রাজধানীতে নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবৈধ শাখা ক্যাম্পাস

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:২৫ AM
লোগো

লোগো

রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ। মূল ক্যাম্পাসের বাইরে চারটি শাখা বা ক্যাম্পাস আছে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে মূল ক্যাম্পাসের অনুমোদন থাকলেও শাখা ক্যাম্পাসগুলোর কোনো অনুমোদনই নেই। একইভাবে অনুমোদন না নিয়ে চলছে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী ক্যাম্পাস। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩০টির মতো বাংলা-ইংরেজি ভার্সনের শাখা-শ্রেণির অনুমোদন নেই।

শুধু মনিপুর, আইডিয়াল  ও ভিকারুননিসা নয়; রাজধানীর নামিদামি বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন না নিয়েই শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত শ্রেণি এবং শাখা খুলেও ভর্তি করছে শিক্ষার্থী। অনুমোদনহীন এসব ক্যাম্পাস এবং অতিরিক্ত শ্রেণি শাখা বন্ধ করতে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘রাজধানীর নামিদামি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়াই ইচ্ছামতো ব্রাঞ্চ পরিচালনা করছে। আবার সেখানে অতিরিক্ত শ্রেণি শাখা চালু করা হয়েছে। আমরা প্রথমে এসব প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর যাদের অনুমোদন নেই তাদের প্রথমে শোকজ করা হবে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাদের শাখা বন্ধসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানা যায়, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শাখা বা ব্রাঞ্চ চালানোর সুযোগ নেই। তবে অনেক আগে আইডিয়াল ও ভিকারুননিসার কিছু শাখার অনুমোদন বোর্ড থেকে দেওয়া হয়। অন্যরা এক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিয়ে একই নামে শাখা খুলে দিব্যি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর ফলাফল একই প্রতিষ্ঠানের নামে দেখানো হচ্ছে।

যদিও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পুঁজি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসাধু প্রধানরা অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সহযোগীর ভূমিকায় আছেন পরিচালনা কমিটির অসৎ সভাপতি ও সদস্যরা। সুযোগ থাকলেও এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য কেউ বোর্ড থেকে অনুমোদন নিচ্ছেন না। ফি দেয়ার ভয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান অনুমোদন-স্বীকৃতি পর্যন্ত নবায়ন করে না। চার-পাঁচটি গোষ্ঠী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চেইনশপের মতো একই নামে স্কুল-কলেজের শাখা খুলে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্যেই অনুমোদন ছাড়া ক্যাম্পাস ও শ্রেণি-শাখা খোলা হয়ে থাকে। এছাড়া অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগও লক্ষ্য থাকে।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে বেশকিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এরপরই বোর্ড প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, রাজধানী তথা দেশের বিখ্যাত স্কুলগুলোর বেশকিছু শ্রেণি ও শাখা চলছে, যেগুলোর অনুমোদন আছে বলে বোর্ডের জানা নেই। ওইসব শাখা-শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে, শিক্ষকও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে চিহ্নিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ বলেন, রাজধানীর শীর্ষ পর্যায়ের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুমোদন ছাড়া ক্যাম্পাস-শ্রেণিতে পাঠদান চলছে। অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম পর্যায়ে ঢাকার শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সব তথ্য চাওয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেই, সেগুলোকে প্রথমে কারণ দর্শাতে বলা হবে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, ১০ বছর আগে বিধি মোতাবেক সব ব্রাঞ্চের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হলেও মূলটি বাদে আর কোনো শাখার অনুমোদন দেয়া হয়নি।

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম বলেন, ‘আমাদের তিনটি ব্রাঞ্চের অনুমোদন রয়েছে। তবে অনুমোদন ছাড়া কিছু শ্রেণি শাখা রয়েছে। এসবের অনুমোদন পেতে আবেদন করা হলেও বোর্ড থেকে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। তবে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে আমরা তা চালিয়ে যাচ্ছি।’

 

‘কখনো কনফর্মিস্ট, কখনো রিফর্মিস্ট, তারা আসলে অপারচুনিস্ট
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
নামাজরত স্ত্রীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
আপনারা শেষ ৬ বলে ১২ রান করেছেন, কিন্তু এর আগে আমরা ৩০০ রান …
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
আইপিএলে কাজ করতে এসে ব্রিটিশ প্রকৌশলীর রহস্যময় মৃত্যু
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
আপনাদের ম্যানিফেস্টো পড়ে কয়জন ভোট দিয়েছে, বিএনপিকে আখতারে…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
জবিতে ছাত্রদল নেতার শিক্ষক হেনস্থার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence