টিম কুক ও জন টার্নাস © সংগৃহীত
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল জন টার্নাসকে প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রধান নির্বাহী টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। বর্তমানে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত জন টার্নাস আগামী ১ সেপ্টেম্বর নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বিদায়ী সিইও টিম কুক এরপর থেকে কোম্পানির নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করবেন।
টিম কুক ২০১১ সালে অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের স্থলাভিষিক্ত হন। জবস তাঁর মৃত্যুর কিছু দিন আগে স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করলে কুক এই দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কুক আগামী গ্রীষ্ম পর্যন্ত প্রধান নির্বাহী পদে থেকে টার্নাসের কাছে নেতৃত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। এরপর তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগসহ কোম্পানির নির্দিষ্ট কিছু কাজে সহায়তা করবেন।
কুকের পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যেই অ্যাপলের পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। কুক অ্যাপলের নেতৃত্ব দেওয়াকে তাঁর জীবনের ‘সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর অধীনেই অ্যাপল বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়। ২০১৮ সালে অ্যাপল প্রথম পাবলিক কোম্পানি হিসেবে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্যায়নে পৌঁছায় এবং বর্তমানে এর মূল্য ৪ ট্রিলিয়ন ডলার।
টিম কুক জন টার্নাসকে একজন ‘দূরদর্শী’ নির্বাহী হিসেবে অভিহিত করেছেন। কুক বলেন, ‘টার্নাসের মধ্যে রয়েছে একজন প্রকৌশলীর চিন্তাভাবনা, একজন উদ্ভাবকের মন এবং সততা ও মর্যাদার সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার হৃদয়’।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘অ্যাপলকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি নিঃসন্দেহে সঠিক ব্যক্তি’।
গত বছর অ্যাপলের শীর্ষ নির্বাহী জেফ উইলিয়ামস কোম্পানি ছাড়ার পর থেকেই টার্নাস সিইও হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন। অ্যাপলে ২৫ বছরের কর্মজীবনে টার্নাস আইপ্যাড, আইফোন, এয়ারপডস এবং অ্যাপল ওয়াচের মতো প্রায় প্রতিটি বড় পণ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি অ্যাপলের নিজস্ব সিলিকন চিপে ম্যাক কম্পিউটারের রূপান্তরের কাজটিও সরাসরি তদারকি করেন। জন টার্নাস স্টিভ জবসের সময়েও কাজ করেছেন এবং তিনি টিম কুককে তাঁর ‘গুরু’ বলে মানেন।
টার্নাস বলেন, ‘আগামী বছরগুলোতে আমরা কী অর্জন করতে পারি তা নিয়ে আমি গভীর আশাবাদী’।
বিশ্লেষকদের মতে, হার্ডওয়্যার বিশেষজ্ঞ টার্নাসের নিয়োগ অ্যাপলের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। কুকের সময়ে অ্যাপলের মুনাফা চার গুণ বাড়লেও পণ্য উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একঘেয়েমির সমালোচনা ছিল।
ফরেস্টারের প্রধান বিশ্লেষক ডিপাঞ্জান চ্যাটার্জি বলেন, ‘কুক অ্যাপলকে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল করেছেন কিন্তু তিনি আইফোনের মতো দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধির কোনো নতুন পণ্য আনতে পারেননি’। তাঁর মতে, অ্যাপল এখনও মূলত ফোনের ওপর নির্ভরশীল এবং নতুন নেতৃত্বকে অবশ্যই ছোট পরিবর্তনের ধারা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
স্টিভ জবসের সাবেক ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর কেন সেগাল বলেন, ‘কুক মূলত একজন অপারেশন বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং তিনি কখনোই জবসের মতো ভিশনারি হয়ে উঠতে পারেননি’। তবে জন টার্নাসের আগমনে অ্যাপল এখন ফোল্ডেবল ফোন এবং স্মার্ট চশমার মতো নতুন পণ্যের দিকে বেশি নজর দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া গুগল বা মাইক্রোসফটের তুলনায় অ্যাপল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও টার্নাসের অধীনে হার্ডওয়্যারের সঙ্গে এআই-এর গভীর সমন্বয় ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যানও টিম কুককে একজন ‘কিংবদন্তি’ হিসেবে সম্মান জানিয়েছেন।
নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টিমোথি হাবার্ড মনে করেন, কুকের আমলে অ্যাপল একটি শক্তিশালী সিস্টেমকে নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে শিখেছে। এখন টার্নাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো অ্যাপলকে আবার সেই দ্রুত উদ্ভাবনের ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া, যেখান থেকে কোম্পানিটি শুরু হয়েছিল।