অনার্স-মাস্টার্স পাস করেও এইচএসসি পাস শিক্ষক তাঁরা

২৫ আগস্ট ২০২০, ১০:৫৮ AM

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক অনার্স-মাস্টার্সের ডিগ্রি অর্জন করেও সার্টিফিকেট সার্ভিসবুকে সংযুক্ত করতে পারেননি। তারা এইচএসসি পাস শিক্ষক হিসেবেই থেকে গেছেন। বাধ্য হয়ে এখন আবার ডিপার্টমেন্টাল অনুমতি নিয়ে প্রাইভেট শিক্ষার্থী হিসেবে ডিগ্রিতে ভর্তি হয়েছেন। আগের সার্টিফিকেট সংযুক্ত করতে পারলে তাদের নতুন করে আবার ভর্তি হওয়া লাগত না। আবার পরীক্ষার সময় এলে নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

জানা গেছে, এমন সমস্যা সোয়া লাখ প্রাথমিক শিক্ষকের। অনেকেই অনার্স, মাস্টার্স শেষ বর্ষে থাকা অবস্থায় চাকরিতে যোগদান করেছেন। কিন্তু সনদ সার্ভিসবুকে সংযুক্ত করার নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা তা সার্ভিসবুকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারছেন না। ফলে ডিপার্টমেন্টে তারা কম শিক্ষিত হিসেবেই পরিচিত।

এমনি একজন ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিগার সুলতানা। সংসার, চাকরি, সন্তান-সন্তুতি সামলে গভীর রাত জেগে পড়াশোনা করে পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে মাস্টার্সে উত্তীর্ণ হয়েও নিজের সার্ভিসবুকে তা সংযুক্ত করাতে না পেরে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। মনে চাপা ক্ষোভ ও দুঃখ নিয়ে এখনও শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন তিনি।

নিজেদের আর্থসামাজিক মর্যাদা ও পদোন্নতির কথা চিন্তা করে তাদের সকলেই আবার প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে স্নাতক ডিগ্রি বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য সময় ও অর্থ ব্যয় করে শুধু একটি সনদের জন্য বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছেন। এতে করে তাদের মাঝেমধ্যেই নৈমিত্তিক ছুটি বা মেডিকেল ছুটি নিতে হচ্ছে।

আবার অনেকে সার্টিফিকেট সংযুক্ত করতে পারবেন না এ আশঙ্কায় এই চাকরি ছেড়ে অন্য সরকারি বা প্রাইভেট চাকরিতেও চলে যাচ্ছেন। এই ভুক্তভোগী শিক্ষকদের একটাই দাবি, তাদের অর্জিত সনদগুলো সার্ভিসবুকে অন্তর্ভুক্তির অনুমতি দেওয়া হোক।

সহকারী শিক্ষকদের নতুন নিয়োগ বিধি-২০১৯ অনুযায়ী, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি। তাই স্নাতক হয়েও অনেক নারী শিক্ষক সরকারি কাগজে-কলমে এখনও উচ্চমাধ্যমিক পাস। এ কারণে সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করা হলেও এই শিক্ষকরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তবে কর্মরত শিক্ষকদের উচ্চতর শিক্ষার সনদ সার্ভিসবুকে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম আল হোসেন। তিনি বলেন, আমরা চাই উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীরা প্রাথমিকের শিক্ষকতায় আসুক। এতে শিক্ষার মান উন্নত হবে। কর্মরত শিক্ষকদের উচ্চতর শিক্ষার সনদ সার্ভিসবুকে অ্যান্ট্রি করার জন্য আমরা উদ্যোগ নেব।

সিনিয়র সচিবের আশ্বাসে তারা অনেকটা ভরসা পাচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। তবে মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করা না হলে শেষ পর্যন্ত সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা যাবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে জানান তারা।

নোয়াখালী সদর উপজেলার দামোদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুসরাত ফেরদৌস জিলানী। তিনি বলেন, ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছি। কিন্তু পূর্বানুমতি না থাকায় সনদ কোনো কাজে আসছে না। শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, সনদ অন্তর্ভুক্তি করার পরিপত্র আসা ছাড়া সনদ অন্তর্ভুক্ত করলে পরবর্তী সময়ে বিপদ হতে পারে। মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রই এ সমস্যা সমাধান করতে পারে।

আসিফ মাহমুদের ফান পোস্ট থেকে ছড়াল গুজব, ‘সত্য’ ধরে বিভ্রান্…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
বেরোবিতে উপাচার্যের কক্ষে শিক্ষক ইস্যুতে কর্মকর্তাদের মারাম…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
বিএনপি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন চালানোর চেষ্টা করছে: নাহিদ ইসলাম
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
অবসর বার্তায় যা বললেন রোনালদো
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
শক্তিশালী নায়িকার কারণে কারও যেন চরিত্র হনন না হয়
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা মেডিকেলে দুদক চেয়ারম্যানের অভিযান, বললেন— রোগীরা অনেক …
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950