আইটি জটিলতায় ফি জমা দেয়া নিয়ে ভোগান্তি, গুনতে হচ্ছে জরিমানা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ফটো

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের নতুন সেমিস্টারে ভর্তি ও আনুষঙ্গিক ফি জমা দেয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফি জমা দেয়ার সময় আইটি অফিস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নানা জটিলতার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা দিতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। ফলে তাদের জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি দপ্তরের পরিচালক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য। তিনি বলেছেন, হোস্টিং সমস্যার কারণে ও মাঝেমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তবে এ সমস্যা সাময়িক সময়ের জন্য হয়ে থাকে এবং কর্তৃপক্ষ তা কাটিয়ে উঠতে পারছে বলে জানান তিনি।

ফি জমা দেয়া নিয়ে ভোগান্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নোমান বিল্লাহ বলেন, শিওর ক্যাশে আমাদের পরীক্ষা ও ভর্তি ফি জমা দেয়ার যে নির্দিষ্ট সময় দেয়া হয়, ওই সময়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর অ্যাকটিভ পাওয়া যায় না। যে কারণে ৩-৫ দিন কোন কোন ক্ষেত্রে ৭ দিন পর্যন্ত টাকা জমা দেয়া যায় না।

তিনি বলেন, ওয়েবসাইটে ‘স্টুডেন্ট আইডি’ অ্যাকটিভ পাওয়া গেলেও যাদের স্কলারশিপ আছে তাদের ফি বেতনসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীর মত দেখায়। যে কারণে আমরা অনেকবার অফিসে দৌড়াদৌড়ি ও হয়রানির পর টাকা জমার সুযোগ পাই। আবার কখনো কখনো টাকা জমা দেয়ার সময় শেষ হওয়ার পর তা ঠিক করে। এ সমস্যায় বারবার পড়তে হয়।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি বোর্ড বৃত্তিপ্রাপ্তির বিজ্ঞপ্তি পেলেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইটি দপ্তরে নোটিশ না দেওয়ায় ওয়েবসাইটে ভর্তি ফি বেতনসহ দেখাচ্ছে। এছাড়া গণিত বিভাগে মাস্টার্সের দ্বিতীয় সেমিস্টারে ভর্তি সময় শুরু হলেও এখনো দেওয়া হয়নি মাস্টার্সের স্টুডেন্ট আইডি কার্ড। যার কারণে ভর্তি হতে পারছেন না তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্কিং এন্ড আইটি দপ্তরের কম্পিউটার প্রোগ্রামার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, মাস্টার্সের আইডি কার্ড যারা পায়নি তারা মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারে ভর্তির জন্য অনার্সের আইডি নম্বর দিয়ে ভর্তি হবে কিনা তা এখনো ঠিক হয়নি। আমরা একাডেমিক সেশনের সাথে কথা বলে সমাধান করে দিব।

সামগ্রিক বিষয়ে আইটি দপ্তরের পরিচালক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য বলেন, মাঝে মাঝে আমাদের ওয়েবসাইট হোস্টিংয়ের সমস্যা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা ফি জমা দিতে বিড়ম্বনায় পড়ে।

বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের জটিলতা নিয়ে তিনি বলেন, বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়টা আমাদের দোষ না। বৃত্তির রিপোর্ট আমাদের কাছে আসলে আমরা শিক্ষার্থীদের আইডিতে গিয়ে সেমিস্টার ফি কমিয়ে দেই। মাঝে মাঝে বৃত্তির রিপোর্ট দেরিতে আসায় আমরা টাকার পরিমাণ কমাতে পারি না।

তিনি বলেন, এ কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার ফি জমা দিতে না পারায় জরিমানা গুনতে হয়। তবে কোনো শিক্ষার্থী সেমিস্টার ফি জমা দিতে বেশি সমস্যায় পড়লে তার একাডেমিক আইডি দিলে সাহায্য করবেন বলে তিনি এসময় জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রথম বর্ষের বৃত্তিপ্রাপ্তদের জন্য নোটিশ আইটি দপ্তরে পাঠিয়ে দিচ্ছি।


মন্তব্য