আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ১৫তম বছর পেরিয়ে ১৬তম বছরে পা রাখলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৬২ বছরে পদার্পণ করলো জগন্নাথ। করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে বিশ্ববিদ্যায় দিবস পালনের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ মঙ্গলবার সকাল ৯.১০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা করা হবে করা হবে। পরে সকাল ৯:১৫ মিনিটে বেলুন উড়িয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্ধোধন করা হবে।
জগন্নাথ কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। অধ্যাপক ড: এ. কে. এম. সিরাজুল ইসলাম খান এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্ম স্কুলের নাম বদল করে বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল চৌধুরী তাঁর বাবার নামে ১৮৭২ সালে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন।
১৮৮৪ ও ১৯০৮ সালে এটি যথাক্রমে দ্বিতীয় ও প্রথম শ্রেণির কলেজে উন্নীত হয়। এটি সে সময় ছিল দেশের উচ্চশিক্ষা বিস্তারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন- ২০০৫’ পাশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। এরপরে আওয়ামীলীগ শাসনামলে ২৭/৪ ধারা বাতিলের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গতা আসে।
বর্তমানে ছয়টি অনুষদের অধীনে ৩৬টি বিভাগ এবং ২টি ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে ২২,০০০ শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূল অ্যাকাডেমিক পরিবেশ (শ্রেণীকক্ষের সংকট, শিক্ষকদের বসার স্থানাভাব) না থাকা স্বত্বেও শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং দায়িত্বশীলতার কারণে বিজ্ঞান অনুষদের হাতেগোনা কয়েকটা বিভাগ ছাড়া বাণিজ্য, কলা ও মানবিক অনুষদের অধিকাংশ বিভাগগুলো সেশনজট মুক্ত রয়েছে।
শিক্ষা প্রসারের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংগ্রামমুখর ইতিহাসের সাথে জগন্নাথের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান । ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬২’র সামরিক সরকারের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ , ৬৬’র ছয়দফা দাবি, ৬৮’র এগারো দফা , ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধসহ তৎপরবর্তীকালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান রয়েছে।