অস্বচ্ছল শিক্ষার্থী ও ববি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক © টিডিসি ফটো
ভর্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে যখন উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল, ঠিক তখনই পাশে দাঁড়ালেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত। তার ব্যক্তিগত আর্থিক সহায়তায় অর্থসংকটে থাকা এক মেধাবী শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে বিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। বুধবার (৮ জুলাই) চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম চলাকালে শিক্ষার্থীর হাতে ভর্তির প্রয়োজনীয় অর্থ তুলে দেন ববি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত।
জানা যায়, ওই শিক্ষার্থী প্রাথমিক ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করলেও চূড়ান্ত ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে পারছিলেন না। অর্থসংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়ান আরিফ হোসেন শান্ত।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘ভর্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে আমি চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন আর পূরণ হবে না। ঠিক সেই কঠিন সময়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন শান্ত ভাই আমার পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাঁর এই মানবিকতা আমি আজীবন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখব। এর আগেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে তাঁর কথা শুনেছিলাম। সেই বিশ্বাস থেকেই তাঁর কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলাম, আর তিনি আমাকে নিরাশ করেননি।’
এ বিষয়ে ববি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, রাজনীতি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম নয়; রাজনীতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, মানবিক মূল্যবোধের চর্চা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার। একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সামান্য অবদান রাখতে পেরে আমি আনন্দিত। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে সাম্য, মানবিকতা ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখছেন, সেই দর্শন ধারণ করেই আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আমরা চাই, বাংলাদেশের কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়।’
সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ান। সম্মিলিত উদ্যোগই পারে একটি প্রজন্মের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং একটি মানবিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।’