© টিডিসি ফটো
সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের বিবাদমান দুই গ্রুপের অস্ত্র নিয়ে মহড়ার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য এমসি কলেজ ছাত্রাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কলেজ প্রশাসন। এর আগে ছাত্রাবাসে অবস্থান করা ও অবৈধদের দখলমুক্ত করা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে বিচ্ছিন্নভাবে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সকালে ছাত্রাবাসে থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অধ্যক্ষ প্রফেসর নিতাই চন্দ্র সাক্ষরিত এক নোটিশে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ছাত্রাবাসটি বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। নোটিশে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ছাত্রাবাসে থাকা সকল শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ত্যাগ করার বিষয়ে বলা হয় এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছাত্রাবাস বন্ধ থাকবে বলেও জানানো হয়।
এ ব্যপারে কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর নিতাই চন্দ্র চন্দ বলেন, ছাত্রাবাস বন্ধ ও পুলিশ পাহারায় আবাসিক ছাত্রদের নিরাপদে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাতে কয়েকটি কক্ষে বহিরাগতদের অবস্থান নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে উত্তেজনা ছিল। এ পরিস্থিতি কাটাতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঈদের ছুটির পর কলেজ খুললে ছাত্রাবাসে থাকার বৈধতার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আবাসিক ছাত্রদের ছাত্রাবাসে তোলা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ছাত্রাবাসে বৈধ-অবৈধ বিষয়ে এমসি কলেজ ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এমসি কলেজের বিষয়ে সরকারি কলেজের ছাত্রনেতাদের হস্তক্ষেপ কেন? মুলত এসব প্রশ্নের জেরে বহুদিন থেকেই দুটি পক্ষের মধ্যে একটা অস্থিরতা বিরাজ করছিল। যার ফলস্বরূপ গত রাতে কলেজ ছাত্রাবাস ও বাইরে থাকা ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র সহকারে মহড়া দেয়। ঘটে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও।
বৈধ-অবৈধ, বহিরাগতদের হস্তক্ষেপসহ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের এই অস্ত্রের মহড়ার ফলে কলেজ ছাত্রাবাসে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর নিতাই চন্দ্র চন্দ, র্যাব-৯, শাহপরান থানা পুলিশসহ কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে ছাত্রাবাসে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
পরে রাত ২টা পর্যন্ত বিবাদমান উভয়পক্ষের নেতকর্মীদের সাথে কথা বলেও বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করলেও তা হয়নি। বর্তমানে ছাত্রাবাসটি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে।