প্রাথমিকে প্যানেল নিয়োগ নিয়ে যা বললেন ডিপিই মহাপরিচালক

১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:০৭ PM
প্রাথমিকে প্যানেল নিয়োগ নিয়ে যা বললেন ডিপিই মহাপরিচালক

প্রাথমিকে প্যানেল নিয়োগ নিয়ে যা বললেন ডিপিই মহাপরিচালক © টিডিসি ফটো

মোছা. ফারহানা খাতুন (ছদ্মনাম)। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে অনার্স-মাস্টার্স পাশ করেছেন ২০১২ সালে। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০১৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের আবেদন করেছিলেন। তবে সেসময় আদালতে প্যানেল নিয়োগ নিয়ে রিট চলায় তখন আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি ফারহানার। পরে ২০১৮ সালে সেই পরীক্ষা হয়। পরীক্ষায় পাশও করেন ফারহানা। তবে চাকরি হয়নি। বয়স শেষ হয়ে যাওয়ায় আর কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনও করতে পারেনি ফারহানা।

শুধু ফারহানাই নন; ২০১৪ সালে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চাকরি হয়নি প্রায় ২০ হাজার চাকরিপ্রত্যাশীর। সকলেরই বয়স শেষ হওয়ায় নতুন কোনো বিজ্ঞপ্তিতেও আবেদন করতে পারেননি তারা। প্রায় দুই বছর ধরে নানা জায়গায় ধরনা দিয়েও আদায় করতে পারেননি তাদের দাবি। বয়স শেষ হওয়ায় কোনো চাকরির আবেদন করতে না পারায় এখন মানববেতর জীবন-যাপন করছেন ভুক্তভোগীরা। এই অবস্থায় প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিপ্তর (ডিপিই) বলছে, প্রাথমিকে প্যানেলের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই। তবে যদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসে তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

২০১৪ সালে প্যানেলের দাবিতে আন্দোলনরতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০১০ ও ২০১১ সালের বিজ্ঞপ্তিতে প্যানেল করার বিষয় উল্লেখ না থাকলেও ৪৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় পুল ও প্যানেলের মাধ্যমে। ২০১১ সালের প্যানেলের মামলা জটিলতার কারণে ৪ বছর নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এতে করে বিপাকে পড়েন ২০১৪ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকৃতরা।

তারা বলছেন, ২০১৪ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বলা ছিল ‘শূন্য পদের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে’। অথচ সেসময় ২০ হাজার শূন্য পদ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ৯ হাজার ৭৬৭ জনকে। আবার ২০১৮ সালের (২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত) পরীক্ষায় ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের স্থলে নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮ হাজারের বেশি। এক্ষেত্রে ২০১৪ সালের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদতনকৃতদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ২০১৪ স্থগিত (২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত) সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্যানেল চাই কমিটির আহবায়ক সালেহা আকতার দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ২০১১ সালের রাজস্ব খাত ভুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর রাজস্ব খাতে আবার সার্কুলার হয় ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ২০১১ সালের সার্কুলারের পুলভুক্ত শিক্ষকদের রীটের কারণে ২০১৪ সালের সার্কুলারের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। আমার প্রশ্ন হলো আদালত যখন পুলভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ দিতে রায় প্রদান করে তখন কেন তাদের নিয়োগ না দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বার বার আপিল করলো?

তিনি জানান, ২০১১ সালে রাজস্ব খাতের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো ২০১২ সালে এবং ২০১৪ সালের পরীক্ষা হলো ২০১৮ সালে। মাঝখানে ৬ বছর কোন নিয়োগ পরীক্ষা হয়নি। প্রতিবছর যদি ৭ হাজার শিক্ষক অবসরে যায় তাহলে এই ৬ বছরে ৪২ হাজার পদ শূন্য ছিলো। পুলভুক্ত শিক্ষকদের ১৫ হাজার পদ তো তাহলে ২০১৪ সালের ভেতরেই নিয়োগ দেয়া যেত। কেন তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রেখে ২০১৪ সালের আবেদন কারীদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়া হলো। ২০১৪ সালের নিয়োগ পরীক্ষা যখন ১৮ সালে গ্রহণ করা হলো তখনই বা কেন শূন্য পদ পূরণ করা হলো না? ২০১৪ সালের পরীক্ষা যে ৪ বছর স্থগিত ছিলো এই কারনে ২০১৪ সালের আবেদন কারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলো তাদের ক্ষতির দিক গুলো অনুধাবন না করে কেন হাজার হাজার শূন্য পদ রেখেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলো?

সালেহা আকতার আরও বলেন, সংশ্লিষ্টদের অদূরদর্শীতার বলি ২০১৪ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীরা।তাই ৪ বছরের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে আমরা ২০১৪ সালের ১৯ হাজার ৭৮৮ জন প্রার্থী (পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালে) প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। আমাদের দাবি একটাই হয় আমাদের প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হোক, না হয় আমাদের ৪ বছর ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগের দাবিতে অনেকগুলো গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে। আমাদের কাছে বিভিন্ন সময় অনেক সুপারিশ আসে। তবে সুপারিশ বিবেচনার সুযোগ আমাদের নেই।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগের সুযোগ নেই। কোনো একটি ব্যাচকে যদি নির্দিষ্টভাবে সুযোগ দেওয়া হয় তখন সকলেই মাথায় উঠে বসবে। আমাদের কথা খুব পরিস্কার; আমরা প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ দিতে চাই না।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ে থেকে নির্দেশনা পেলে প্যানেল সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম আরও বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা পেলে আমাদের তখন এটা নিয়ে ভাবতেই হবে। তবে আশা করছি সরকার এরকম কোনো কিছু আমাদের ঘারে চাপিয়ে দেবে না।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে স্থগিত (২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত) পরীক্ষায় মোট ১৪ লাখ প্রার্থীর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২৯ হাজার ৫৫৫ জন। ওই পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ। এদের মধ্যে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয় ৯ হাজার ৭৬৭ জনকে। বিপুল সংখ্যক যোগ্য প্রার্থীকে বঞ্চিত করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ প্রার্থীদের। পরীক্ষাটি ৪ বছর স্থগিত থাকার কারণে প্রায় ৯০ শতাংশ প্রার্থীর চাকরিতে আবেদনের বয়স শেষ হয়ে গেছে।

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে অশ্লীল গালি দিলেন পরীমণি
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
টানা তৃতীয় দফায় বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ ভরি কত?
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
মাস্টার্সে ফুল ফ্রি স্কলারশিপ দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ …
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয় সংবিধান দিবস উপলক্ষে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে বর্ণাঢ্য…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সরকারি সড়কের জায়গায় শিক্ষকের দোকান, প্রশাসনের কাছে লিখিত অভ…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950