জাবিতে কান ফাটানো র‍্যাগিং!

২৪ জুলাই ২০১৯, ০৬:১০ PM
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শাকিল ও নীরব

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শাকিল ও নীরব © টিডিসি ফটো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে আবারো র‌্যাগিং দিয়ে জুনিয়র শিক্ষার্থীর কান ফাটানোর ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. ফয়সাল আলম। ফয়সাল জাবির গনিত বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ফয়সালের কান থেকে দু’দফায় রক্ত ঝড়েছে। 

র‌্যাগ দেয়া অভিযুক্ত শিক্ষার্থী একই হলের মার্কেটিং বিভাগের ৪৭ ব্যাচের ছাত্র শিহাব। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) রাত ১টার দিকে র‌্যাগিংয়ের ঘটনাটি ঘটে। আজ বুধবার সন্ধ্যায় র‌্যাগিংয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

মো. ফয়সাল আলমসহ হলের অন্যান্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হলের গনরুমে রাত ১টার দিকে দ্বিতীয় বর্ষের শিহাব (মাকের্টিং-৪৭), শাকিল (ইতিহাস-৪৭) এবং নীরবসহ (ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং-৪৭) আরও ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী গণরুমে এসে কয়েকজনের পরিচয় জিজ্ঞেস করেন। এসময় ফয়সাল শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় পরিচয় দেওয়ার সময় হলের নাম জোরে বলতে পারেনি ।

এজন্য ফয়সালকে মুরগি হতে বলে সিনিয়িররা। ফয়সাল চার-পাঁচ বার মুরগি হলে তাকে গণরুমের জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলে থাকতে বলা হয়। এক হাতের তালু সামান্য কাটা থাকায় ঝুলতে অস্বীকৃতি জানালে শিহাব এসে ফয়সালের কানের ওপর সজোরে থাপ্পড় দেয়। এতে তার কানে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয় এবং একপর্যায়ে কান থেকে রক্ত বের হতে থাকে।

অবস্থা বেগতিক দেখে গণরুমের বন্ধুরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। এপর্যায়ে এসেও অভিযুক্ত শিহাব, শাকিল, নীরব মেডিকেলে এসে তাদের হুমকি দিয়ে যায় যেন র‌্যাগের ঘটনা আর কাওকে না বলে। এরপরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফয়সাল হলে ফিরে আসে। এবং সকালে ক্লাসে যায়। কিন্তু ক্লাসে আহত কানে আবারো রক্ত ক্ষরন শুরু হলে বন্ধুরা তাকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে না এসে ঢাকায় তার ভাইয়ের বাসায় চলে যায়।

ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ফয়সাল বলেন, এ ঘটনার পর থেকে নীরবসহ বেশ কয়েকজন ফোনে আমাকে হুমকি দেয় যাতে আমি কারো সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো কিছু না জানাই। তারা আমাকে হলে থাকতে বারণ করে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার চাই যাতে পরবর্তীতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার কোনো শিক্ষার্থীকে আর না হতে হয়। আমি আগামীকাল ক্যাম্পাসে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাব।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাই মেহেদী হাসান বলেন, ‘ডাক্তার এক সপ্তাহ পর কান থেকে রক্ত বের করার পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা এ ঘটনার বিচার চেয়ে প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দিবো।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিহাবকে মুঠোফোনে একাধিবার কল দেওয়া হলেও তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে আরেকজন অভিযুক্ত নীরব ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটনাটি ঘটে গেছে। কথা না শুনায় আমাদের এক সহপাঠী তার (ফয়সাল) গায়ে হাত তুলে। তবে বিষয়টি এত মারাত্মক হবে তা আমরা বুঝতে পারিনি।’

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমেদ জানান, ‘আমি বিষয়টি জেনেছি। আজ রাত সাড়ে ৭টায় জরুরি মিটিং ডাকা হয়েছে। আবাসিক শিক্ষক, ওয়ার্ডেনসহ সবাইকে নিয়ে বসব। সবার সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে সঠিক বিচার নিশ্চিত করব যাতে কেউ ভবিষ্যতে এরকম কাজ করতে সাহস না পায়।’

প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন ‘এ ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ায় প্রক্টরিয়াল বডি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে’

উল্লেখ্য, এর আগে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের থাপ্পড়ে কান ফাঁটার অভিযোগ করেন মীর মশাররফ হোসেন ও মওলানা ভাসানী হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

 

মহাকাশযাত্রায় প্রথমবারের মতো স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতি ন…
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
সমালোচকরাও বুঝতে পারছেন, আমাদের প্রণীত আইনগুলো ভালো ছিল: আস…
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
রাজবাড়ীতে রিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
সরকারের প্রথম একনেক সভা শুরু, অনুমোদনের অপেক্ষায় ১৭ প্রকল্প 
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
পে স্কেল চেয়ে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীরা, প…
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁয় চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে পুলিশ সদস্যের ২ পা বিচ্ছ…
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬