© টিডিসি ফটো
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০তম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেড নিয়ে অসন্তোষ দূর না হওয়ায় করণীয় নির্ধারণ করতে জরুরি সভায় বসেছেন প্রাথমিক শিক্ষক নেতারা। মূলত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার পর কর্মসূচি ও অন্য করণীয় বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, পরিষদের ১৪ টি সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদকরা আজ রাজধানী ঢাকায় চলমান জরুরি সভায় বসেছেন। সেখানে সব শিক্ষক নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।
সভায় উপস্থিত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, জরুরি সভায় শিক্ষক নেতারা তাদের করণীয় ঠিক করতে আলোচনা করছেন। সভায় মূলত তিন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, শিক্ষকদের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও করণীয়, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা আলোচনা করছি। এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে বিকেল নাগাদ যে সিদ্ধান্তই হোক জানিয়ে দেয়া হবে।’
এর আগে প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের প্রধান মুখপাত্র মো. বদরুল আলম বলেছিলেন, ‘চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে এবং সমাপনীর পর করণীয় ঠিক করতে সভা ডাকা হয়েছে। সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছি আমরা। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ চলছে। তবে এখনো কোন অগ্রগতি হয়নি।’
জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০তম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে করার দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষকরা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এমনকি মন্ত্রণালয়ও শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন।
তবে শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতেই চলমান পরিস্থিতির সুরাহা মিলতে পারে। সর্বশেষ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) সাবের হোসেন ও পরিচালক (পলিসি) ড. খান মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষকদের সভায়ও বিষয়টি উঠে আসে।
শিক্ষক নেতারা জানান, প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের বিষয়ে খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত এবং সেখানেই তার সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন। সে পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার আহবান করেন তারা।
এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. জাকির হোসেন মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা বসেন শিক্ষক নেতারা। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরে এলেই সাক্ষাতের সময় পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়।
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন নতুন গ্রেডে যেন কমে না যায় সেজন্য সজাগ রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। একইসঙ্গে শিক্ষকদের দাবিসমূহ পূরণে আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, সহকারী শিক্ষকদের ভাষ্যমতে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের বেতনের পার্থক্য তিন ধাপ। তাদের দাবি ছিল প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেড। প্রধান শিক্ষকরা ১১ তম গ্রেড হলে তাদের দাবি ১২ তম। আর প্রধান শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে পৌঁছলে আমাদের ১১তম গ্রেড দিতে হবে।
কিন্তু খসড়া বিধিমালায় সেই দাবির প্রতিফলন নেই। স্বভাবতই নতুন পন্থা খুঁজতে হচ্ছে তাদের। শিক্ষকদের ভাষ্য, প্রধান শিক্ষকের পরেই তাদের বেতন রাখার দাবি দীর্ঘদিনের। শুধু তাই নয়, বিষয়টি আত্মসম্মানের বলেও উল্লেখ করেছেন তারা।