ঝুলে থাকা অবস্থায় পুলিশের গুলি করা সেই তরুণ বেঁচে আছেন

১৯ আগস্ট ২০২৪, ০৪:১৫ PM , আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৫, ১১:৩৪ AM
আমির হোসেন

আমির হোসেন © সংগৃহীত

ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঝুলে থাকা তরুণকে লক্ষ্য করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গুলি করার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, আন্দোলনকারী ছেলেটি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। 

জানা গেছে, সেই তরুণ বেঁচে আছেন। তার নাম আমির হোসেন (১৮)। তিনি বলেছেন, ঘুমের মধ্যে এখনো স্বপ্নে দেখি, পুলিশ আমাকে গুলি করছে। আমিরের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে। ছয়-সাত বছর আগে মাকে হারিয়ে তারা তিন ভাই-বোন ঢাকায় চলে আসেন। বাবা বিল্লাল মিয়া গ্রামে অটোরিকশা চালান। নয়াপাড়ায় একটি টিনশেড বাসায় তিন ভাই-বোন থাকেন।

নির্মাণাধীন ওই ভবনটি রামপুরার মেরাদিয়ার অবস্থিত। গত ১৯ জুলাই সেখানে গুলিবিদ্ধ হন আমির। তিনি জানান, একজন শিক্ষার্থী ও দুজন চিকিৎসক তাকে উদ্ধার করেন। তারপর স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে তিন দিন চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাসায় ফেরেন।

আমিরের দুই পায়ে মোট ছয়টি গুলি করেছে পুলিশ। গুলিগুলো এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এখন তাকে বিছানায় পড়ে থাকতে হচ্ছে। 

আমির আরও জানায়, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে পুলিশ ভবনটির চারতলায় উঠে যায়। সেখানে তাকে পেয়ে যায়। পুলিশের সদস্যরা তার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে বারবার নিচে লাফ দিতে বলেন। একজন পুলিশ সদস্য তাকে ভয় দেখাতে কয়েকটি গুলিও করেন। একপর্যায়ে ভয়ে তিনি লাফ দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির রড ধরে ঝুলে থাকেন।

১৯ জুলাই কী ঘটেছিল, জানতে চাইলে আমির হোসেন বলেন, বিক্ষোভের কারণে দোকান বন্ধ ছিল। সেদিন ছিল শুক্রবার। তিনি জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন। বাসার কাছেই পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার মধ্যে পড়ে যান তিনি। পুলিশ গুলি শুরু করে। তিনি দৌড়ে নির্মাণাধীন ভবনটির চারতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন।

আমিরের ভাষ্য, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে পুলিশ ভবনটির চারতলায় উঠে যায়। সেখানে তাঁকে পেয়ে যায়। পুলিশের সদস্যরা তাঁর দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে বারবার নিচে লাফ দিতে বলেন। একজন পুলিশ সদস্য তাঁকে ভয় দেখাতে কয়েকটি গুলিও করেন। একপর্যায়ে ভয়ে তিনি লাফ দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির রড ধরে ঝুলে থাকেন।

আমির বলেন, তিনি যখন ঝুলে ছিলেন, তখন তৃতীয় তলা থেকে একজন পুলিশ সদস্য তাঁকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করেন। গুলিগুলো তাঁর দুই পায়ে লাগে। একপর্যায়ে পুলিশ চলে যায়, তিনি ঝুলে ছিলেন। পরে তিনি ঝাঁপ দিয়ে কোনোরকমে তৃতীয় তলায় পড়েন। সেখানে দুই পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করেন একজন শিক্ষার্থী ও দুই চিকিৎসক।

আমির বলেন, তিনি এখন অন্যের সাহায্য ছাড়া শৌচাগারেও যেতে পারেন না। দিনের বেলায় পায়ে তেমন ব্যথা থাকে না। তবে রাতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। ব্যথার কারণে ঘুম তেমন একটা হয় না। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকেরা তাঁকে তিন মাস বিশ্রামে থাকতে বলেছেন। কিন্তু চাকরি না করে কীভাবে নিজের চিকিৎসা করাবেন, সংসার চলবে কীভাবে, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

আমির আরও বলেন, তিনি আর কখনো আগের মতো হাঁটাচলা করতে পারবেন কি না, সেটা নিশ্চিত নন।

উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ জকসু-শিবির নেতাদ…
  • ০৬ আগস্ট ২০২৬
মৃত্যুদণ্ড সত্ত্বেও দেশে ফেরার পরিকল্পনার ‘জুয়া’ কেন খেলছেন…
  • ০৬ আগস্ট ২০২৬
টেন্ডার ছাড়াই বিদ্যালয়ের মালামাল বিক্রির চেষ্টা, স্থানীয়দের…
  • ০৬ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা শ…
  • ০৬ আগস্ট ২০২৬
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়…
  • ০৬ আগস্ট ২০২৬
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ৪ লংমার্চ করবে ১১ দল, ঢাকায় মহাসমাবেশ
  • ০৬ আগস্ট ২০২৬