ছাত্রশিবিরের লোগো © টিডিসি ফটো
রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম কর্তৃক তেলের টাকা পরিশোধ না করে পাম্প শ্রমিক রিপনকে গাড়ি চাপা দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশ থেকে স্বৈরাচারের পতন ঘটলেও একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতার ভেতরে গেঁথে থাকা দমন-পীড়নমূলক ও খুনে মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে একজন শ্রমিককে নির্মমভাবে হত্যা করা প্রমাণ করে তারা সাধারণ মানুষকে মানুষ হিসেবেই গণ্য করে না। আমরা এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং নিহত শ্রমিক রিপনের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, রাজবাড়ীর একটি পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে টাকা না দিয়েই চলে যাচ্ছিলেন অভিযুক্ত আবুল হাসেম। পাম্পের কর্তব্যরত শ্রমিক রিপন ন্যায্য পাওনার দাবিতে গাড়ির পেছনে দৌড়ালে তাকে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। ন্যায্য টাকা চাইতে গিয়ে একজন শ্রমিককে এভাবে প্রাণ দিতে হবে—এটি যেকোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্য চরম লজ্জাজনক।
‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হলেও খুন, চাঁদাবাজি ও দখলদারিনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য দিবালোকে পাথর মেরে মানুষ হত্যার ঘটনা দেশবাসী এখনো ভুলে যায়নি। স্বৈরাচার পতনের পর থেকে আজ পর্যন্ত বিএনপি নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে সারা দেশে অন্তত দুই শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে। এমনকি আজ ময়মনসিংহে নির্বাচনি সহিংসতায় এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যা ঘটনা প্রমাণ করে—তারা দেশে নতুন করে ত্রাসের রাজত্ব ও স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে চায়।’
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্ত আবুল হাসেমকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে শুধু গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আমরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে নিহত শ্রমিক রিপনের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি যারা সন্ত্রাস, দখলদারি ও হত্যার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।