তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেদেরই তৈরি করতে হবে

০৪ জুন ২০২৪, ১০:৪৪ PM , আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৫, ১২:৩৫ PM
‘ইমপ্যাক্ট এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ এনেবলিং সাসটেইনেবল ফিউচার’ শীর্ষক মাইক্রে-কোর্স অনুষ্ঠান

‘ইমপ্যাক্ট এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ এনেবলিং সাসটেইনেবল ফিউচার’ শীর্ষক মাইক্রে-কোর্স অনুষ্ঠান © টিডিসি ফটো

আমাদের দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ গ্র্যাজুয়েট বের হয়, সে পরিমান কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। তরুণরা পড়াশোনা শেষ করেই চাকরির পেছনে ছুটতে থাকে। চাকরি না পেয়ে তারা হতাশায় নিমজ্জিত হয়। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে চাকরি না পাওয়ার হতাশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একটা চাকরিই জীবনের সবকিছু না। শুধুমাত্র চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তাও হতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেদেরই তৈরি করতে হবে

আজ মঙ্গলবার (৪ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে ‘ইমপ্যাক্ট এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ এনেবলিং সাসটেইনেবল ফিউচার’ শীর্ষক মাইক্রে-কোর্সে বক্তারা এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), আইসিটি ডিভিশন, ওয়ান বাংলাদেশ, স্টুডেন্ট টু স্টার্ট আপ ভেঞ্চার্স, ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ একাডেমি (আইডিয়া) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) যৌথভাবে মাইক্রে-কোর্সটির আয়োজন করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন নিজামী বলেন, ফেসবুক, মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশেও তৈরি হতে পারে, যদি আমরা সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারি। এর জন্য প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার। এর জন্য আমাদের শিক্ষকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। যাতে করে নবীণ উদ্যোক্তারা আগ্রহ ও নিরাপদবোধ করে। 

তিনি বলেন, আমরা তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে চাই। আমাদের অনেক সমস্যা আছে। তবে তা সমাধানেরও পথ আছে। তরুণরা স্বপ্ন দেখে। তারা সুশাসন চায়, স্বচ্ছতা চায়। তাদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য এসব আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।  

অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী বলেন, আমাদের উদ্যোক্তা তৈরির চিন্তা করতে হবে। বর্তমান সময়ে এটা যুৎসই ও সাসটেইনেবল। আমাদের নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেদেরই তৈরি করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের উন্নয়ন টেকসই হতে হবে৷ উন্নয়ন যদি টেকসই না হয় তাহলে তা কোন কাজে আসবে না৷ আমাদের অর্থনীতি নির্মিত হয়েছে। এখন তা বিনির্মাণ করতে হবে৷ আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের শেষ ধাপে আছি। ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের উন্নত দেশে পদার্পন করব। আশা করছি আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে পারব৷ আর এটাই আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মিশন ও ভিশন।

স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ওয়ান বাংলাদেশ চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ড. আশুতোষ দাশ বলেন, একটা সময় ছিল যখন, চাকরি পাওয়া খুব সহজ ছিল৷ হাতে লেখা একটা দরখাস্ত জমা দিলেই চাকরিতে নিয়ে নেওয়া হতো। কিন্তু চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে এখন চাকরি পাওয়া অনেক কঠিন। এখন নিজস্ব দক্ষতার পাশাপাশি আইটির উপর দক্ষতা থাকতে হয়।

তিনি আরও বলেন, একটা জরিপের তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর ২২ লাখ যুবক পড়াশোনা শেষ করে বের হয়৷ এদের মধ্যে ১০ লাখ যুবক চাকরি পায়। বাকি ১২ লাখ যুবক বেকার থাকে। আমরা যদি এদের থেকে ২ শতাংশ উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারি, তাহলে আমাদের বেকারত্ব কিছুটা হলেও ঘুচবে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ওয়ান বাংলাদেশ চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক মিয়াজী বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মকে চাকরি না পাওয়ার হতাশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একটা চাকরিই জীবনের সবকিছু না। প্রত্যেককেই বিকল্প অবলম্বন রাখতে হবে। মানুষ যদি বিভিন্ন পথ নিয়ে চলে, তাহলে তার চলার পথ সুগম হয়। শুধুমাত্র চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তাও হতে হবে। আর উদ্যোক্তা তৈরির প্রতি তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতেই আমাদের এই আয়োজন। 

সমাপনী বক্তব্যে চবি ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ওয়ান বাংলাদেশ চট্টগ্রাম জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ কুমার প্রামাণিক বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে আমাদের রাজনৈতিক মুক্তি দিয়েছেন। অসমাপ্ত অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষে ২০৪১ সালের মধ্যে সুখীও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে চাকরির বিকল্প হিসেবে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের টেকসই ভবিষ্যত গঠনে উদ্যোক্তা হওয়ার কোন বিকল্প নেই। আর এজন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন ধরনের অনুদান নিয়ে তরুণদের পাশে এগিয়ে আসছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী রওনক রওশন ফিহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন একই বিভাগের প্রভাষক জান্নাতুল নাঈম। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে আইডিয়া প্রজেক্টের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন প্রজেক্টের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও হেড অব অপারেশন সিদ্ধার্থ গোস্বামী। কী-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাভেদ হোসাইন। 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অপরাধ বিজ্ঞান ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, প্রভাষক প্রকাশ চন্দ্র রায়, প্রানিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাদব কুমার বিশ্বাস, প্রভাষক মোঃ ইকরাম আনসার তুহিন, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক তাকিত মল্লিক, আবু মো. কায়সার, ওয়ান বাংলাদেশ চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ তুহিন প্রমুখ।

এসএসসি পাসেই চাকরি আড়ংয়ে, আবেদন ৯ আগস্ট পর্যন্ত
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
পাবিপ্রবিতে জুলাই স্মরণসভায় দাওয়াত না দেওয়ায় অনুষ্ঠান বন্ধ …
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
নটর ডেম-হলিক্রস-সেন্ট জোসেফ ও সেন্ট গ্রেগরি কলেজে ভর্তি কীভ…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা ইউজিসির
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
আবারও ক্ষমতার রাজনীতির মঞ্চ হয়ে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়, শঙ্কা অ…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনে চাকরি, কর্মস্থল ঢাকা, আবেদন ১৫ আগস্ট প…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬