সান্ডা খাওয়া কি হারাম না হালাল?

১৫ মে ২০২৫, ১২:৩০ PM , আপডেট: ১৬ মে ২০২৫, ০১:১০ PM
সান্ডা

সান্ডা © সংগৃহীত

সান্ডা, দব ও গুইসাপ—এই তিনটি প্রাণী দেখতে কাছাকাছি হলেও ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী এগুলোর খাদ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রচলিত প্রাণী সান্ডা এক ধরনের উভচর সরীসৃপ, যা দেখতে অনেকটা গুইসাপের মতো। ইসলামী শরিয়াহ—বিশেষ করে হানাফি মাজহাব অনুসারে—সান্ডা খাওয়া স্পষ্টভাবে হারাম। আরব অঞ্চলে সাধারণত এ প্রাণী দেখা যায় না এবং সেখানকার মুসলমানরা একে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেন না।

অন্যদিকে দব মূলত আরবের মরু অঞ্চলের প্রাণী, যা সম্পর্কে সহিহ হাদিসে জানা যায়—রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে সাহাবিরা এটি আহার করেছিলেন। যদিও রাসুল (সা.) নিজে খাননি, তবুও নিষেধও করেননি। বরং তিনি বলেন, “এটি আমার এলাকার খাবার নয়, তাই আগ্রহ বোধ করি না। তবে তোমরা চাইলে খেতে পারো।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম) হানাফি মাজহাবে দব খাওয়াকে মাকরুহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাব অনুসারী অধিকাংশ আলেম একে হালাল হিসেবে গণ্য করেন। ফলে দব খাওয়া নিয়ে শরিয়াহ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।

গুইসাপ বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার একটি বহুল পরিচিত প্রাণী, যা স্থল ও জল উভয় পরিবেশে বিচরণ করে। এটি বড় আকারের ও অনেকটা ভয়ংকর দেখায়। শরিয়াহ মতে, বিশেষ করে হানাফি মাজহাবে গুইসাপ খাওয়া সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এটি অপবিত্র, নাপাক এবং মানবিক রুচির পরিপন্থী প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। কোরআন ও হাদিসে সামুদ্রিক প্রাণীকে (যেমন মাছ) হালাল বলা হলেও, সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন বিধান রয়েছে।

হানাফি মাজহাবের বিখ্যাত কিতাবসমূহ—যেমন আল-হিদায়া, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, আল-মাবসুত, বাদায়েউস সানায়ে—সবখানেই সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীদের খাওয়াকে নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয় বলা হয়েছে। অন্যদিকে মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাব দব-কে হালাল মনে করলেও সান্ডা ও গুইসাপের মতো প্রাণীগুলোকে নাজায়েজ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

বাংলাদেশের ইসলামিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানও বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদে সহিহ বুখারির হাদিস উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যেহেতু রাসুল (সা.) দব খেতে নিষেধ করেননি, তাই এটি হারাম নয়। দারুল ইফতা বাংলাদেশের একাধিক ফতোয়ায়ও বলা হয়েছে, হানাফি মতে দব খাওয়া মাকরুহ, হারাম নয়। তবে অন্য মাজহাব অনুসরণকারী মুসলমানদের জন্য এটি হালাল।

সবশেষে বলা যায়, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা এবং খাদ্য গ্রহণেও হালাল-হারাম বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি। একজন মুসলমানের জন্য উচিত, নিজের মাজহাবের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়গুলো জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া। সান্ডা ও গুইসাপের মতো প্রাণী যেহেতু অধিকাংশ মাজহাবে নাজায়েজ বা হারাম হিসেবে বিবেচিত, তাই এসব প্রাণী থেকে বিরত থাকাই উত্তম। আর দব—যেখানে শরিয়াহ মতে ভিন্ন মত রয়েছে—তা খেতে হলে মাজহাব অনুযায়ী সচেতনতা অবলম্বন করা জরুরি।

ইউজিসির ১৫তম চেয়ারম্যান হিসেবে শিক্ষাবিদ ড. মামুন আহমেদের য…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ছয় মাসের সেমিস্টার শেষ চার মাসে, 'ভমিটিং স্টাডির' দিকে ঝুঁক…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
টানা ৫ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টির আভাস
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ক্যাম্পাসের হলে রোজা পালন, মায়ের কাছে ফেরা-ই যেন স্বস্তি
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
যে পাঁচটি জিনিস বলে দেবে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক কোন পথে
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা, ঘটনা নিশ্চিত করেছে জাত…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence