নিহত অপ্রতিম © ফাইল ছবি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নিহত অপ্রতিমের প্রথম জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল ১১টায় কুমিল্লার গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
এর আগে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ বাসায় নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সে। সন্ধ্যার পরও বাসায় না ফেরায় তার মা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের একটি টিলায় অপ্রতিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের জিলানী। তিনি সেখানে বাঁশ কাটতে গিয়েছিলেন।
আব্দুল কাদের জিলানীর ভাষ্য, বেলা ১২টার দিকে তারা ওই এলাকায় বাঁশ কাটতে যান। সেখানে একটি শিশুকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন, যার শরীরে রক্তের দাগ ছিল। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বিষয়টি জানান। মামুনসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এবং দক্ষিণ মোড়ের একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে। ফুটেজে অপ্রতীমকে তুহিন নামের এক কিশোরের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের দিকে যেতে দেখা যায় বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়।
এদিকে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহিম ও আনাস নামে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস।