মির্জা গালিব © সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সাম্প্রতিক এক শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী এক উপ-উপাচার্যের মেয়েকে কয়েক দিন আগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে আমেরিকার হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব।
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, জামায়াতপন্থী উপ-উপাচার্যের মেয়েকে কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যেহেতু নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির বাবার সূত্রে ক্ষমতা প্রয়োগের সম্ভাবনা আছে এখানে, স্বভাবতই এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আরেকটা কারনে এই প্রশ্নটা বেশি করে উঠছে; যিনি নিয়োগ পেয়েছেন তিনি অনার্সে অষ্টম (আরো তিনজন যুগ্মভাবে অষ্টম ছিল) এবং মাস্টার্সে দ্বিতীয় ছিলেন (সিরিয়ালে ৩য়, দুজন যুগ্মভাবে ফার্স্ট ছিল)। যেহেতু তার সাথে কম্পিটিশানে তার সমান এবং আরো ভাল স্টুডেন্টরা ছিল, কাজেই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে কিনা- এটা একটা ভ্যালিড প্রশ্ন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষা ছিল, ভাইভা ছিল, আর প্রেজেন্টেশান ছিল। এই তিন পরীক্ষার নম্বর এক সাথে যোগ করে ফাইনাল মেধা তালিকা করা হইছে। স্বচ্ছতার জন্য ক্যান্ডিডেটদের নাম প্রকাশ না করে যাদের নিয়োগ দেয়া হইছে, আর যাদের দেয়া হয় নাই, তাদের এই টোটাল নম্বর তালিকা পাবলিকলি প্রকাশ করার দাবি জানাচ্ছি। এই নম্বর তালিকা দেখলে আমাদের একটা ভাল আইডিয়া হবে যে নিয়োগ কতটুকু স্বচ্ছ হইছে।
এই নিয়োগ নিয়ে পাবলিক পরিসরে এখন যে আলাপ আলোচনা হচ্ছে- এটা উন্নতির লক্ষণ। এভাবে আলাপ আলোচনা হলেই আমরা ধীরে ধীরে একটা স্বচ্ছ এবং মেরিটভিত্তিক নিয়োগ পদ্ধতিতে যেতে পারব। মেরিটোক্রাসি ছাড়া আমাদের উন্নতির আর কোন পথ নাই।