খুবির খান জাহান আলী হল
১৫ টাকায় ভাত, ভর্তা , ডাল, ডিম © টিডিসি ছবি
সকালের খাবারে ১৫ টাকা খরচ করলেই মিলছে ভাত, ডাল, ভর্তা ও একটি ডিম। এর সঙ্গে ভাত ও ডাল রাখা হয়েছে আনলিমিটেড। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) খান জাহান আলী হলের ডাইনিংয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু রয়েছে এ খাবারের ব্যবস্থা। তবে প্রতিদিন ডিম থাকে না। একদিন পর পর ডিম দেওয়া হয়। ডিম না থাকার দিন ভাত, ডাল ও ভর্তা দেওয়া হয় একই মূল্যে।
শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যে সকালের খাবার দেওয়ার লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। খাবারের মূল্য ১৫ টাকা হলেও খাবারের মান ও মূল্য সমন্বয়ের জন্য হল প্রশাসন থেকে ডাইনিংয়ে নিয়মিত ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য কম দামের এ খাবারের ব্যবস্থা সচল রাখার চেষ্টা করছে হল প্রশাসন।
খান জাহান আলী হলের সাবেক প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলমের সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫ টাকার সকালের খাবারের উদ্যোগটি চালু হয়। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম বলেন, ‘এটি ছিল মূলত শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নেওয়া একটি ছাত্রবান্ধব উদ্যোগ।আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, চড়া বাজারদরের মধ্যেও যেন কোনো শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে সকালের খাবার থেকে বঞ্চিত না হয় এবং স্বস্তিতে একটি পুষ্টিকর খাবার খেতে পারে। এক্ষেত্রে খাবারের দাম কম রাখার পাশাপাশি এর পুষ্টিগুণ ও মান যেন যথাসম্ভব অক্ষুণ্ণ থাকে, সে বিষয়েও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।’
সাবেক প্রাধ্যক্ষের চালু করা এ ব্যবস্থা বর্তমানে অব্যাহত রেখেছে হল প্রশাসন। খান জাহান আলী হলের বর্তমান প্রাধ্যক্ষ ড. শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে হলে যে উন্নয়নমূলক কাজগুলো দৃশ্যমান, তার মূল ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন সাবেক প্রাধ্যক্ষ ও বর্তমানে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম স্যার। আমি মূলত তাঁরই রেখে যাওয়া ইতিবাচক ও ছাত্রবান্ধব কাজগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’
ডাইনিংয়ের খাবারের মূল্য ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হল প্রশাসনের সহায়তায় এবং ডাইনিং ম্যানেজারদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ডাইনিংয়ে খাবারের মান মূল্য ইত্যাদি ঠিক রাখার পাশাপাশি আগামীতে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের সুযোগ-সুবিধা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে।’
বর্তমানে খান জাহান আলী হলের ডাইনিং এ তিন বেলা খাবার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সকালসহ যার মূল্য দাঁড়ায় ৮৫ টাকা।
হলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সরদার লালটু মিয়াও বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যাতে কম খরচে ও সহজলভ্যে খাবার খেতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রভোস্ট মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী হল ডাইনিংয়ে ভর্তুকি দেওয়া হয়। মূলত খাবারের মূল্য শিক্ষার্থীদের নাগালের মধ্যে রাখতেই এই ব্যবস্থা।’
ডাইনিংয়ে প্রতিদিনের খাবারের ম্যেনু, খাবারের মান, বাজার ব্যবস্থাপনা তথা আনুষাঙ্গিক সকল কিছুর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করছেন ডাইনিং ম্যানেজাররা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খাবার গ্রহণের অভিজ্ঞতাতেও এ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি উঠে আসে।
অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদি বলেন, ‘এখন বাইরে সাধারণ একটা ডিম কিনতেই ১২ টাকা লেগে যায়। সেখানে আমাদের হলের ডাইনিংয়ে ১৫ টাকায় ভাত, ডাল, ভর্তার সঙ্গে ডিমও পাওয়া যাচ্ছে-এটা বিশাল এক সাপোর্ট। আর ডাল-ভাত তো আনলিমিটেড, পেট ভরে খাওয়া যায়।’
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানভির বলেন, “সবকিছুর দাম যেভাবে বাড়ছে, সেখানে হলরোডের হোটেল বা ক্যান্টিনে সকালে খাওয়াটা বেশ খরচের ব্যাপার। সেই জায়গায় আমাদের হলের ডাইনিংয়ে ১৫ টাকায় সকালের এই খাবারের ব্যবস্থা সত্যি খুব উপকারে আসছে।
শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যে খাবারের সুযোগ ধরে রাখতে হল প্রশাসনের ভর্তুকি এবং ডাইনিং ম্যানেজারদের ব্যবস্থাপনা-দুইয়ের সমন্বয়েই চলছে ১৫ টাকার এ সকালের খাবারের ব্যবস্থা।