সরকারি প্রশিক্ষণে হিজড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নেই, সুযোগ থাকলেও পৌঁছাচ্ছে না তথ্য

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা © সংগৃহীত

সম্প্রতি সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) থেকে চার মাস মেয়াদি ‘মোটর ড্রাইভিং উইথ বেসিক মেইনটেন্যান্স’ প্রশিক্ষণ কোর্সে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে মোট ৫০ জনকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। মহিলা প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের বিষয়ে কিছুই উল্লেখ নেই।  

শুধু এই একটি বিজ্ঞপ্তি নয়, সাতক্ষীরায় সরকারি কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে হিজড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের চিত্রও প্রায় শূন্য। সরকারি দপ্তরগুলোর ভাষ্য, বিদ্যমান নিয়মে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বাস্তবে তারা এসব প্রশিক্ষণে আসছেন না। স্থানীয় হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনিশ্চয়তা এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে বৈষম্য বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কাই তাদের বড় বাধা।

সাতক্ষীরা টিটিসিতে নিয়মিত ও ভাষা প্রশিক্ষণসহ ১০টির বেশি ট্রেড ও কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তিন মাস মেয়াদি পেশাভিত্তিক কোর্স, ২ডি ও ৩ডি সিএডি ডিজাইন ও ড্রাফটিং, বৈদ্যুতিক কাজের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং ও কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস সরঞ্জাম মেরামত এবং দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ড্রাইভিং উইথ অটোমেকানিক্স কোর্স। পাশাপাশি কোরিয়ান ও জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণও পরিচালিত হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টিটিসির বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কোর্সে মোট ২ হাজার ৬১ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৫৭৮ জন এবং নারী ৪৮৩ জন। প্রশিক্ষণ শেষে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯০৭ জন পুরুষ ও ৩৯৩ জন নারী। তবে ওই দুই অর্থবছরে হিজড়া জনগোষ্ঠীর কোনো সদস্য প্রশিক্ষণ নিয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

২০১২ সালে সাতক্ষীরা শহরতলির বিনেরপোতায় টিটিসি স্থাপনের পর থেকে হিজড়া জনগোষ্ঠীর কোনো সদস্য প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কি না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা টিটিসি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া নারী প্রশিক্ষার্থীরা

টিটিসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অপু হালদার বলেন, কোনো প্রকল্পের অধীনে প্রশিক্ষণ পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্টসংখ্যক নারীকে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয় থাকে। উদাহরণ হিসেবে এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত কোনো প্রকল্পে ৩০ শতাংশ নারী কোটা পূরণের নির্দেশনা থাকতে পারে। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট কোর্সে নারী কোটা রাখা হয়। তবে টিটিসির নিয়মিত কোর্সগুলোতে এ ধরনের নির্দিষ্ট কোটা থাকে না, সেখানে যোগ্যতা অনুযায়ী যে কেউ আবেদন করতে পারেন।
গত পাঁচ বছরে কতজন হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্য টিটিসিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন? জানতে চাইলে অপু হালদার বলেন, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। তার জানা অনুযায়ী, এ সময়ে হিজড়া জনগোষ্ঠীর কেউ প্রশিক্ষণ নেননি।

হিজড়া জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণে যুক্ত করতে টিটিসির পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওরকম সুযোগ হয়ে ওঠেনি।

অপরদিকে, সাতক্ষীরা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনেও যুবসমাজকে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত আবাসিক ও অনাবাসিক বিভিন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ চলছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চলমান প্রধান প্রশিক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি পালন, প্রাথমিক চিকিৎসা, মৎস্য চাষ ও কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার বেসিক অ্যান্ড আইসিটি অ্যাপ্লিকেশন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, আধুনিক পোশাক তৈরি, কাটিং ও ডিজাইন, ফ্রিল্যান্সিং, বিউটিফিকেশন, হস্তশিল্প ও ওয়েল্ডিং। এসব কোর্সে বর্তমানে ৬৫০ জন পুরুষ ও ৩৫০ জন নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও একই সংখ্যক পুরুষ ও নারী বিভিন্ন কোর্সে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে এসব প্রশিক্ষণে হিজড়া জনগোষ্ঠীর কোনো সদস্য অংশ নিয়েছেন এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপপরিচালক সঞ্জীত কুমার দাস বলেন, হিজড়া ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণ প্রক্রিয়ায় তাদের প্রশিক্ষণে যুক্ত করা সম্ভব এবং এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।

তিনি বলেন, আমাদের তো নেওয়ার সুযোগ আছে। আমরা সবাইকে ট্রেনিং দিতে পারি, সমস্যা নাই। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, হিজড়াআমরা সবাইকে দিতে পারি। কিন্তু কেউ তেমন আসেননি।

হিজড়া জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আলাদাভাবে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আলাদাভাবে তাদের নিয়ে আলাদা কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। ইন জেনারেল আমরা যে কাজগুলো করি, তাদের সেগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারি।

উপপরিচালক বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এসব বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। জাতীয় পত্রিকাতেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় এবং কেন্দ্রীয়ভাবেও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি দেখে আগ্রহীরা আবেদন করে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

সরকারি দপ্তরগুলোর বক্তব্যে সুযোগ উন্মুক্ত থাকার কথা বলা হলেও স্থানীয় হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তাদের মতে, শুধু বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেই প্রশিক্ষণের সুযোগ কার্যকরভাবে তাদের কাছে পৌঁছে যায় না।

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতার পর সাতক্ষীরা ছেড়ে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন হিজড়া জনগোষ্ঠীর সুমাইয়া অ্যানি (ছদ্মনাম)। বকশিশ সংগ্রহ, সামাজিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আয় করেই চলছে তার জীবন।

সাতক্ষীরা টিটিসি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া পুরুষ প্রশিক্ষার্থীরা

অ্যানি বলেন, আমাদের মতো অনেকেই প্রচলিত চাকরি বা ব্যবসায় সহজে প্রবেশ করতে পারেন না। তাই বাড়ি বাড়ি বা দোকানে বকশিশ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। বিয়ে, সন্তান জন্ম ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও আশীর্বাদ ও বকশিশের মাধ্যমে আয় করি। কেউ কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসা, হস্তশিল্প, বিউটি পার্লার, রান্না বা টেইলারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত আছেন। আবার কেউ এনজিও, কমিউনিটি সংগঠন, স্বাস্থ্যসেবা, মানবাধিকার ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কাজ করছেন।

নিজেদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের অনেকেরই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা বা প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতা রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপহাস, হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হতে হয়। কর্মক্ষেত্রেও চাকরি পাওয়া এবং টিকে থাকার ক্ষেত্রে বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবা গ্রহণের সময়ও অনেক ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর আচরণ বা বৈষম্যের শিকার হতে হয়।

অ্যানির বলেন, সামাজিক বৈষম্যের কারণে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেকের আনুষ্ঠানিক চাকরির সুযোগ সীমিত। ফলে অনানুষ্ঠানিক ও অনিশ্চিত আয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়ে। নিয়মিত আয় না থাকা, সঞ্চয় ও ব্যাংকিং সুবিধার সীমিত ব্যবহার, প্রশিক্ষণের সুযোগের অভাব এবং ব্যবসা শুরু করার জন্য মূলধনের সংকট তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

স্থানীয় হিজড়া প্রতিনিধি চন্দনা খাতুন বলেন, ২০১৩ সালে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিলেও ভর্তি ফরমে আমাদের উল্লেখ নেই। সমাজসেবা অফিস কিছু ভাতা বা সেলাইয়ের কাজ শেখায়, কিন্তু আমরা ড্রাইভিং, কম্পিউটার, ফ্রিল্যান্সিং বা অটোমেকানিকস শিখে মূলধারায় কাজ করতে চাই। স্পষ্ট তথ্য ও সুযোগের উল্লেখ না থাকলে আমরা কোন সাহসে এসব দরজায় যাব?

অধিকারভিত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হিজড়া প্রতিনিধি বৃষ্টি খাতুন বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসেবে পরিবার ও সমাজে নানা ধরনের বৈষম্যের অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। প্রশিক্ষণ নিতে গেলেও অপমান, উপহাস বা বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কা কাজ করে।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় দুটি বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকলেও তথ্যের অভাব ও আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে আমরা সেখানে পৌঁছাতে পারি না। আমাদের প্রতি দয়া নয়, সমান সুযোগ দরকার। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ভর্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণে আমাদের সহায়তা করে, তাহলে আমরাও স্বাবলম্বী হতে পারব।

আরেক হিজড়া প্রতিনিধি মেঘলা আক্তার বলেন, প্রশিক্ষণে আমাদের আগ্রহের ঘাটতি নেই, তবে আগ্রহ প্রকাশ করার পরিবেশ তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, সরকারি দপ্তরে একা গিয়ে আবেদন করার ক্ষেত্রেও ভয় বা জড়তা কাজ করে। সেখানে গেলে মানুষ অদ্ভুতভাবে তাকাবে, ট্রোলিং বা অপমান করবে কি না এই আশঙ্কা থাকে।

মেঘলা বলেন, নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া আমরা কীভাবে সেখানে বসে ড্রাইভিং বা কম্পিউটার শিখব? টিটিসি বা যুব উন্নয়ন থেকে যদি সরাসরি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তথ্য আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়, তাহলে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার আগ্রহ অনেক বাড়বে।

সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে ১৭৭ জন হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্য সরকারি ভাতা পাচ্ছেন। গত অর্থবছর পর্যন্ত ভাতার পরিমাণ ছিল মাসে ৬৫০ টাকা। চলতি অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। তবে ভাতার অর্থ তিন মাস পরপর পরিশোধ করা হয়।

কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২১ সালে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য দুই দফায় প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছিল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়। প্রতিটি দফায় ৩০ জন করে মোট ৬০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের বিষয় ছিল পশুপালন, নকশিকাঁথা ও বুটিকস এবং বিউটি পার্লার।

তবে বর্তমানে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বা টিটিসির মতো প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আলাদা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নেই। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব বলে জানিয়েছে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়।

এ ছাড়া সমাজসেবা কার্যালয়ের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করে আবেদন করলে তারাও এসব প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এস. এম. রফিকুল ইসলাম বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য কয়েক বছর আগে একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল। বর্তমানে প্রশিক্ষণের বরাদ্দ এলে তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব। তবে এ ধরনের প্রশিক্ষণ নির্দিষ্ট করে বরাদ্দ দেওয়া থাকে না, বরাদ্দ ও চাহিদার ভিত্তিতেই প্রশিক্ষণের বিষয় নির্ধারণ করা হয়।

হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের ভাতা নয়, প্রয়োজন টেকসই আয়ের পথ উল্লেখ করে ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার (এইচআরডি) নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মুহা. মুনির উদ্দিন বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে শুধু ভাতা বা প্রচলিত প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না; তাঁদের স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে সরাসরি বসে তাদের আগ্রহ, দক্ষতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের বিষয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর শুধু সনদ দিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে প্রয়োজনীয় উপকরণ, প্রাথমিক পুঁজি, কর্মক্ষেত্র ও পণ্য বিক্রির বাজারের ব্যবস্থাও করতে হবে।

মুনির উদ্দিনের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কী করা হবে, তা শুধু সরকারি দপ্তর থেকে নির্ধারণ না করে তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখা। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত মডেল তৈরি করে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।

অ্যাডভোকেট মুহা. মুনির উদ্দিন আরও বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। তাদের জন্য এমন শিক্ষাবান্ধব ও বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা নিরাপদে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন এবং নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পান। শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারা মূলধারার সমাজের সঙ্গে আরও সহজে সম্পৃক্ত হতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতার পথও তৈরি হবে। 

২০১৩ সালে হিজড়া জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যেকোন আবেদন ফরমেই নারী-পুরুষের পাশাপাশি হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গে মানুষের জন্যও একটি অপশন রাখা প্রয়োজন। 

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে করতে পারেন যে ৩ ব্যায়াম
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্যতা কমাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
নোবিপ্রবি মেডিকেল সেন্টারে টানা ৪ দিন পানি সরবরাহ বন্ধ, চরম…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়ায় ২১ লাখ ফলোয়ার, নির্বাচনে পেলেন ৩৩ ভোট
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
শিক্ষার্থী ১৯৯, উপস্থিত ১১ জন, হঠাৎ হাজির ইউএনও— শোকজ দুই শ…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
কেনিয়া থেকে যু্ক্তরাষ্ট্রের মিডটার্ম ইলেকশন, বিশ্বজুড়ে নির্…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950