন, দুই ভাই আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাবো। তবে আমাদের মা-বাবা সবসময় দোয়া করতেন যেন আমরা একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাই। আল্লাহ্‌র রহমতে আমরা দুই ভাই-ই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। মা-বাবার মুখে যে আনন্দ দেখেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “ছোটবেলা থেকেই মা-বাবা অনেক কষ্ট করে আমাদের বড় করেছেন। এখন আলহামদুলিল্লাহ, আমরা তিন ভাই-বোনই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের একটাই লক্ষ্য—মা-বাবার কষ্টের সঠিক মূল্যায়ন করা এবং তাদের স্বপ্ন পূরণ করা।”

তাদের পিতা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “ভর্তি সময় আমরা অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলাম—দুই ভাই আলাদা হয়ে যায় কিনা। আলহামদুলিল্লাহ, তারা একসঙ্গে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে, এতে আমি গর্বিত। এখন আমার তিন সন্তানই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী—এটা যেকোনো বাবার জন্য গর্বের বিষয়। আমাদের এলাকায় এর আগে এমন নজির নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমি চাই আমার দুই ছেলে পড়াশোনা শেষ করে বড় প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোক।”

এ বিষয়ে শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুর রউফ বলেন, “শাকিবুল হাসান জনি ও রাকিবুল হাসান রনির এই সাফল্য আমাদের কলেজের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তারা দুজনই পরিশ্রমী ও মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তাদের এই অর্জন ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”

একই পরিবারের দুই সন্তানের এমন সাফল্য এলাকাবাসীর কাছেও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, জনি ও রনির এই অর্জন শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্য অনুপ্রেরণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

রাকসুর সব কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা রাবি সাংবাদিকদের
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন মেয়ে
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
ওয়ানডেতে নতুন অধিনায়ক কে, জানালেন তামিম ইকবাল
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে বিএনপি নেতা
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
গবেষণা উপ-প্রকল্প মূল্যায়নে আস্থা ফেরাতে ইউজিসির উদ্যোগ
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
আকিজ গ্রুপ নিয়োগ দেবে ২১ জেলায়, আবেদন ৬ আগস্ট পর্যন্ত
  • ২৯ জুলাই ২০২৬