জকসুর লোগো © সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) টিএসসি সংস্কারকাজের দীর্ঘসূত্রিতা, দোকান বরাদ্দে সম্ভাব্য অনিয়ম এবং চাঁদাবাজির আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে চারটি প্রস্তাব জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। শনিবার (১১ জুলাই) জকসুর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে আগামী রোববার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়গুলো উত্থাপন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
জকসুর চার প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে— উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে সবার উপস্থিতিতে দোকান বরাদ্দ, দোকান বরাদ্দের আগেই পণ্যের মূল্য লিখিতভাবে নির্ধারণ, চলতি মাসের মধ্যেই টিএসসির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা এবং টিএসসির জমি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে অধিগ্রহণ করা।
সংগঠনটির দাবি, টিএসসির দোকান বরাদ্দকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন রয়েছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এসব আশঙ্কার প্রেক্ষিতে সম্ভাব্য অনিয়ম ও চাঁদাবাজি রোধে দোকান বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ বিষয়ে জকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য টিএসসি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ চলায় শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রশাসন সংস্কারের দায়িত্ব নিলেও কাজের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা এখনো স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি দোকান বরাদ্দ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও গুঞ্জন আমাদের কাছে এসেছে। তাই আমরা চাই পুরো প্রক্রিয়াটি শতভাগ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হোক। উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে দোকান বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে এবং বরাদ্দের আগেই লিখিতভাবে পণ্যের মূল্য, সেবার মান ও পরিচালনার শর্ত নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে চলতি মাসের মধ্যেই সংস্কারকাজ শেষ এবং টিএসসির জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে অধিগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম আরিফ বলেন, টিএসসির সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরে চললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ প্রক্রিয়ায় জকসুকে সম্পৃক্ত করেনি। এতে কাজের দীর্ঘসূত্রিতা বেড়েছে এবং এর ভুক্তভোগী হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তাই আমরা চার দফা দাবি দিয়েছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে প্রয়োজনে আন্দোলনের কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।
জকসুর সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, টিএসসির কাজ অনেক আগেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘসূত্রিতার কারণে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমরা আশা করি প্রশাসন দ্রুত চার দফা দাবি বাস্তবায়ন করবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য জাহিদ হাসান বলেন, টিএসসি সংস্কার শুরুর আগে দোকানদারদের অনুরোধ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও পরবর্তীতে গঠিত সংস্কার কমিটিতে জকসুর কোনো প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি। এতে সংস্কারকাজের পরিকল্পনা, নকশা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষিত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়ছেন। জুলাই মাসের মধ্যে জকসুর চার দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।