বিপিএলের ফাইনাল আজ
© সংগৃহীত
তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিপিএলের সফলতম দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এবার মাঠে নামবে তারা নিজেদের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করতে। চতুর্থ শিরোপা ঘরে তুলতে। আর সিলেটের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি আগে কখনও ফাইনাল খেলতেই পারেনি। নতুন মালিকানায় নতুন নামে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বপ্নযাত্রা প্রথমবারেই পৌঁছে গেছে ফাইনালে।
কুমিল্লার চতুর্থ নাকি সিলেটের প্রথম, সেই ফয়সালা হবে আজ বৃহস্পতিবার। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে খেলা শুরু সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।
কুমিল্লার সাফল্যের শুরুটা ছিল ২০১৫ আসরে মাশরাফির নেতৃত্বেই। পরে ২০১৯ সালে ও গত আসর জিতেছে তারা ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে। মাশরাফি অধিনায়ক হিসেবে কুমিল্লার আগে দুটি ট্রফি জিতেছেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে, পরে আরেকটি জিতেছেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে।
কুমিল্লা অথবা মাশরাফি, ফাইনালে অপরাজেয় পথচলা এবার কারও থামবেই। ফাইনালের আগের দিন বুধবার অবশ্য অনুশীলনে ছিলেন না মাশরাফি। মেট্রো রেলে ট্রফি নিয়ে ফটোসেশনে ইমরুলের সঙ্গে সিলেটের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। তবে ফাইনালে দলের ভরসা হয়ে মাঠেই থাকবেন মাশরাফি।
সিলেটের প্রথম ট্রফির হাতছানিতে মিশে থাকছে মুশফিকের তাড়নাও। এখনও বিপিএল ট্রফি যে জেতা হয়নি তার!
কাগজ-কলমের শক্তিতে কুমিল্লা এগিয়ে অনেকটাই। বিশেষ করে বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে দুই দলের তুলনাই চলে না। সুনিল নারাইন, আন্দ্রে রাসেলের মতো টি-টোয়েন্টির কিংবদন্তি কুমিল্লার বড় শক্তি। মইন আলি, জনসন চার্লসরাও একাই গড়ে দিতে পারেন ম্যাচের ভাগ্য। তাদের সঙ্গে লিটন কুমার দাস, মুস্তাফিজুর রহমানের মতো দেশের তারকারা তো আছেনই। এমনকি উঠতি তানভির ইসলাম, জাকের আলিরাও দারুণ পারফর্ম করছেন।
সিলেট সেখানে পুরোপুরিই নির্ভর করছে দেশের ক্রিকেটারদের ওপর। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান স্কোরার তাদের দলের নাজমুল হোসেন শান্ত, তালিকার তিনে এই দলেরই তৌহিদ হৃদয়। খুব ভালো না হলেও অবদান রেখেছেন জাকির হাসান, মুশফিকুর রহিমরা। বোলিংয়ে অভিজ্ঞ রুবেল হোসেন, তরুণ তানজিম হাসান সাকিব, রেজাউর রহমানরা মেরে ধরেছেন নিজেদের।
লিগ পর্বে অবশ্য মোহাম্মদ আমির ও ইমাদ ওয়াসিমের বড় ভূমিকা ছিল সিলেটের সাফল্যে। তারা বিদায় নেওয়ার পর বোলিং আক্রমণের ধার গেছে কমে। তারপরও দারুণ খেলে তারা রংপুরকে বিদায় করে পৌঁছে গেছে ফাইনালে।
দলের বড় শক্তি অবশ্য মাশরাফি বিন মুর্তজা। বরাবরের মতোই কৌশলী আর উজ্জীবিত নেতৃত্বে তিনি হয়ে উঠেছেন দলের প্রাণভ্রোমরা।
লিগ পর্বের এই দুই দলের দুই লড়াইয়ে ফলাফল ছিল ১-১। প্রথম কোয়ালিফায়ারে জিতে আপাতত এগিয়ে কুমিল্লা। ফাইনালের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা অধিনায়ক ইমরুলের কণ্ঠে সিলেটকে নিয়ে সমীহ থাকলেও সম্ভাবনায় নিজেদের এগিয়ে রাখার ব্যাপারটিও স্পষ্ট করেই বললেন তিনি।
“যে দলকে আমরা দুইবার ১২০ রানে আলআউট করেছি। প্রথম ম্যাচেও আমাদের ১৪০ রান তাড়ায় ওদের ৬ উইকেট পড়েছিল এবং প্রায় ১৮ ওভার লেগেছিল জিততে। তার মানে, আমাদের বোলিং আক্রমণের ওই শক্তি আছে। কালকে ভিন্ন কিছু্ও হতে পারে। তবে অধিনায়ক হিসেবে তো আমার চাওয়া থাকে, একটা দলকে যখন আমি দুইবার কম রানে অলআউট করি, তখন তো সেই আত্মবিশ্বাস আমার থাকে।”
“তারা যেভাবে গোটা টুর্নামেন্ট খেলেছে এবং ফাইনালে এসেছে, কৃতিত্ব তাদেরকে দিতেই হবে। তারা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। বিশেষ করে তাদের কিছু লোকাল ক্রিকেটার আছে, যারা ভালো খেলছে। তবে আমরা তাদেরকে দুটি ম্যাচে হারিয়েছি। তারা শক্তিশালী দল। আমাদেরকে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে, তাহলে সম্ভব।”