ভবন নেই, গাছতলায় চলে পাঠদান!

২১ এপ্রিল ২০১৯, ১২:১৩ PM
খোলা আকাচের নিচে চলছে পাঠদান

খোলা আকাচের নিচে চলছে পাঠদান © সংগৃহীত

কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের ঘর উড়ে পাশের ফসলি জমিতে পড়ে আছে বিধায় গাছতলায় চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ঘটনাটি শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের চর ডোমসার গ্রামে অবস্থিত চর ডোমসার বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি গত ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ঝড় হলে এর টিনের ঘরটি ছিটকে গিয়ে পাশের ফসলি জমির উপর পড়ে। তারপর থেকে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। প্রতিবছরই ঝড়ে ক্ষতির শিকার হয় বিদ্যালয়টি। বর্তমানে এখনে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫০ জন। কিন্তু ভবন না থাকার কারণে প্রতিবছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। আর শিক্ষক আছেন মাত্র তিনজন।

শিক্ষকরা জানান, রোদের কারণে গাছতলায় আশ্রয় নেয়া হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি হলে ক্লাস বন্ধ থাকে। আর জায়গাটি খোলা থাকায় প্রায় সময়ই এখানে মলমূত্র পাওয়া যায়। সকালে এসে পরিষ্কার করতে হয়। তারপরই শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে। অনেক কষ্টে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজিয়া আক্তার ও শারমিন আক্তার বলেন, তালগাছ ও শিমুলগাছ পুরোপুরি রোদ ঠেকায় না। বৃষ্টি শুরু হলে স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হয়। এই পরিবেশে উপকরণও ব্যবহার করা যায় না। এভাবে পাঠদানে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হয়। এ অবস্থায় শিক্ষার প্রতি কোমলমতি শিশুদের নেতিবাচক ধারণা জন্ম নিচ্ছে। তাই একটি ভবন প্রয়োজন, যাতে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফারজানা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের কাগজপত্র, ফাইলপত্র, চক-ডাস্টার ইত্যাদি ব্যাগে ভরে প্রতিদিন বাড়িতে নিতে হয়। এত ছেলে-মেয়ে নিয়ে এলাকার কোনো বাড়িতেও উঠতে পারছি না। শুনলাম বে-সরকারি বিদ্যালয়গুলো এমপিওভুক্ত হচ্ছে। আমাদের স্কুলটি এমপিওভুক্ত হলে আর একটি ভালো ভবন হলে এলাকার ছেলে-মেয়েরা সঠিকভাবে লেখাপড়ার সুযোগ পেত।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া, রাজিব, জিহাদ, মারিয়া ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাতুল বলেন, সামনে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা। এই পরিস্থিতিতে খুব সমস্যা হচ্ছে। তাই আমাদের একটি ভবন হলে লেখাপড়া ভালো হতো।

সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়ামত বলেন, এই বিদ্যালয়ের ঘরটি ঝড়ে পড়ে গেছে। শুনেছি বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, স্কুল ঘরটি ঝড়ে উড়ে গেছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘর তৈরি করতে ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বড় ধরনের বরাদ্দ দেয়া যায় কি-না সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।

নির্বাচনে মাঠ ছেড়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি হান্নান মাসউদের
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
৩০০ নেতাকর্মীসহ বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দিলেন মাহাবুব মাস্…
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
চলতি সপ্তাহে একদিন ছুটি নিলেই মিলবে টানা ৪ দিনের ছুটি
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন নারীরা: র…
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
সেই ‘দুখিনী মা’য়ের সম্মানে সুবর্ণচরকে পৌরসভায় উন্নীত করবে জ…
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ফেলোশিপে উচ্চশিক্ষার সুযোগ…
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬