ছাত্রদলের আপত্তিকর শব্দ চয়ন ও হুমকির প্রতিবাদে জাবিতে মানববন্ধন 

২৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৩১ PM , আপডেট: ২৪ জুন ২০২৫, ১২:৪৯ PM
মানবন্ধনে জাবি শিক্ষার্থীরা

মানবন্ধনে জাবি শিক্ষার্থীরা © টিডিসি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রদলের ভ্যাক্সিন প্রদান কর্মসূচির অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে 'জাগোনিউজ২৪.কম'- এর জাবি প্রতিনিধি সৈকত ইসলামকে হুমকি প্রদান ও ছাত্রদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের প্রতি আপত্তিকর শব্দ ব্যবহারের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস)। 

রবিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত সাংবাদিকরা এ কর্মসূচি পালন করেন। 

সংহতি জানিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব, গণ অভুত্থ্যান রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগসাস), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বিভিন্ন বিভাগের নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে জাবিসাসের সম্পাদক আব্দুল্লা আল মামুন এর সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, ভ্যাক্সিন কর্মসূচির অন্তরালে অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির নিউজ প্রকাশের জেরে 'জাগোনিউজ ২৪.কম'- এর সাংবাদিক সৈকতকে হুমকি এবং সাংবাদিকদের নিয়ে ছাত্রদলের বিবৃতিতে আপত্তিকর শব্দচয়ন স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি স্পষ্ট হস্তক্ষেপ।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, বাক স্বাধীনতার ও স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের উপর যে হস্তক্ষেপ আমরা সেটা গত ৫ আগস্ট ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছি। নতুন করে এসব করতে চাইলে রুখে দিতে বিলম্ব করা হবে না। গত ১৫ বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরাসহ দেশের অন্যান্য সাংবাদিকরা জেল জুলুম ভয়ভীতির তোয়াক্কা না করে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করে এসেছে। জুলাই আন্দোলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আহত সাংবাদিকদের রক্তমাখা ছবি আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা সেই জাহাঙ্গীরনগরের সাংবাদিকদের দেওয়া ভয়ভীতি ও চাপ বরদাস্ত করবো না

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখার আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, গত ১৫ বছর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বৈরাচারের মদদপুষ্ট প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা তাদের কলম চালিয়ে গিয়েছে। আপনারা যারা নব্য ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতেছেন আপনাদের ভয়ভীতি এই সাংবাদিকদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর ছাত্রদল যে ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এটা স্পষ্টত স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি হস্তক্ষেপ। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ যে বিবৃতি  দিয়েছে তা অন্যান্য ইউনিটগুলোকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আরো উদ্বুদ্ধ করবে। তার সংবাদ প্রকাশের কোন ধরনের ভুল থাকলে সেটার জন্য লিগ্যাল প্রসিডিউরস না গিয়ে তাকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়। আপনারা যদি ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চান তাহলে আপনাদের বিরুদ্ধেও শিক্ষার্থীরা রুখে দাঁড়াবে।

জাবি সাংবাদিক সমিতির  সভাপতি ও বণিক বার্তার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মেহেদী মামুন বলেন,  ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে যে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য সবার আগে গুলির মুখে বুক পেতে দিয়ে ছিল জাবি সাংবাদিকরা। সাংবাদিকদের এখন নির্ভয়ে লেখালেখির কথা ছিলG কিন্তু তার পরিবর্তে আজ তাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে।  এর থেকে লজ্জার আর কি হতে পারে! ছাত্রদলকে বলতে চাই, আপনাদের দুর্দিনে সাংবাদিকরাই পাশে ছিল। আবার একই পরিস্থিতি ফিরলে হয়ত তাদেরই থাকতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সময়ের আলোর সাংবাদিক সাব্বির আহমেদকে বলতে চাই, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এসে আপনি কীভাবে অন্য একজন পেশাদার সাংবাদিককে হুমকি দিতে পারেন। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেইসাথে আগামীতে যদি কোন সাংবাদিকের উপর কোন হুমকি আসে তাহলে আমরা কোনোভাবেই ছাড় দেবে না।

গণ-অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা আশা করেছিলাম কেউ কোন ভুল করলে তার জন্য ক্ষমা চাইবে; কিন্তু তার উল্টোটা দেখতেছি।  আমরা দেখতে পাচ্ছি জাগোনিউজের জাবি প্রতিনিধি সৈকত ছাত্রদলের ভ্যাক্সিন কর্মসূচির পেছনের দুর্নীতি নিয়ে নিরপেক্ষভাবে একটি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেছিল। এজন্য ছাত্রদল তো ক্ষমা চায়নি বরং সেই নিউজ করার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি এবং চাপ দেওয়া হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সৈকত শুধু একা নয়। আমরা হাজার হাজার সৈকত এখনো বেঁচে আছি। যেকোনো পরিস্থিতিতে শুধু সৈকত নয় বরং সকল সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবসময়ই তাদের পাশে আছি।

জাবি প্রেসক্লাব এর সভাপতি ওয়াজহাতুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরেও সাংবাদিকদের জন্য স্বাধীন পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। আজও তাদের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে সংবাদ লেখার জন্য। সাংবাদিকের লেখার কোনো ভুল হলে একটি যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবাদ করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তা না করে পেশি শক্তির মাধ্যমে নিউজ সরিয়ে ফেলতে চাপ প্রয়োগ করেন এবং সাংবাদিকের উদ্দেশ্য করে যে শব্দ ব্যবহার করেছে তা খুবই নিন্দনীয়। এজন্য ছাত্রদলকে নতুন করে বিবৃতি দিতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে থাকা অপকর্মগুলোর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল জাগোনিউজের জাবি প্রতিনিধি সৈকত ইসলাম ‘আওয়ামী এমপিকে পুনর্বাসন / ভাগ বাটোয়ারা দ্বন্দ্বে জাবিতে ভ্যাকসিন কর্মসূচি স্থগিত’ এই শিরোনামে 'জাগোনিউজ' থেকে স্বনামে একটি নিউজ প্রকাশিত হলে নানাভাবে তাকে হুমকি প্রদান এবং চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়। এবং ঐ দিন 'সময়ের আলো'- এর জনৈক স্টাফ রিপোর্টার সাব্বির আহমেদ তাকে এই নিউজের সাথে কেন্দ্রীয় সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসিরের সম্পর্কের প্রমাণ আছে কি না এমন প্রসঙ্গ তুলে নানাভাবে জেরা এবং রিট হবে বলে হুমকি প্রধান করেন।

কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইনের পাশে হাঁটছিলেন শিক্ষার্থী, ট্…
  • ০৯ জুন ২০২৬
এমন সমতাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা লাগবে, যা কোনো শিক্ষার্…
  • ০৯ জুন ২০২৬
ফেনীতে মেডিকেল কলেজ না দিলে সংসদে আমরণ অনশন করবেন ৪ এমপি
  • ০৯ জুন ২০২৬
সাউথইস্টে ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় জেনেটিক ডেটা ব্যবস্থাপনা নি…
  • ০৯ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে লাইভ শপিং পেল আইএসও সনদ
  • ০৯ জুন ২০২৬
সিটি করপোরেশনের বর্জ্যবাহী ট্রাকচাপায় ছাত্রদল-যুবদলের ২ নেত…
  • ০৯ জুন ২০২৬