ইবির হলে চুরি

চুরির ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠিত, অথচ নোটিশে চুরির কথা নেই

চুরির ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠিত, অথচ নোটিশে চুরির কথা নেই
  © ফাইল ফটো

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সাদ্দাম হোসেন হলে চুরির ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে হল কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার (৩ মার্চ) হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান ও আবাসিক শিক্ষকদের নিয়ে এক জরুরি সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু তদন্ত কমিটির নোটিশে চুরির বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া তদন্ত কমিটিতে এক সহকারী প্রক্টরকে সদস্য করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে।

সহকারী প্রক্টরকে তদন্ত কমিটিতে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল বডি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দিকগুলো দেখে। তাই প্রক্টরের সাথে কথা বলে তদন্ত স্বার্থে সহকারী প্রক্টরকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গতকাল মঙ্গলবার সাদ্দাম হোসেন হলের ২১৭ নং কক্ষে তালা ভাঙা ও বাথরুমের শাওয়ার ভাঙা পাওয়া যায়।’

সাদ্দাম হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত কমিটিকে চুরির বিষয়েই তদন্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি লেখার সময় একটু ভুল হয়েছিল। আমি সেটা দেখেছি। পরে সংশোধন করে নিতে বলেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষ জানতে চেয়েছিল কোন কোন সহকারী প্রক্টর ক্যাম্পাসে থাকছেন। আমি তাদের নাম বলেছি। অনুমতির বিষয়ে প্রাধ্যক্ষের সাথে কথা হয়নি। তবে সহকারী প্রক্টরকে তদন্ত কমিটিতে রাখা যাবে কিনা এমন কোনো নিয়ম নেই।’

কমিটিতে আল ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমজাদ হোসেনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের লেকচারার এস এম জহুরুল হক ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগর লেকচারার ও সহকারী প্রক্টর হাফিজুর রহমান। আগামী ৭ দিনের মধ্যে কমিটিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সাদ্দাম হোসেন হলের ২১৭ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী নাহিদ নূর কক্ষে প্রবেশ করলে চুরির ঘটনা নজরে আসে। এ সময় তিনি তার কক্ষের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখত পান। কক্ষের আরও তিনজনের বই, জামা-কাপড়, জুতা, আলমারি ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র চুরি হয়েছে। তার পাশের কক্ষের তালা ভাঙারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়াও সাদ্দাম হোসেন হলের উত্তর ব্লকের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলার ওয়াশরুমের শাওয়ারের রডসহ অন্যান্য প্রয়াজনীয় জিনিসপত্রও চুরি হয়েছে। এর আগে বঙ্গবন্ধু হল পকেট গেটের সামনে ছিনতাই, শেখ রাসেল হলের সাবমার্সিবল পাম্প চুরি, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের চার কক্ষের আসবাবপত্র চুরি, রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনে দুই ভ্যান টাইলস ও আট কার্টন ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ