ছাত্রদল নেতা তানভীর বারী হামিম © সংগৃহীত
১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের জসীমউদ্দিন হল শাখার আহ্বায়ক তানভীর বারী হামিম। তিনি বলেন, এতে দেশের পুরোনো অপসংস্কৃতি নিয়ে জনমনে অনাস্থার প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাই ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর যথাযথতা ও বাস্তবতা জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন তানভীর বারী হামিম।
হামিম লেখেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে চাকুরী ক্ষেত্রে, পদায়ন-প্রয়োজনীয় বদলি এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতির ঘোরতর বিরোধী একজন মানুষ। যার যোগ্যতা আছে তার চাকুরি হোক, যার মেধা আছে সে পদায়িত হোক। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মানুষ আজো টাকার বিনিময়ে চাকুরি খুঁজে। অনেকে ভিটেমাটি বিক্রি করে হলেও চাকুরি পাওয়ার জন্য টাকা খরচ করতে চায়। আমাকে বিভিন্ন সময় আমার পরিচিত মানুষজন ফোন করে বলে টাকা খরচ করতে রাজি কিন্তু তাদের চাকুরির প্রয়োজন।’
তিনি লেখেন, ‘আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছি- “আপনাদের এরকম মনোভাব কেন যে টাকা দিলেই চাকুরি হয়?” তারা উত্তর দিয়েছে- “এটাই নাকি যুগের পর যুগ এ দেশের সংস্কৃতি।” অর্থাৎ, এ দেশের মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজ দুর্নীতি পর্যবসিত। এ দেশের অধিকাংশ মানুষের মাইন্ড সেট এটাই টাকা দিয়ে চাকুরী হয়। আমি অনেক কষ্ট পাই, অবাক হই। নিজের কাছে খারাপ লাগে। দেশের এই অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে মেধার ভিত্তিতে চাকুরি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার। দেশের দায়িত্ব পাওয়ার ৬ মাস অতিবাহিত হলেও কোনও চাকুরি ক্ষেত্রে দুর্নীতির তথ্য এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি। এটার জন্য একটি ধন্যবাদ তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার অবশ্যই প্রাপ্য।’
ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আজকে বিভিন্ন সংবাদপত্র মারফত জানতে পারলাম ১১-২০ তম গ্রেডে ভাইভা তে মার্কস বাড়ানো হচ্ছে। এতে জনমনে দেশের পুরানো অপসংস্কৃতি থেকে অনাস্থার প্রশ্ন উঠা অনেকটাই স্বাভাবিক। আমি দায়িত্বশীলদের ভাইভাতে মার্কস বাড়ানোর বিষয়টির যথাযথতা নিয়ে ও বাস্তবতা জাতির সামনে তুলে ধরা অথবা বিষয়টির পুনঃবিবেচনার জন্য অনুরোধ করব। আমি সকল চাকুরিপ্রার্থীদের আশ্বস্ত করতে চাই- আপনার নি:সন্দেহে- নির্দ্বিধায় তারেক রহমানের উপর ভরসা রাখুন। দুর্নীতির বিষ দাঁত বাংলাদেশ থেকে ক্রমান্বয়ে উৎপাটন করা হবে। চাকুরি হবে মেধা ও যোগ্যতায়। যার যেখানে মেধা তার সাক্ষরে উজ্জ্বল হোক সেই স্থান ….বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’