‘সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যবৃন্দ’র ব্যানারে মতবিনিময় সভা © সংগৃহীত
তরুণদের নেতৃত্বে যে নতুন রাজনৈতিক দল শিগগির আসছে, তাতে কোনো পরিবারতন্ত্র থাকবে না বলে জানিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘বাপ নেতা হলে ছেলে নেতা হবে—এই ট্র্যাডিশন (ধারা) আর থাকবে না। আপনি যদি যোগ্য হন, তাহলে আপনাকে আমরা চেয়ার ছেড়ে দিতে বাধ্য থাকব।’
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ‘সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যবৃন্দ’র ব্যানারে মতবিনিময় সভাটির আয়োজন করা হয়।
সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্যদের নতুন রাজনৈতিক দলে স্বাগত জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের, নতুন চিন্তাধারার রাজনীতির কথা ছড়িয়ে দিন। আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে। ভোটের রাজনীতিতে আসুন। এই রাজনীতি যেন জনগণের রাজনীতি হয়। আপনারা একজন চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর বা এমপি-মন্ত্রী হয়ে উঠুন।’
তরুণদের গণতান্ত্রিক রাজনীতি বাধাগ্রস্ত করলে সশস্ত্র বিপ্লব হবে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শেখ হাসিনার পতনের আগে সশস্ত্র বিপ্লবের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সেই ঘোষণা এখনো আছে। কোনো রাজনৈতিক দল থেকে কিংবা কোনো বিদেশি শক্তি থেকে তরুণদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগ্রামে বাধা আসে, তাহলে বিপ্লবের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তারা।
মতবিনিময় সভায় সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সৈনিকেরা বক্তব্য দেন। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদের বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক কমিটির রাজনীতিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করার এবং ভ্যানগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করার প্রতিশ্রুতি দেন।
সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রুকন উদ্দিন বলেন, ছাত্রনেতৃত্বের ওপর শকুনের থাবা ওত পেতে আছে। তাদের নানাভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। অবৈধ টাকা ছড়াচ্ছে পতিত ফ্যাসিবাদ। এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন খালেদ হোসাইন আগামীতে তরুণদের দল ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবে বলে মনে করেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর গোলাম হায়দার তরুণদের যে কোনো উদ্যোগে পাশে থাকার ঘোষণা দেন।