শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা © সংগৃহীত
ছয় বছর পর আগামী ২০২৭ বর্ষ থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ‘পরীক্ষা পদ্ধতি’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর আগে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির জন্য পরীক্ষা না নিয়ে ডিজিটাল লটারি করার সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন আওয়ামী সরকার। এদিকে, গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠন করে আগামী বর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ‘পরীক্ষা পদ্ধতি’ চালু করার ঘোষণা দিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘প্রাথমিকের ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে বলছি—এটি নামেমাত্র ভর্তি পরীক্ষা। প্রস্তুতির জন্য কোচিং সেন্টারে যাওয়ার মতো কোনো প্রশ্ন থাকবে না। একই সময়ে আমরা ক্যাচমেন্ট এরিয়ার ওপরে কাজ করছি—ক্যাচমেন্ট এরিয়া প্লাস ভর্তি পরীক্ষা মিলিয়ে আসন অনুযায়ী সেভাবে ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘এর আগেও কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার সিস্টেম ছিল— তখন ব্যাপক অনিয়ম হতো। এখন আমরা সেটা পর্যালোচনা করছি এবং ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষা দুটোকে সমন্বয় করে এমন পরীক্ষা দেব, যা শিশুদের জন্য চাপমুক্ত হবে। আপনারা একটু সময় দিন — ইনশাআল্লাহ দেখতে পাবেন।’
জানা গেছে, একসময় দেশের স্কুলগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা ছিল প্রচলিত নিয়ম। তখন শিশুদের অল্প বয়সেই কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হতো। কোচিং ও প্রাইভেটের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায় এবং ভর্তিকে ঘিরে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও ছিল।
এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে ভর্তি বাধ্যতামূলক করে। পরে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু হয়। পরবর্তীতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয় এবং এরপর থেকে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছিল। তবে ফের ৬ বছর পর ফের স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।