পদোন্নতিহীন প্রাথমিকের চাকরি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের আবেগঘন স্ট্যাটাস, সঙ্গে পদত্যাগ

০২ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৪৫ AM
বিদ্যালয়ে পাঠদানরত এক শিক্ষক

বিদ্যালয়ে পাঠদানরত এক শিক্ষক © প্রতীকী ছবি

যাদের মেধা আর যত্নের উপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি। সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নেই কোন ক্যারিয়ার পাথ। শিক্ষাবিদ বলছেন, বেতন বৈষম্যের সঙ্গে এমন আটকে পড়া কর্মজীবন মেধাবীদের এ পেশায় উৎসাহিত করতে বা ধরে রাখতে পারছে না। এমনই একজন শিক্ষক সেলিম উদ্দীন। যিনি ব্যাংক জব হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়েছে।

তিনি লিখেছেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থেকে পদত্যাগ করলাম। বুকের ভিতর একটু হু হু কষ্ট ৷ নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সরকারের ইচ্ছাই এ পেশায় এসেছিলাম (৩৪তম বিসিএস ননক্যাডার)। পারিবারিক চাপে এ চাকরিতে এসেছিলাম। স্ত্রী সন্তান ও মাকে নিয়ে একসাথে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু অফিসারের দুর্নীতির কারনে পদায়ন করা হয়েছিলো দুর্গম চরে যদিও আমার নিজের এলাকার অনেক স্কুল ফাঁকা ছিলো।

ভেবেছিলাম হয়ত বদলী হতে পারবো; কিন্ত প্রাথমিকের বদলী যেন হিমালয়সম কঠিন বিষয়। যাহোক স্কুলে যোগ দিয়ে কষ্ট আরো বেড়ে গেলো। কারণ স্কুলে নেই কোন অবকাঠামো আর শিক্ষক সংকট। তবু কিছু পরিবর্তনের জন্য সচেষ্ট হলাম। ভালোলাগার চেষ্টা করতে লাগলাম। কিন্তু বারবার হোচট খেতে হলো। চার শিক্ষক থেকে দুজন ডিপিএডে গেলো। রইলাম দুজন। আর স্ত্রী সন্তান থেকে দুরেই রইলাম সাথে বোনাস হলো প্রতিদিন যাতায়াত খরচ ২০০ টাকা সাথে যাওয়া আসাতে ৩-৪ ঘন্টা। পরিবর্তনের চেষ্টায় দুমুঠো খাবার খেতে কেনা হলো গ্যাসের চুলা। কিছুটা কষ্ট লাঘব হলো। চলছিলো দিনানিপাত। অবশেষে মুক্তি মিললো জনতা ব্যাংকে জব হয়ে।

একমাত্র আমার মতো ভুক্তভোগী ছাড়া সবাই বলে ব্যাংকের চেয়ে স্কুল শিক্ষক ভালো ৷ কিন্তু আমি জানি এখানে কতটা ভালো। তাইতো ১ বছর ৫ মাসের চাকুরির সমাপ্তি ঘটালাম আজ। অদ্ভুত নিয়মের বেড়াজাল আর পদোন্নতিহীন এ জব মেধাবীদের কিভাবে আকৃষ্ট করবে- এটাই আমার প্রশ্ন। এ লেখাই কেউ কষ্ট পেলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ৷ আমার জন্য দোয়া করবেন।’

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করা হলেও, এখনো পেশা হিসেবে আকর্ষণীয় নয় এটি। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) থেকে মেধাবীরা এখানে যোগদান করলেও, বেতন বৈষম্যের সঙ্গে এমন আটকে পড়া কর্মজীবন তাদের এ পেশায় ধরে রাখতে পারছে না।

এর আগে শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরী বলেছিলেন, এখন পর্যন্ত প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকদের ক্যারিয়ার পাথ বলে কিছু নেই। একজন শিক্ষক কেনো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হতে পারবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্কুলে চাকরি করে, সে হিসেবে ক্যারিয়ার পথ নিশ্চিত করতে তাদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করা উচিত।

যদিও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের দাবি, ভবিষ্যতে শিক্ষকদের জন্য সামনে এগিয়ে যাবার পথ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

মিয়ানমারে পাচারকালে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ, আটক ১
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সারারাত এপাশ-ওপাশ? গভীর রাতে আরামদায়ক ঘুমের জন্য মেনে চলুন …
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
চবিতে ছাত্রদল নেতা মুছাকে স্মরণ, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
গভীর রাতে গুনাহ মাফ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ আমল 
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে জামায়াতকর্মী নিহত
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950