© লোগো
২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর বির্তকিত ৩২ জন নেতাকে কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী পরিষদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে শিগগিরই পদগুলো পূরণ করা হবে বলে জানায় ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। দায়িত্বে নেয়ার তিন মাসের মাথায় এই ঘোষণার পর এক বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনও শূন্য পদ পূরণ করতে পারেনি জয়-লেখক।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদ শেষ হয়ে একবছর পার হয়ে গেছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন আবাসিক হল কমিটির একবছর মেয়াদের সময় পেরিয়ে চারবছর হয়েছে গত ১৩ তারিখ। এর ফলে কেন্দ্রীয় ও ঢাবির হল কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে সংগঠনের আংশিক কমিটি ঘোষিত হয়। এর প্রায় এক বছর পর ২০১৯ সালের ১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটি ঘোষণার দিন থেকেই কমিটি পুনর্গঠনের দাবি তোলেন পদবঞ্চিত ও কাক্সিক্ষত পদ না পাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। সেদিন থেকেই দীর্ঘ ৩৩ দিন ধরে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। পরে ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই থেকে তিন দিন আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
ওই সময় বিক্ষুব্ধরা ছাত্রলীগের নতুন পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া ৯৭ জনকে বিতর্কিত দাবি করে তাদের একটি তালিকাও প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, পদপ্রাপ্তদের মধ্যে বিবাহিত, অনুপ্রবেশকারী, মাদকসেবী, মামলার আসামি, কারও বয়স পেরিয়ে গেছে, চাকরিজীবী এবং ছাত্রদল কিংবা শিবির থেকে আসা ব্যক্তিরাও রয়েছে। তাই তাদেরকে বহিষ্কার করে যোগ্যদের পদায়ন করার দাবি ওঠে।
একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শোভন ও রাব্বানীকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে তাঁদের পরিবর্তে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি জয় ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক এ দায়িত্বে আসেন। এর তিনমাস পর ১৭ ডিসেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৩২ জন নেতাকে কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী পরিষদের কমিটি থেকে বাদ দেয়ার কথা জানায় জয়-লেখক। এরপর শিগগিরই ক্লিন ইমেজের অধিকারী, বিতর্কিত মুক্ত এবং অধিক পরিশ্রমীদের শূন্যপদগুলোতে পদায়ন করবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তারা। কিন্তু একবছর পরেও পদগুলো পূরণ করতে পারেননি জয়-লেখক। এছাড়াও বিভিন্ন সময় পদত্যাগ, অব্যহতি এবং বাতিলকৃত পদসহ প্রায় অর্ধশত পদ এখনো শূন্য রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পদপ্রত্যাশী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর এসব পদ শূন্য হওয়ার পর প্রায় অর্ধশত পদপ্রত্যাশী সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন, এমনকি এখনও আছেন। কিন্তু এরপর থেকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ গত ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব পদ পূরণের কথা বলেছিলেন। কিন্তু এ ব্যাপারে কোন তৎপরতা দেখা যায়নি।
পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপ-দপ্তর সম্পাদক শেখ নকিবুল ইসলাম সুমন বলেন, গত ১৬ ডিসেম্বরের সময়ে আমি সভাপতি কে এ বিষয়ে অবহিত করি। উনি আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু এখনো পর্যন্ত সে ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ হাতে না নেওয়া তা খুবই দুঃখজনক। আমি আশা করবো অতিসত্বর শূন্যপদগুলো পূরণ করে পদ প্রত্যাশীদেরে মনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করা হোক। এ ক্ষেত্রে তারা যদি প্রতিবারের মতো ব্যর্থতার পরিচয় দেয় তাহলে তাদের উচিত অধিক যোগ্যদের তাদের পদে স্থান দিয়ে পদত্যাগ করা।
কবে নাগাদ শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি ও হল কমিটি কবে দেওয়া হবে- তা জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য। এছাড়া ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার প্রতিউত্তর দেননি তারা।
তবে সম্প্রতি লেখক ভট্টাচার্য গণমাধ্যমকে বলেন, গত বছর আমরা ৩২ জনকে বহিষ্কার করেছি। তারপর অনেকেই বিভিন্ন কারণে অব্যাহতি নিয়েছেন। সব মিলিয়ে আমাদের এখন ৫০-এর মতো পদ শূন্য আছে। আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করছি। সামান্য কিছু কাজ এখনও বাকি আছে। এগুলো শেষ হলেই খুব শিগগিরই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করব।
ঢাবির হল কমিটি কবে দেওয়া হবে, জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে আমাদের সাংগাঠনিক কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে গেছে। সাংগাঠনিক কর্মীদের পদায়নের বিষয়টা আমরা গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করছি। কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের পরামর্শ ও সিদ্ধান্তক্রমে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অতি দ্রুততার সাথে আমরা এ কাজ সম্পন্ন করবো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাবির এক হলের পদপ্রত্যাশী জানান, শোভন-রাব্বানীর পথে হাটছে জয়-লেখক। এই কার্যক্রম ছাত্রলীগের জন্য অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ভবিষ্যত নেতৃত্ব শূন্যতায় ভুগবে বলে আমি মনে করি। ছাত্রলীগকে গতিশীল করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি এবং হল কমিটি দেওয়ার কোন বিকল্প নেই বলে অভিমত তার।