খুবি শিক্ষার্থীর 'গাছের ডাক্টার' © টিডিসি ছবি
ফসলের রোগ শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে বীজ নির্বাচন, সার ও সেচের হিসাব, আবহাওয়ার তথ্য এবং বাজারদর কৃষিকাজের নানা প্রয়োজনে ডিজিটাল সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘গাছের ডাক্তার’। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী মো. আদনান শাহ্ আবিরের তৈরি এই প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ফসলের রোগ শনাক্ত করার পাশাপাশি কৃষিবিদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় রোগ শনাক্তকরণে ৯২ শতাংশ নির্ভুলতা পাওয়া গেছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ সেবা নিয়েছেন বলেও জানা যায়।
কৃষিকাজে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। জমিতে রোগবালাই দেখা দিলে কী কারণে সমস্যা হচ্ছে, কোন ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কী পরিমাণ বালাইনাশক ব্যবহার করা প্রয়োজন এসব বিষয়ে সঠিক পরামর্শ না পেলে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে। আবার অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিকের ব্যবহার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কৃষকের এমন সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তি ও কৃষিবিষয়ক জ্ঞানকে এক জায়গায় আনার চেষ্টা করছেন আদনান শাহ্ আবির। তাঁর তৈরি ‘গাছের ডাক্তার’ শুধু ফসলের রোগ শনাক্ত করার অ্যাপ নয় বরং এতে চাষাবাদের নির্দেশনা, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, কৃষিবিষয়ক তথ্য এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শের মতো সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্যোগ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় বিভিন্ন মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনে গিয়ে কৃষকদের সমস্যাগুলো তাঁর নজরে আসে। একই সঙ্গে শহরের ছাদবাগানিদেরও গাছের রোগবালাই নিয়ে সমস্যায় পড়তে দেখেন তিনি।
আবিরের ভাষ্য, কৃষকেরা ফসল উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। কিন্তু চাষাবাদের শুরু থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত নির্দেশনা এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এক জায়গায় পাওয়ার সুযোগ সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে কৃষকদের বালাইনাশকের দোকান থেকে পরামর্শ নিতে হয়। ভুল পরামর্শ বা অপ্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার কারণে তাঁদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হতে পারে।
এই অভিজ্ঞতা থেকেই কৃষকদের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির চিন্তা করেন তিনি। তাঁর দাবি, একক উদ্যোগে টানা তিন মাসের পরিশ্রম ও কোডিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করেন ‘গাছের ডাক্তার’।
বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটির ওয়েবসাইট ও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকের পাশাপাশি বাড়ির ছাদে বা আঙিনায় গাছ লাগান, এমন মানুষও কৃষিবিষয়ক পরামর্শ নিতে পারেন।
পাতার ছবি থেকেই রোগ শনাক্ত
‘গাছের ডাক্তার’-এর অন্যতম প্রধান সুবিধা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর রোগ শনাক্তকরণ। ব্যবহারকারী আক্রান্ত পাতার একটি স্পষ্ট ছবি তুলে অ্যাপে আপলোড করলে সিস্টেমটি পাতার দাগ, রঙের পরিবর্তন ও গঠন বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য রোগ শনাক্ত করার চেষ্টা করে। এরপর রোগের কারণ ও করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়।
আবির জানান, আধুনিক ডিপ লার্নিংভিত্তিক কম্পিউটার ভিশন এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএমের সমন্বয়ে প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় ফসলের লক্ষণ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বালাই দমন নির্দেশিকা এবং বাংলাদেশের কৃষির বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হয়েছে।
উদ্যোক্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাঠ থেকে সংগ্রহ করা ৬০০টির বেশি নমুনা ও আক্রান্ত পাতার ছবি দিয়ে
প্রাথমিক পর্যায়ে মডেলটি পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে গড়ে ৯২ শতাংশ নির্ভুল ফল পাওয়া গেছে। ধান, গম, পাট, ডাল, তেলবীজ, শাকসবজি ও ফলমূলসহ বিভিন্ন ফসলের কয়েক শ রোগবালাই ও ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত করার সক্ষমতা রয়েছে প্ল্যাটফর্মটির।
তবে সব পরিস্থিতিতে রোগ শনাক্ত করা সমান সহজ নয়। তীব্র রোদ বা ছায়ায় পাতার রঙের পরিবর্তন কিংবা একই সঙ্গে একাধিক রোগ ও পোকার আক্রমণ থাকলে সমস্যা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবির। এ ধরনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে আরও স্পষ্ট ছবি দিতে বলা হয়। লক্ষণ জটিল হলে অতিরিক্ত প্রশ্নের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
কৃষকের জন্য সহজ ভাষায় পরামর্শ
প্রযুক্তির ব্যবহার সহজ করতে প্ল্যাটফর্মটিতে কথ্য বাংলায় প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়ার সুবিধা রাখা হয়েছে। ব্যবহারকারী মাইক্রোফোনের সাহায্যে প্রশ্ন করলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা শোনাতে পারে।
এ সুবিধা বিশেষ করে তাঁদের জন্য সহায়ক হতে পারে, যাঁরা দীর্ঘ লেখা পড়তে বা টাইপ করে প্রশ্ন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।
এ ছাড়া রোগ শনাক্তকরণের পর শুধু ওষুধের নাম দেওয়ার পরিবর্তে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা সহজ ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যবস্থাপত্রে বালাইনাশকের বাণিজ্যিক নামের পাশাপাশি সক্রিয় উপাদানের নাম উল্লেখ করার ব্যবস্থা রয়েছে। জমির আয়তন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রার হিসাব দেওয়ার সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।
অযথা রাসায়নিক প্রয়োগ নিরুৎসাহিত করতে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জৈব প্রতিকারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কৃষকের প্রয়োজন শুধু রোগ শনাক্তকরণে সীমাবদ্ধ নয়। কোন ফসলের জন্য কোন বীজ উপযুক্ত, কখন সার প্রয়োগ করতে হবে, কতটুকু সেচ প্রয়োজন এবং ফসল সংগ্রহের সময় কী করতে হবে এসব তথ্যও চাষাবাদে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ‘গাছের ডাক্তার’-এ ৫৯টি ফসলের চাষাবাদসংক্রান্ত ডিজিটাল তথ্যভান্ডার রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা।
এতে জমি তৈরি থেকে বীজ বপন, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন এবং ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের নির্দেশনা রয়েছে।
স্যাটেলাইট থেকে বাজারদর, এক জায়গায় কৃষিসেবা
প্ল্যাটফর্মটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইটের তথ্য ব্যবহার করে জমির ফসলের সবুজতা, বৃদ্ধি ও পানির চাপসংক্রান্ত সূচক বিশ্লেষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
উদ্যোক্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সুবিধাটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত তথ্য ব্যবহার করে কৃষকদের জন্য এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া জমির আয়তন ও ফসলের পর্যায় অনুযায়ী সার প্রয়োগের হিসাব, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিবিষয়ক তথ্য পাওয়ার সুবিধা রয়েছে প্ল্যাটফর্মটিতে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য এবং কৃষি আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য এক জায়গায় উপস্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
কৃষকের জন্য বাজারদর জানা গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদিত ফসলের দাম সম্পর্কে তথ্য থাকলে বিক্রির সময় সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্ল্যাটফর্মটিতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দৈনিক বাজারদর দেখানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবির।
তবে স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণসহ সব সুবিধা একই পর্যায়ে চালু নয়। কিছু সুবিধা বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য, আবার কিছু পরীক্ষাধীন বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ।
কৃষকের অভিজ্ঞতায় সম্ভাবনার গল্প
উদ্যোক্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ১০টির বেশি ফসলের জমিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
একটি ঘটনায় মরিচের পাতা কুঁকড়ে যাওয়ার সমস্যায় এক কৃষক ছত্রাকনাশক ব্যবহার করেও ফল পাচ্ছিলেন না। পরে অ্যাপের মাধ্যমে সমস্যাটি মাকড়ের আক্রমণ হিসেবে শনাক্ত হয় বলে জানান আবির। তাঁর দাবি, পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে গাছে নতুন সতেজ পাতা গজায়।
অন্য একটি ঘটনায় ধানের জমিতে রোগের লক্ষণ দেখে কৃষক বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। উদ্যোক্তার ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাপটি ধানের গোড়ায় বাদামি গাছফড়িংয়ের আক্রমণ শনাক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দেয়। তাঁর দাবি, পরামর্শ অনুসরণের তিন দিনের মধ্যে জমির ধান রক্ষা করা সম্ভব হয়।
এই অভিজ্ঞতাগুলো দেখায়, সঠিক রোগ শনাক্তকরণ ও সময়মতো ব্যবস্থাপনা কৃষকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে এসব অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা ভবিষ্যতে প্ল্যাটফর্মটির উন্নয়নেও কাজে লাগতে পারে।
আবিরের দাবি, ‘গাছের ডাক্তার’ ব্যবহারের ফলে কৃষকের অপ্রয়োজনীয় বালাইনাশক কেনার খরচ গড়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমেছে। তাঁর ভাষ্য, জমির সমস্যার সমাধানে একাধিক ওষুধ কেনার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সক্রিয় উপাদান ও মাত্রার পরামর্শ কৃষকের ব্যয় কমাতে সহায়তা করছে।
কৃষকের এই আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি ফসলের ক্ষতি কমানো এবং উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখাও উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য।
প্রযুক্তির পাশাপাশি বিশেষজ্ঞের সংযোগ
কৃষির সব সমস্যার সমাধান কেবল স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভব নয়। রোগের লক্ষণ জটিল হলে বা একাধিক সমস্যা একসঙ্গে দেখা দিলে অভিজ্ঞ কৃষিবিদের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে। এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ‘গাছের ডাক্তার’-এ সরাসরি কৃষিবিদের পরামর্শ নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
উদ্যোক্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা গাছের ছবি ও সমস্যার বিবরণ দিয়ে ডিজিটাল টোকেন জমা দিতে পারেন। অনুমোদিত কৃষিবিদেরা সেই তথ্য পর্যালোচনা করে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি কৃষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য একটি ফোরামও রয়েছে।
এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তির দ্রুত বিশ্লেষণের সঙ্গে মানুষের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত জ্ঞানকে যুক্ত করা। কারণ, কোন প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও বিশেষজ্ঞের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সামনে আরও বড় পরিকল্পনা
আবিরের লক্ষ্য, আগামী দুই বছরে দেশের গ্রামাঞ্চলের কৃষক থেকে শুরু করে শহরের ছাদবাগানিদের মধ্যে অন্তত ১০ লাখ মানুষের কাছে ‘গাছের ডাক্তার’-এর সেবা পৌঁছে দেওয়া।
এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইন্টারনেট ছাড়াই প্রাথমিক রোগ শনাক্তকরণ, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের আগাম সতর্কবার্তা এবং কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিজ্ঞানীদের সঙ্গে সরাসরি অডিও-ভিডিও পরামর্শের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
উদ্যোক্তার দাবি, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ইতিমধ্যে সেবা নিয়েছেন। এ ছাড়া কোন অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপন না দিয়েই অল্প সময়ে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটির পাঁচ শতাধিক ডাউনলোড হয়েছে।
বর্তমানে ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালিত এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কৃষিবিষয়ক সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন আবির। তাঁর প্রত্যাশা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা পেলে প্রযুক্তিটির পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি কৃষকের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
কৃষির প্রতিটি পর্যায়ে সঠিক তথ্য পাওয়া কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ‘গাছের ডাক্তার’-এর মতো উদ্যোগ সেই তথ্যকে সহজলভ্য করার একটি সম্ভাবনাময় প্রচেষ্টা। এর পরিসর যত বাড়বে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে পরামর্শের নির্ভরযোগ্যতা, কৃষকের ব্যবহার-অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তির বাস্তব উপযোগিতা নিশ্চিত করা। শেষ পর্যন্ত উদ্যোগটির সাফল্য নির্ধারিত হবে কৃষকের সমস্যার সমাধানে এটি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে, তার ওপর।