কথা বলছেন ড. রুশাদ ফরিদী © সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদী বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বার্গেইনিং বডি হিসেবে থাকার কথা, যেটা প্রশাসনের কাছে শিক্ষকদের স্বার্থের কথা বলবে। তারা যদি প্রশাসনের সাথে সুর মিলিয়ে কথা বলে, প্রশাসন যেটা বলে তারাও সেটাই বলে কারণ তারাও তো আসলে ওই ক্ষমতাসীন দলের পৃষ্ঠপোষকতা চায়। কারণ শিক্ষক সমিতির যে প্রধান হয়েছে, তার টার্গেট হলো ভিসি হওয়া। আর ভিসি তো রাজনৈতিক দলের আশীর্বাদ ছাড়া হওয়া সম্ভব না।
আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক আয়োজিত ‘অভ্যুত্থান-উত্তর বিশ্ববিদ্যালয়: সাম্প্রতিক বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
ড. রুশাদ ফরিদী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার ৯৯ শতাংশ হচ্ছে শিক্ষকদের কারণে। কারণ শিক্ষকই তো জানা। শিক্ষকরা যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ক্ষুদ্র লোভ-লালসা ত্যাগ না করবেন, প্রকৃত শিক্ষক হয়ে উঠবেন না, এবং একটা একাডেমিক প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক স্বার্থ রক্ষার জন্য চেষ্টা করবেন না— নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ বা উচ্চবিলাস ত্যাগ না করে— তখনই এই বিশ্ববিদ্যালয় উন্নতির দিকে যাবে।
তিনি বলেন, ডাকসু ইলেকশন একটা ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। কারণ এটা আমাদের জন্য শক ছিল যে, এইভাবে যারা ধর্মীয় আইডেন্টিটি পলিটিক্স করে, এমন একটা দল কীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতায় আসতে পারে? কিন্তু সেখানে যেমন সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটা দায় আছে, অল্টারনেটিভ পলিটিক্সের শূন্যতাও আছে। সব মিলিয়েই সেটা হয়েছে।
ডাকসুর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, পরবর্তীকালে আমরা কী দেখলাম? সুশৃঙ্খল মব শুরু হলো। আমরা একটা ভিডিও দেখেছি— সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপককে কীভাবে হেনস্তা করলো নির্বাচিত নেতারা। তারপর শিশু-কিশোরদের নির্যাতন হলো। তাদেরকে কান ধরে উঠবস করানো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে, এগুলো করেছে নির্বাচিত নেতারা।
‘‘তো এইসব নেতাদের নির্বাচিত করার মধ্যে যারা ভোট দিয়েছে, তাদেরও কিন্তু একটা বড় দায় আছে। এখন যদি আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাই— একটা জাতীয় নির্বাচন হলো, তারপরে কী পরিস্থিতি হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে? পরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন— ‘মব কালচার শেষ।’ তার কয়েকদিনের মধ্যেই কী ঘটলো? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বর্তমান ছাত্রী এবং তার দুইজন সহযোগীর উপর বহিরাগতরা হামলা চালিয়ে আহত করলো। হামলাকারীদের কিছু করা হলো না। কিন্তু যারা আহত হয়েছেন, তাদেরই চলে যেতে হলো।’’