গত মঙ্গলবার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষার কক্ষে বিউটি। © সংগৃহীত
দুপচাঁচিয়া মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী বিউটি আক্তারের পড়াশোনার অদম্য ইচ্ছা শক্তি দমাতে পারেনি। দুই হাত নেই কিন্তু পা আছে। সেই পা দিয়ে লিখেই এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন বিউটি আক্তার।
বিউটির জন্ম থেকে দুই হাত ছাড়া। বাবা-মা তার এ অবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনা পেরিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এরপর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল তিনি। সময়ের সাথে সাথে বিউটি বড় হয়েছেন। এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি।
বিউটি আক্তার জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার শিবপুর গ্রামের বায়েজিদ প্রামাণিকের মেয়ে। তাঁরা এক ভাই এক বোন। বড় ভাই বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে অনার্সে পড়াশুনা করেন। বিউটি আক্তারের হাত না থাকায় ডান পায়ের আঙুলে কলম ধরে পরীক্ষার খাতায় লিখছেন।
বিউটি আক্তার বলেন, ২০১৭ সালে ক্ষেতলাল উপজেলার আখলাক শিবপুর শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয় হতে অংশ নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করেন। তারপর ভর্তি হন থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে দুপচাঁচিয়া মহিলা ডিগ্রী কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে। দুইটি পত্রের পরীক্ষা ভালো দিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক হবেন। মানুষের সেবা করবেন।
কলেজের কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ জানান, পরীক্ষার শুরুতেই তাঁর অবস্থা আমরা জানতে পেরে আলাদা কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছিলাম। সে তাঁর সহপাঠীদের সঙ্গেই পরীক্ষা দিবে। প্রতিবন্ধীদের অতিরিক্ত সময় দেবার বিষয়ে ইনভিজিলেটরদের নির্দেশনা দেওয়া আছে।