ডিজিটাল আসক্তি
অতিরিক্ত গেমিং ও জুয়ায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি © টিডিসি ফটো
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সবকিছুরই যেমন ধরণ বদলেছে, তেমনই বদলেছে বিনোদনের ধরন। এই বিনোদনের ধরণ বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গেমিং ও জুয়ার মতো আচরণ বিশ্বজুড়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। তবে এসব কার্যক্রমের অতিরিক্ত চর্চা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে গুরুতর মানসিক ও সামাজিক সমস্যার জন্ম দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, অধিকাংশ মানুষ গেমিং বা জুয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। কিন্তু একটি ক্ষুদ্র অংশের মানুষের মধ্যে এসব আচরণ আসক্তিতে রূপ নিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে। এতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও পেশাগত ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং মানসিক চাপ তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গেমিং বর্তমানে তরুণদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বিনোদন। তবে যখন কেউ অতিরিক্ত সময় গেম খেলায় ব্যয় করে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন পড়াশোনা, সামাজিক যোগাযোগ বা দৈনন্দিন দায়িত্ব অবহেলা করে, তখন তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এবং বর্তমান সময়ের তরুণদের মধ্যে আসক্তির বিষয়টি লক্ষ করা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মানসিক অস্থিরতা ও কার্যক্ষমতা কমার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা ‘গেমিং ডিসঅর্ডার’-এর লক্ষণ হতে পারে।
অন্যদিকে, অনেক দেশে জুয়া বিনোদনের অংশ হিসেবে স্বীকৃত হলেও বারবার জুয়া খেলার প্রবণতা ‘গ্যাম্বলিং ডিসঅর্ডার’-এ পরিণত হতে পারে। এর ফলে মানসিক চাপের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ইন্টারনেটের বিস্তারের কারণে গেমিং ও জুয়ার মধ্যে সম্পর্ক দিন দিন ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। এতে এক ধরনের আসক্তি থেকে অন্য ধরনের আসক্তিতে রূপ নেওয়া বা একই সঙ্গে দুই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সংশ্লিষ্ট এসব গেমিং কিংবা জুয়ায় আসক্ত হওয়া ব্যক্তিদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে গেমিং বা জুয়ার পেছনে ব্যয় করা সময়, শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন এবং সামাজিক জীবনের ওপর প্রভাব নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতার মাধ্যমে এসব আচরণকে নিরাপদ সীমার মধ্যে রাখা সম্ভব। যদি তা না হয়, এটি ধীরে ধীরে ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও সামাজিক জীবনের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।