ঢাবি উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে থিয়েটার বিভাগ © টিডিসি ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকের কক্ষ দখল চেষ্টার ঘটনায় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। কর্মসূচি শেষে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়, ‘‘থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ মনে করে এমন ঘৃণ্য কাজ মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা সংস্কৃতির উপর আগ্রাসনস্বরূপ।’’
বুধবার (১৪ জুন) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০২০ নম্বর কক্ষে তালাবদ্ধ ও সিলগালা করার ঘটনা ঘটেছে। বিভাগকে অবহিত না করে গত ১৩ জুন অফিস ছুটির পর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। গত বছর ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের নিকট ৩০২০ নম্বর কক্ষটি তাদের একটি কক্ষের সাথে রদবদলের প্রস্তাব দেন।
‘‘তখন থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখে যে, বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত ৪০০ স্কয়ার ফিটের চেয়ারম্যানের কক্ষ। কোন প্রকার একাডেমিক মিটিং না করে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান তাদের অফিস কক্ষকে ভেঙে চেয়ারম্যানের কক্ষের সাথে যুক্ত করে ৬০০ স্কয়ার ফিটে রূপান্তর করেছেন। একইসঙ্গে ভেঙে ফেলা অফিস কক্ষ পুনঃস্থাপনের জন্য থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ৩০২০ নম্বর কক্ষটি নির্বাচন করে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন।’’
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের হতে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর এক পত্রের মাধ্যমে অবগত করা হয়- থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষকদের ব্যবহৃত ৩০২০ নম্বর কক্ষের পরিবর্তে অন্য একটি কক্ষ প্রদান করা হয়েছে। কক্ষটি ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগকে প্রদানের জন্য পত্রে কক্ষ পরিবর্তনের বিষয় উল্লেখ করা হয়।
এই পত্রের প্রেক্ষিতে একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে বিভাগ কক্ষ পরিবর্তন করতে অপারগতা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র প্রেরণ করেছে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (জোন-৪) এর ২৯ মে অপর এক পত্রের মাধ্যমে ৩০২০ নম্বর কক্ষের চাবি প্রদান করতে বলা হয়েছে। পত্রে উল্লেখ করা হয়- দীর্ঘ ৭ মাস অতিক্রান্ত হলেও আজ অবধি তারা (ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ) বুঝে পায়নি। আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে চাবি বুঝিয়ে দিতে বলা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, কক্ষ স্বল্পতার জন্য বিভাগের দু'জন শিক্ষক ঐ কক্ষ ব্যবহার করেন- একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক, তিনি বর্তমানে সেমিনার ও কর্মশালা পরিচালনার জন্য এবং অপর একজন সহকারী অধ্যাপক পিএইচ.ডি গবেষণার জন্য দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন।
আরও পড়ুন: অধ্যাপকের কক্ষ অবৈধভবে দখল, ঢাবিতে বিক্ষোভ
প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের সাথে কক্ষের পরিবর্তে অন্য কক্ষে যেতে অপারগতা বিষয়ে বিভাগের যোগাযোগ ও পত্র আদান-প্রদান চলমান সত্ত্বেও কোনরকম অবহিত না করে তালা লাগিয়ে সিলগালা করা হয়েছে। তালার গায়ে সিলগালার উপদান লাগানো হলেও দপ্তরের নাম খচিত ছিল না। যা দুরভিসন্ধি উদ্দেশ্যের চিহ্ন বহন করে। পরবর্তীতে বিভাগ জানতে পারে এস্টেট অফিসের দ্বারা কক্ষটি তালাবদ্ধ করা হয়েছে।
কলাবভনের সম্মুখ বারািন্দায় অবস্থিত ৩০২০ নম্বর কক্ষ হতে থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের যাত্রা আরম্ভ হয়েছে। বর্তমানে ৩০২০ নম্বর কক্ষের পাশে ৩০১৯ নম্বর কক্ষে অত্র বিভাগের আরও দুজন শিক্ষক অবস্থান করছেন। এছাড়া, ৩০১৮ নম্বর কক্ষে বিভাগীয় সেমিনার অবস্থিত। বিভাগের অস্তিত্ব এবং ইতিহাস বিবেচনায় ৩০২০ নম্বর কক্ষটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
এতে আরও বলা হয়, বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ইতোমধ্যে দুইবার দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় তাঁর দুটি পায়ে অস্ত্রোপচার করানো হয়। সুতরাং ৩০২০ নম্বর কক্ষটি তাঁর ব্যবহারের জন্য অধিক সুবিধাজনক। বিভাগের সম্মানিত দু'জন শিক্ষকের ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বই, গবেষণাপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল ইত্যাদি কক্ষে রয়েছে, এমন অবস্থায় কোন নথিপত্রের খোয়া যায় বা ব্যত্যয় ঘটে তবে তার জন্য সকল দায়ভার সিলগালা করে তালাবদ্ধ করার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং দপ্তরকে নিতে হবে বলে বিভাগ মনে করে। বিভাগে ঘটে যাওয়া ঘটনার থিয়েটার বিভাগের পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে।