আল নাহিয়ান খান জয় © টিডিসি ছবি
মানবতা বিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে যারা শোক প্রকাশ করছেন তারা রাজাকার ও পাকিস্তানিদের প্রেতাত্মা বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশকারীরা ছাত্রলীগে অনুপ্রেবশকারী বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
রবিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল মাঠে ‘শোকাবহ আগস্ট-২৩’ উপলক্ষে ছাত্রলীগের জহুরুল হক হল শাখা কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জয় বলেন, খুনী জিয়ার ছেলেরা যখন দেশকে গ্রাস করতে চায় আমরা বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের পেছনে ধাওয়া করি। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার এই যে, আমরা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে বাঁচাতে পারিনি। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যার্থতা যা বাঙালিকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। মীর জাফররা আজ দেশের প্রতিটি জায়গায় সুযোগের অপেক্ষায়। যারা সাঈদীর মৃত্যুতে পোস্ট দিয়েছে তারা পাকিস্তানিদের প্রেতাত্মা। এদের চিহ্নিত করতে হবে কারণ তারা ছাত্রলীগের ভেতরে প্রবেশ করে সম্মান ক্ষুন্ন করতে চাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে জিয়া সরকার ৬৩ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রেখেছিলো যেনো ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলন শুরু করতে না পারে। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান বন্দুকের নলের সাহায্যে নির্বাচনকে নিজেদের মত করে সাজিয়ে, কারচুপির করে জয়লাভ করেছিলো। কিন্তু সে-ও বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেনি, তাকেও হত্যা করা হয়েছিলো। এমনকি মৃত্যুর পরে জিয়ার লাশটিও পাওয়া যায়নি। তার কবরে লাশ নেই শুধু মাটি দিয়ে একটা অবয়ব বানিয়ে রাখা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, যারা বাংলাদেশের রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করতে চায়, যারা মুক্তিযুদ্ধকে মেনে নিতে পারেনি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মেনে নিতে চায়নি তারা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। ছাত্রলীগের আদর্শিক সংগঠন, তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবীত। আর আদর্শহীনদের মৃত্যু হলেও আদর্শবানদের মৃত্যু নেই।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। পাকিস্তানিদের সাথে আপোষ না করায় যৌবনের সময়গুলো জেলে কাটিয়েছেন। ১৯৭৫ সালে তাকে দেশবিরোধীরা হত্যা করেছে কিন্তু আমরা সেই হত্যাকারীদের বিচার করেছি। সামনের দিনে যারা এমন দুঃসাহস দেখানোর চেষ্টা করবে তাদেরকেও আমরা চিহ্নিত করে ফাসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে হত্যা করবো। এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও লক্ষ্যকে বুকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থী ঢাবির ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সামনে এগিয়ে আশার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, যখন বাংলাদেশ স্বাধীন হলো তখন এদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পাকিস্তানের ৭০ ভাগের একভাগ ছিলো। ১৯৭৫ সালে সেটা পাকিস্তান থেকে প্রায় দ্বিতীয় হয়। এমনি সেটা বর্তমান পরাশক্তি চীনকেও ছাড়িয়ে যায়। তখন চীনের মাথাপিছু আয় ছিলো ১৭৫ ডলার আর বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় হয়েছিলো ২৭৮ মার্কিন ডলার। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ১৯৮০ সালেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতো কিন্তু খুনী মোশতাক, জিয়া বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে সেটাকে বাস্তবায়ন করতে দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, যারা ইনডেমনিটি বিলকে আইনে পরিণত করেছিলো, যুদ্ধাপরাধীদের সংসদে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছিলো, মার্শাল ল জারি করেছিলো তারাই আজকে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছে, রাষ্ট্রকে মেরামত করতে বলছে। অথচ তাদের প্ররোচনায় আজ তাদের প্রভুরা তথাকথিত মানবাধিকারের নামে দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। সুতরাং দেশকে আবারও স্মার্ট, উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আড়াই কোটি নবীন ভোটারকে ছাত্রলীগের ছায়াতলে নিয়ে আসতে হবে এবং শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করতে হবে নাহলে এই দেশ বিরোধী অপশক্তিরা, স্বাধীনতা বিরোধীরা দেশের ক্ষমতায় বসবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু ২৩ বছর ধরে লড়াই সংগ্রাম করেছেন একটি আদর্শ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করতে। ১৯৭১ সালের ১- ২৬ মার্চ পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যেভাবে দেশকে স্বাধীন করার পথ সুগম করেছেন তা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন। ১৯৭০-এর নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাসা একটি সেক্রেটারিয়েটে পরিণত হয়েছিলো। ৭ মার্চের বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন- কেউ যদি একটি কথা বলে সেটা যদি ন্যায্য হয় আমরা তা মেনে নেবো। এটাই ছিলো বঙ্গবন্ধুর গণতান্ত্রিক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। এসময় তিনি সবাইকে ছাত্রলীগের কর্মী হতে নয় বরং দেশের সুনাম যারা বিনষ্ট করতে চাচ্ছে, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করছে, তাদের সাথে লড়াই করে নতুন রাজনৈতিক পট গঠন করার আহবান ব্যক্ত করেন।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে ৩ বছর বাংলাদেশের ক্ষমতায় থেকে যে পরিমাণ অর্থনৈতিক বা গঠনগত পরিবর্তন করেছিলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে এমন ডায়নামিক কাজ কেউ করতে পারেনি। সেসময় দেশের জিডিপি ৯.৬ শতাংশ হয়েছিলো যা এখনো কোন সরকার করে দেখাতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর পথ অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে ২০০৮ সালের জিডিপির তুলনায় বর্তমানে দেশের জিডিপি পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। মাথাপিছু আয় ৬৩০ মার্কিন ডলার থেকে ২৭০০ মার্কিন ডলারে পরিণত করেছেন।
বাংলাদেশ স্মার্ট দেশে পরিণত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে দেশে ৪ কোটি মোবাইল ব্যাবহারকারী হলেও বর্তমানে ১৮ কোটি গ্রাহক মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। তখন সাড়ে ৭ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী থাকলেও বর্তমানে দেশের সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ফলে দেশ স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত হচ্ছে৷
তিনি আরও বলেন, আগামী ২ অক্টোবর ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্ভোধন হবে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেলের পুরো প্রজেক্ট উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত উদ্ভোধন করা হবে ফলে দেশ উন্নয়নশীল দেশ হবার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন।
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন রানার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য প্রদান করেন হল প্রাধ্যাক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান প্রমুখ।