জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নিখোঁজ ছাত্রী তিথি সরকার সিআইডির ছাদে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার— ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস দেওয়ায় নিরঞ্জন বড়াল (৫০) নামে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী, ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে বিভিন্ন তথ্য ও সংবাদ পোস্ট ও শেয়ার করে আসছে।
নিরঞ্জন বড়ালের বিরুদ্ধ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি আরও জানায়, নিখোঁজ ওই ছাত্রী তাঁর ফেসবুক বন্ধু। নিখোঁজ হওয়ার দুই সপ্তাহ আগেও নিরঞ্জনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাইবার ক্রাইম সেন্টারের ডিআইজি জামিল আহম্মেদ বলেন, নিরঞ্জন বড়াল তার ফেসবুকে স্ট্যাাটাস দেন ‘মালিবাগ সিআইডির অফিসের চারতলা থেকে জবি ছাত্রী তিথি সরকার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার। আমি হতবাক।’ যা বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেইজ এ দ্রুত শেয়ার ও ভাইরাল করা হয়।
এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর সিআইডি ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে কাজ শুরু করে। ফেসবুক আইডির তথ্য বিশ্লেষণ করে সিআইডির সাইবার টিম জানতে পারে যে, রামপুরার বনশ্রী এলাকা থেকে নিরঞ্জণ বড়াল তার ফেসবুক আইডিটি থেকে এই স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় নিরঞ্জনকে গ্রেফতার করে। তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি। তিনি ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে পল্টন থানায় ২ নভেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সিআইডি একটি মামলা করেছে।
সিআইডি জানায়, অনেক দিন ধরেই নিরঞ্জন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়ে আসছিলেন। মূলত ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত বা উসকানি দেওয়ার মতো কাজ করে আসছিলেন তিনি। ফেসবুকে তাঁর বন্ধুসংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। নিখোঁজ ওই ছাত্রী তাঁর বন্ধু। নিখোঁজ হওয়ার দুই সপ্তাহ আগেও নিরঞ্জনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়।
ফেসবুকে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে তিথিকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ তিনি। এই ঘটনায় তার বড় বোন স্মৃতি সরকার পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।