পূর্বপুরুষদের অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব এখন আমাদের কাঁধে

১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:০৮ PM , আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৫, ১২:৪৮ PM
জাবি শিক্ষার্থীদের ভাবনায় বিজয় দিবস

জাবি শিক্ষার্থীদের ভাবনায় বিজয় দিবস © টিডিসি ফটো

আজ শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম জানান দেওয়ার দিন। এ দিনকে নিয়ে নিজেদের অভিমত জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট অর্গানাইজেশনের সাবেক সেক্রেটারি জিল্লাল হোসাইন সৌরভ বলেন, আমরা একবিংশ শতকের মানুষরা স্বাধীনতার যে স্বাদ আস্বাদন গ্রহণ করছি, সেই স্বাধীনতা অর্জনে আমাদের কোন অবদান ছিল না। এই বিজয় আমাদের পূর্বপুরুষদের হাজারো ত্যাগের ফসল। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। এই স্বাধীনতা রক্ষার করার কঠিন দায়িত্ব বর্তেছে এখন আমাদের কাঁধে।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি বিজয়ের ফলে পাওয়া আমাদের এই ছোট, সুন্দর দেশটির সফলতা-ব্যর্থতার হিসেব করে মেকি কান্নায় সময় নষ্ট করার সময় এখন আর নেই। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একজন অন্যজনকে দোষারোপ করার চাইতে যদি প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজের দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করি, তাহলেই আমরা পেতে পারি একটা সমৃদ্ধ, দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সাহারা আক্তার লিমা বলেন, ‘আমার কাছে বিজয় মানে স্বাধীন দেশের প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারা। সব বয়সী ও শ্রেণি-পেশার নারীদের নিরাপদে পথ চলতে পারা। বিজয়ের প্রত্যাশা হলো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত তারুণ্য ও বেকারত্বমুক্ত বাংলাদেশ। কর্মমুখী ও মানসম্পন্ন শিক্ষা আর শিক্ষাবান্ধব সরকারই হলো তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষা।

তিনি বলেন, নিজেদের ভূমির প্রতিটি কোনায় বলিষ্ঠ কণ্ঠে স্বাধীনভাবে কথা বলার মঞ্চ তৈরি করতে পারা আমার কাছে বিজয়ের আরেকটি অর্থ। কারণ কথাদের কখনো মেরে ফেলা যায় না। মেরে ফেলা যায় না আমাদের মস্তিষ্কজাত শক্তিশালী শব্দগুচ্ছকে। যখন আমরা কথা বলতে জানব, অন্যায়ের কাছে কোনোভাবেই নত না হবো, তখনই অর্জিত হবে আমাদের সত্যিকার বিজয়।

আরও পড়ুন: কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হবে

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মুমতাহিনা হক বলন, পরাধীনতার দাসত্ব থেকে মুক্তি এবং স্বাধিকার ও স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতই হলো বিজয়। যা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু সেই বিজয় কি আমরা ধরে রাখতে পেরেছি? কেন স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমাদের দুর্নীতি, খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ দেখতে হচ্ছে? আজও কেন তৃণমূল বা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গ্রাম বাংলার মানুষের অধিকার নিয়ে সমালোচনার ঝড় সব জায়গায়?

মুমতাহিনা বলেন, আমাদের তো প্রদীপ হয়ে দেশকে আলোকিত করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা তা পারছি কি? এ বিজয়ের দিনে আমি প্রত্যাশা করবো, আমরা যেন দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের পরিশ্রমের চিহ্ন রেখে যেতে পারি। দেশকে আলোকিত করতে পারি। দেশপ্রেম শুধু বিজয় দিবসে আবদ্ধ না রেখে প্রাত্যহিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বিজয়ের প্রেরণায় উজ্জীবিত হতে হবে।

বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের আরেক শিক্ষার্থী মেহেরাব হোসেন সিফাত বলেন, বিজয় দিবস আমরা পালন করি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে স্মরণের উদ্দেশ্যে। কিন্তু এইদিন যে কেবল আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে জয় করেছি তা কিন্তু নয়, এরই মাধ্যমে বাংলায় নিপাত হয়েছিলো অত্যাচারী স্বৈরশক্তির। সেই দিন বাংলায় প্রথম ন্যায্যতার সূর্য উদয় হয়েছিলো। 

মেহেরাব বলেন, ১৬ ডিসেম্বর আমার কাছে আমার মায়ের জন্মদিনের মতো। যে মা এই সত্য সূর্যকে সদা-সর্বদা সু-উচ্চ রাখার দায় নিয়ে জন্ম নিয়েছে। এই মা হচ্ছে সেই সত্তা, যে আমাদেরকে তার ভাষায় প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে। এই সে মা, যে তার বড়-ছোট সকল সন্তানকে সমান চোখে দেখে, সমান ভাগে বিলিয়ে দেয় আপন স্নেহ। কিন্তু বিজয়ের মাসে পাহাড়ীর মৃত্যু যেন আমাদের আলোকময় আকাশে মেঘের ঘনঘটা।

জাপানে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
যে কারণে আজহারীর ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
পাবনায় দিনমজুরকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৩
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি সাশ্রয়ে অনলাইন ক্লাসের উদ্যোগ, শঙ্কার কথা বলছেন চা…
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ পর্বের ৯ এপ্রিলের পরীক্…
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
হাদি হত্যা মামলায় সঞ্জয় চিসিমের জামিন নামঞ্জুর
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence