বিভাগে প্রথম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:০১ AM , আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৫, ১১:২৯ AM
বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যে শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যে শিক্ষার্থীরা © টিডিসি ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অধ্যায়নরত ছেলেদের সংখ্যা বেশি হলেও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শীর্ষ ফলাফলধারীদের মধ্যে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, সময়ের সঠিক ব্যবহার করার কারণে ঢাবির মেয়েরা ছেলেদের থেকে ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে এটা যেমন সত্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর ছেলেদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া এবং আবাসিক হলে প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীদের গণরুমে থাকার কারণে শুরুতেই পিছিয়ে পড়েন তারা। তবে সার্বিকভাবে নারীদের এগিয়ে আসা দেশের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

২০২২ সালের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) রিপোর্ট অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩ টা অনুষদ ও ১৩ টা ইনস্টিটিউট রয়েছে। এতে মোট বিভাগ রয়েছে ৮৩টি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৬ হাজার ৬৭৬ জন তার মধ্যে ছাত্র ২১ হাজার ৫৪২ জন এবং ছাত্রী ১৫ হাজার ১৩৪ জন।

২০২২ ও ২০২৩ সালে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কয়েকটি বিভাগে যুগ্মভাবে প্রথম হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। স্নাতক পর্যায়ে বিভাগে প্রথম হয়েছেন ছেলে ৪১ জন, মেয়ে ৫৪ জন এবং স্নাতকোত্তরে ছেলে ৪৭ জন, মেয়ে ৫৭ জন। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরে বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মেয়ে ১১১ জন এবং ছেলে ৮৮ জন। ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা ২৩ জন বেশি।

অনুষদভিত্তিক পরিসংখ্যান

কলা অনুষদের ১৭ টি বিভাগের মধ্যে স্নাতকে ছেলে ৮ জন, মেয়ে ১১ জন এবং স্নাতকোত্তর ছেলে ৮ জন, মেয়ে ১১ জন। বিজ্ঞান অনুষদের ৭ টি বিভাগের মধ্যে তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ ও বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের স্নাতক ফলাফল পাওয়া যায়নি। বাকি ৫ বিভাগে স্নাতক ছেলে ৩ জন, মেয়ে ২ জন এবং ৭ বিভাগের মধ্যে স্নাতকোত্তর ছেলে ৪ জন, মেয়ে ৩ জন।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ৯ টি বিভাগের মধ্যে স্নাতকে ছেলে ৫ জন, মেয়ে ৫ জন এবং স্নাতকোত্তর ছেলে ৩ জন, মেয়ে ৬ জন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৬টি বিভাগের মধ্যে স্নাতকে ছেলে ৫জন, মেয়ে ১১জন এবং স্নাতকোত্তর ছেলে ৮ জন,মেয়ে ৭জন।

জীববিজ্ঞান অনুষদের ১০টি বিভাগের মধ্যে স্নাতক ছেলে ২ জন, মেয়ে ৬জন এবং স্নাতকোত্তর ছেলে ২জন, মেয়ে ১৩জন।  ফার্মেসি অনুষদের ৪টি বিভাগের মধ্যে স্নাতকে ছেলে ২ জন, মেয়ে ১ জন এবং স্নাতকোত্তর ছেলে ৩ জন,মেয়ে ৪ জন।

আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স অনুষদের ৫টি বিভাগের মধ্যে আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকের ফলাফল পাওয়া যায়নি। বাকি ৪ বিভাগে ৪ টিতেই মেয়েরা প্রথম হয়েছেন এবং স্নাতকোত্তরে ছেলে ৫ জন,মেয়ে ১ জন।

ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি  অনুষদের ৫টি বিভাগের মধ্যে স্নাতকে সব বিভাগে ছেলেরা প্রথম হয়েছেন এবং স্নাতকোত্তর ৩ বিভাগের ফলাফল পাওয়া যায়নি। বাকি দুটোতে ২ জন মেয়ে প্রথম হয়েছেন।

চারুকলা  অনুষদের ৮টি বিভাগের মধ্যে স্নাতকে ছেলে ৪ জন, মেয়ে ৩ জন এবং স্নাতকোত্তরে ছেলে ৪ জন,মেয়ে ৫ জন। এছাড়াও ১১টি ইনস্টিটিউটের মধ্যে স্নাতকে ছেলে ৬ জন, মেয়ে ১০ জন এবং স্নাতকোত্তরে ছেলে ৯ জন,মেয়ে ৪ জন।

তবে বিজ্ঞান অনুষদ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি অনুষদে শীর্ষ ফলাফলে ছেলেরা এগিয়ে রয়েছে।

জানতে চাইলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকে প্রথম হওয়া নাসিমুল হুদা দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি শুরু থেকেই অ্যাকাডেমিক পড়ালেখার প্রতি জোর দিয়েছিলাম এবং যতটুকু সম্ভব পরিশ্রম করেছি। এছাড়াও আমার পরিবার, শিক্ষক, ও সহপাঠীদের অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। 

শীর্ষ ফলাফলে ছেলেরা পিছিয়ে- এ সম্পর্কে তিনি বলেন, এর অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে৷ ছেলে ও মেয়েদের আবাসন ব্যবস্থার একটা পার্থক্য রয়েছে। মেয়েরা শিক্ষার তুলনামূলক ভালো পরিবেশ পায়।

শীর্ষ ফলাফলে ছেলেরা পিছিয়ে এর অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে তার মধ্যে ছেলে ও মেয়েদের আবাসন ব্যবস্থার একটা পার্থক্য রয়েছে এছাড়াও ছেলেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সহশিক্ষা কার্যক্রমে তুলনামূলক বেশি অংশগ্রহণ করে বলে আমার মনে হয়।

স্নাতকে প্রথম হওয়া পালি এন্ড বুদ্ধিষ্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী পিয়া দাস দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়, প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর স্বপ্নের জায়গা তেমনি আমারও। ১৮ এর গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার পথে আজও মেয়েদের অনেক বাধা হয়ত সেই বাধাই তাদের জয়ের প্রধান কারণ। বাধা আসে বলেই সফলতা অর্জন করা যায়। তেমনি বাধা আমার জীবনেও আসে সফলতা অর্জন করতে পেরেছি কিনা জানি না কিন্তু বাধা অতিক্রম করেছি নিজের চেষ্টা নিজের একাগ্রতা দ্বারা, শতবার পড়ে গিয়ে শতবার উঠে দাঁড়িয়েছি। যাত্রাপথে যাদের সহায়তা পেয়েছি তারা হলেন আমার পিতামাতা এবং আমার শিক্ষকবৃন্দ।

শীর্ষ ফলাফলে ছেলে ও মেয়েদের অবস্থান নিয়ে যা বলছেন শিক্ষকরা 

জানতে চাইলে ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ বি এম শহীদুল ইসলাম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেসব ছেলে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, তাদের অধিকাংশই গ্রাম থেকে উঠে আসা। ক্যাম্পাসে আসার পর অনেকেরই পরিবারের হাল ধরতে হয়। এমন অনেক ছেলে আছে যারা টিউশন করিয়ে প্রতিমাসে বাসায় টাকা পাঠায়। পরিবারের চাপ ছেলেদের উপর বেশি থাকে। এ কারণে তারা টিউশনে বেশি সময় দেয়। অ্যাকাডেমিক পড়ার সুযোগ তারা খুবই কম পায়। অন্যদিকে মেয়েরা প্রয়োজন ছাড়া তেমন একটা টিউশন করায় না, তারা তাদের উপযুক্ত সময়কে কাজে লাগায়। যে কারণে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা লেখাপড়ায় এবং ফলাফলে অনেক এগিয়ে। 

তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ছেলেরা মেয়েদের তুলনায় লেখাপড়ার পাশাপাশি অন্যান্য কার্যক্রমে বেশি যুক্ত থাকে। লেখাপড়ার পরিবেশটা মেয়েরা হল এ বেশি পায়, কিন্তু ছেলেরা এটা পায় না। বিজ্ঞান অনুষদে ছেলেরা ভালো ফলাফল করলেও কলা এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মেয়েরা বরাবরই ভালো রেজাল্ট করছে। সময়ের সঠিক ব্যবহার করার কারণে ঢাবির মেয়েরা ছেলেদের থেকে লেখাপড়া ও রেজাল্টে এগিয়ে। 

সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ময়না তালুকদার দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, মেয়েরা সবসময় ঘরমুখো, তারা ছেলেদের মত বাইরে কম বের হন, তারা সময়ের অপব্যবহার না করে পড়ায় মনোযোগ দেয়। ক্লাসে মেয়েদের উপস্থিতি বরাবরই ছেলেদের তুলনায় অনেক বেশি। ছেলেরা সবসময় স্বাধীন পরিবেশে ক্যাম্পাসে বিচরণ করে। লেখাপড়ার চেয়ে তারা অন্য কাজকে বেশি গুরুত্ব দেয়। যার কারণে তারা মেয়েদের তুলনায় লেখাপড়ায় এবং ভালো রেজাল্টের দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য  (শিক্ষা) অধ্যাপক ড.সীতেশ চন্দ্র বাছার দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন,আমাদের দেশের প্রান্তিক ছেলেমেয়েরাই আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। পূর্বে আমরা যখন লেখাপড়া করেছি তখন মেয়ের সংখ্যা ছিল শতকরা ২০-৩০%। কিন্তু এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক। তৃণমূল থেকে উঠে আসা ছেলেদের অনেক সময় পরিবারের হাল ধরার জন্য টিউশন বা পার্টটাইম জব করতে হয়, এজন্য অধিকাংশ ছেলেরা লেখাপড়ায় মনোনিবেশ এমনকি আশানুরূপ ফলাফল করতে পারে না। অন্যদিকে মেয়েরা টিউশন করালেও তারা খুব বেশি দূরে যায় না, তাদের সন্ধ্যার পর বাইরে যাওয়ার প্রবণতা অনেক কম, এই সময়টা তারা সেন্ট্রাল লাইব্রেরি বা হলের লাইব্রেরিতে লেখাপড়া করে। কিন্তু ছেলেরা এটা পারে না। এজন্য ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা লেখাপড়ায় অনেক এগিয়ে। 

তিনি বলেন, ছেলেদের ক্লাসের উপস্থিতি অনেক কম থাকে, এজন্য তারা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে ব্যর্থ হয়। সেক্ষেত্রে মেয়েরা অনেক এগিয়ে।

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য নিহত, উ…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
নোবিপ্রবি ছাত্রদলের শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় যারা
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
শেরপুরের গারো পাহাড়ে গাছ থেকে শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ধ্বংসস্তূপে মানুষের খোঁজে যে রোবট, তার গন্তব্য এবার লাস ভেগ…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
পদোন্নতি পেয়ে বিসিএস পুলিশ ক্যাডার মর্যাদায় এএসপি হলেন ৭৮ ক…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
বর্ণাঢ্য আয়োজনে ববি সাংবাদিক সমিতির অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950