শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন © ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে নন-এমপিও সাধারণ শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনো এমপিওভুক্তির দাবিটি উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে, যার ফলে হাজারো শিক্ষক-কর্মচারীর পরিবারে অনিশ্চয়তা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রবিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে টাঙ্গাইলের এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কবে নাগাদ এমপিওভুক্ত হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। মন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান’ করেছে নন-এমপিও সাধারণ শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদ।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা বিভিন্ন ধাপে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে আবেদন আহবান করে। ওই আহবানের পর প্রায় ৩ হাজার ৬০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করে। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচনা করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়।
নন-এমপিও সাধারণ শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের দাবি, পুরো তালিকাটি স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে একটি ‘কুচক্রী মহল’ এই তালিকার বিরোধিতা করে বিভিন্ন দপ্তরে চাপ সৃষ্টি করেছে, যাতে সরকার নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করতে না পারে।
সংগঠনটি বলছে, আর কোনো কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করে সেগুলোকে এমপিওভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যেই এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়।
পরিষদের নেতারা বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় বেতনবিহীন বৈষম্য রেখে জাতিকে শিক্ষিত করা সম্ভব নয়। সমাজের একটি বড় অংশকে অবহেলা করে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করাও উচিত নয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষামন্ত্রী এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলবেন যেখানে শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো বৈষম্য থাকবে না।
এ বিষয়ে নন-এমপিও শিক্ষক নেতা মো. কবির উদ্দিন বলেন, ‘আমি এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও আজ পর্যন্ত বেতনের মুখ দেখতে পারিনি। সামনে ঈদ, কিন্তু আমার সন্তানদের জন্য ঈদের জামা-কাপড় কেনার সামর্থ্যও নেই।’
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনার আহবান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, দ্রুত ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হলে হাজারো শিক্ষক-কর্মচারীর পরিবারে স্বস্তি ফিরে আসবে।