ইবির পরিত্যক্ত ভবনগুলো ছাত্রী হলে রূপান্তরের চিন্তাভাবনা প্রশাসনের 

২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৬ AM , আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৬ AM
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত আবাসিক ভবন ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত আবাসিক ভবন ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান © টিডিসি ফটো

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনগুলোতে অবস্থানে ব্যাপারে অনীহার কারণে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ক্যাম্পাসের শত কোটি টাকার আবাসিক ভবনগুলো ছাত্রী হলে রূপান্তরের চিন্তাভাবনা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এবং নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে এসব খালি ভবনকে সাময়িকভাবে ছাত্রী হল হিসেবে ব্যবহারের জন্য ইউজিসির কাছে প্রস্তাবনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা না থাকায় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন থেকে পূর্ণ বাড়ি ভাড়া কর্তনের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে সুস্পষ্ট গাইডলাইন চেয়েছে প্রশাসন। 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ইউজিসি আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের দুদিনব্যাপী নীতিনির্ধারণী সংলাপের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলাপকালে এসব কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন।  

ইবি উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তেমন না থাকায় আমরা কোন শিক্ষককে আইনগত বাধ্য করতে পারি না। ফলে তাদের জন্য নির্মিত ভবনগুলো অলস পড়ে থাকে। দিনের পর দিন এভাবে পড়ে থাকায় একটা পরিত্যক্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে একদিকে অনেক টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব ভবনগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং দ্বিতীয়ত ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ইস্যু তৈরি হচ্ছে। এজন্য আমি মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সামনে বলেছি যে, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন থেকে ফুল হাউজ রেন্ট কাটা হয়, তখন এর অর্ধেক টাকা দিয়ে কুষ্টিয়া বা ঝিনাইদহে আমরা একটা ভালো বাসায় থাকতে পারি। 

আরও পড়ুন: ২০ লাখ টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বানাতে চাওয়া সেই অধ্যাপককে এবার ভিসি নিয়োগ দেওয়া হলো

উপাচার্য বলেন, এই ব্যাপারে সরকারের কাছে এবং মন্ত্রণালয়ের কাছে সুস্পষ্ট গাইডলাইন চেয়েছি। ইমেডিয়েটলি এটার একটা সুযোগ থাকা দরকার। তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আপাতত একটা সমাধান হিসেবে ভবনগুলোর সুরক্ষা ও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এই ভবনগুলোকে আমরা তাদের আবাসন হিসেবে ব্যবহার করতে পারি কি না, সে বিষয়ে ইউজিসির কাছ প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এটি গৃহীত হলে আশা করি অনেক নারী শিক্ষার্থীকে আমরা অন্ততপক্ষে আবাসন সুবিধা দিতে পারবো। পাশাপাশি আমাদের ভবনগুলোও সুরক্ষিত থাকবে। 

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাতটি ভবনে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য মোট ৬৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০টিই খালি। নব্বইয়ের দশকে নির্মিত পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা ভবনে ২৪টি ফ্ল্যাট থাকলেও অর্ধেক সংখ্যম ফ্ল্যাটে কেউ থাকেন না। কর্ণফুলী ও কপোতাক্ষ ভবন দুটিকে কার্যত পরিত্যক্ত বলা চলে। চারতলা এসব ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তন্মধ্যে কপোতক্ষ ভবনে সম্প্রতি আনসার সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা করা হলেও কর্ণফুলী ভবন এখনো পরিত্যক্ত। 

শুধু পুরোনো ভবনই নয়, কয়েক বছর আগে নির্মিত একটি আধুনিক দশতলা ভবনে ১৯টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১০টি ফাঁকা। একইভাবে প্রভোস্টদের জন্য তৈরি কোয়ার্টারেও ১০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে অধিকাংশ ই খালি পড়ে আছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত কোয়েল ভবনের ১০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ৮টি, ময়না ভবনের ৯টি ফ্ল্যাট ফাঁকা থাকলেও দোয়েল ভবনটি পূর্ণ বাসিন্দায় পরিপূর্ণ। তবে ব্যবহার না হওয়ায় অন্যান্য ভবনগুলোতে জঙ্গল গজিয়ে উঠেছে, দেয়ালজুড়ে জমেছে শ্যাওলা পুরোপুরি ভুতুড়ে পরিবেশ। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনগুলো ক্রমেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। 

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আর পাঠানো লাগবে না স্ক্রিনশট, যুক্ত হচ্…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
আজ বৃষ্টি নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
ইয়াবাসহ দুই নারী ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
ইবির পরিত্যক্ত ভবনগুলো ছাত্রী হলে রূপান্তরের চিন্তাভাবনা প্…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
ডিএমপির ২ উপকমিশনারসহ ৯ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬