ঢাবিতে ‘তারুণ্যের ভাবনায় নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক ডায়ালগ অনুষ্ঠিত © টিডিসি ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভয়েস নেটওয়ার্কের উদ্যোগে ‘রাজনৈতিক দলের ইশতেহার : তারুণ্যের ভাবনা’ শীর্ষক একটি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এ ডায়ালগের আয়োজন করা হয়।
নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থাসমূহের জোট ভয়েস নেটওয়ার্ক আয়োজিত এই ডায়ালগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পেশাজীবী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
ভয়েস নেটওয়ার্কের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নির্বাচনী মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান।
অনুষ্ঠানে ভয়েস নেটওয়ার্কের কার্যক্রম তুলে ধরেন সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি এনায়েত হোসেন জাকারিয়া। ডায়ালগটি সঞ্চালনা করেন ভয়েস নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব একরামুল হক সায়েম। এ সময় ভয়েস নেটওয়ার্কভুক্ত বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন ভয়েস নেটওয়ার্কের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক বোরহান উদ্দীন (শিক্ষক, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি) এবং ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা আফরিন জুমা। ডায়ালগে শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনায় ভবিষ্যতে সাম্য ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোকপাত করা হয়। তরুণদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সুস্পষ্ট পরিকল্পনার দাবি জানানো হয়।
ডায়ালগে তরুণদের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষি এবং ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আসন্ন নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহার যেন কথার ফুলঝুড়ি না হয়ে বাস্তবায়নযোগ্য হয়, সে বিষয়ে জোর তাগিদ দেওয়া হয়।
এ সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতে করণীয়, বাজেটে জেলাভিত্তিক সুষম বরাদ্দ, কৃষিখাতের আধুনিকায়ন, দুর্নীতিমুক্ত বাজেট বাস্তবায়ন, নৈরাজ্যমুক্ত পরিবহন ব্যবস্থা, যানজট ও ট্রাফিক সমস্যা সমাধান, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, সীমান্ত হত্যারোধ, আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তা, গার্মেন্টস ও চা শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা মোকাবিলা, ১১টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন, জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের স্বীকৃতি, গুম ও হত্যার বিচার, ট্রানজিশনাল জাস্টিস এবং দুদকের স্বাধীনতা— এসব বিষয় স্পষ্টভাবে নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করার দাবি জানানো হয়।
ডায়ালগে বক্তারা তরুণদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নীতিনির্ধারণে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ তৈরির পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে তরুণদের গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।